• শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৭

জাতীয়

জেএসসি-জেডিসিতে আবারো অটোপাসের ভাবনা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

করোনার কারণে প্রায় দেড় বছরের মাথায় খুলেছে স্কুল-কলেজ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় চলতি বছরের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে গ্রহণের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আগামী নভেম্বরের শুরুতে এসএসসি সমমান ও ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এইচএসসি সমমান পরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী শিক্ষা বোর্ডগুলোতে প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু বোর্ডগুলো বিপাকে পড়েছে জেএসসি এবং জেডিসি পরীক্ষা নিয়ে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা পরপর অনুষ্ঠিত হওয়ায় এরই মধ্যে আবার নভেম্বরে অষ্টম শ্রেণির জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা আয়োজন করা প্রায় অসম্ভব। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম আমিরুল ইসলাম বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। প্রশ্নপত্র ট্রেজারিতে পাঠানো হয়েছে। এখন শুরু করার অপেক্ষায়। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করা হবে। এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানোর কাজ চলছে। বর্ধিত সময় অনুযায়ী আগামী ২২ সেপ্টেম্বর এ পরীক্ষার ফরম পূরণ শেষ হবে। এরপর প্রবেশপত্র তৈরির কাজ শুরু করা হবে।

চলতি বছর জেএসসি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বছরের আর মাত্র সাড়ে তিন মাস বাকি। এর মধ্যে জেএসসি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে না। আগামী মাসের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী এ পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ের ওপর আয়োজন করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সময় ও নম্বর কমিয়ে নেওয়া হবে এসব পরীক্ষা। আবশ্যিক কিংবা চতুর্থ বিষয়ের কোনো পরীক্ষা এবার হচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে ‘বিষয় ম্যাপিং’ করে দেওয়া হবে আবশ্যিক ও চতুর্থ বিষয়ের নম্বর। উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতে যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

এরই মধ্যে আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বর এসএসসি সমমান পরীক্ষা শুরু করতে একটি খসড়া রুটিন তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদন দিলে পরীক্ষা শুরুর ১৫ দিন আগে সে রুটিন প্রকাশ করা হবে। একই সাথে, আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করতেও খসড়া রুটিন তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর জেএসসি পরীক্ষার বিষয়ে ঢাকা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, এখন মাত্র সাড়ে তিন মাস বাকি। এর মধ্যে জেএসসি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে না। তাদের মতে, এ বছরের যে কয়দিন সময় রয়েছে সে সময়ের মধ্যে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন করতে পার হয়ে যাবে। এরপর পরীক্ষা শেষ হওয়ার দেড়-দুই মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই জেএসসি জেডিসি পরীক্ষা নেওয়া কোনভাবেই সম্ভবপর হবে না। 

বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, অটোপাস দেওয়া হলে সেক্ষেত্রে তাদের অ্যাসাইনমেন্ট ও পঞ্চম শ্রেণির পিইসি পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে ‘বিষয় ম্যাপিং’ করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে বোর্ডগুলোয়। পরীক্ষার রুটিন তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানোর কাজও শেষ। সেগুলো ট্রেজারিতে চলে গেছে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানোরও বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করতে বেশি সময় লাগবে না।

জেএসসি পরীক্ষার বিষয়ে নেহাল আহমেদ বলেন, এটি পাবলিক পরীক্ষা নয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির আদেশে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। আমরা এখনো এ পরীক্ষার কিছুই জানি না। জেএসসির প্রস্তুতি বোর্ড নিজ থেকে নিতে পারে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে সেটি তারা বাস্তবায়ন করবেন। এ বিষয়ে অক্টোবরের মধ্যে ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads