• মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

জাতীয়

নিরাপত্তায় বাড়ছে পুলিশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৬ অক্টোবর ২০২১

রেল পুলিশে নতুন করে যুক্ত ৫০০ পুলিশ সদস্য। বর্তমানে ট্রেনে নিরাপত্তার জন্য যে সংখ্যক পুলিশ সদস্য প্রয়োজন, তা রেল পুলিশে নেই। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির ঘটনার পর পুলিশের অন্য ইউনিট থেকে নতুন করে ৫০০ সদস্য যুক্ত করা হচ্ছে রেল পুলিশে। এটি হলে রেল পুলিশে লোকবল সংকট কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী একটি কমিউটার ট্রেনে ডাকাতির ঘটনায় দুজন নিহত ও একজন আহত হন। এ ঘটনা হয়েছিল ট্রেনের ছাদে। এরই মধ্যে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলারক্ষা বাহিনী। রেল পুলিশের স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘জিআরপি পুলিশের স্বল্পতা রয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনে আগে একজন অফিসারের নেতৃত্বে তিনজন কনস্টেবল থাকত। এখন মনে হয় ওনাদের লোক স্বল্পতার কারণে পুলিশের সংখ্যা একটু কমেছে। শুধু যাত্রী নয়, আমাদের রেলের কর্তৃপক্ষের সেফটি নিয়েও আমরা সন্তুষ্ট নই। আমাদের সদস্য গত এক বছরে আট থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।’

বর্তমান রেল পুলিশের সংখ্যা যথেষ্ট নয়। জিআরপি লোকবল ২ হাজার ৩০০ জন। এর মধ্যে নারী পুলিশ ২০০ এর মতো। রেল পুলিশ সারা দেশে ৬ জেলায় ২৪টি থানায় বিভক্ত। জানা গেছে, সারা দেশে প্রতিদিন ৩৬২টি ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে ১০২টি আন্তঃনগর। বাকি ২৬০টি লোকাল, কমিউটার ও পণ্যবাহী ট্রেন। এ ছাড়া ট্রেনের নিরাপত্তার পাশাপাশি স্টেশনের নিরাপত্তাও পুলিশকে দিতে হয়। ৩৬২টি ট্রেনের জন্য ২ হাজার ৩০০ পুলিশ যথেষ্ট কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে রেল পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক দিদার আহমেদ বলেন, ‘না যথেষ্ট নয়। এক-একটি ট্রেনে একজন অফিসারের সঙ্গে চারজন কনস্টেবল প্রয়োজন। তবে জনবল স্বল্পতার কারণে প্রত্যেক ট্রেনে পুলিশ দেওয়া সম্ভব হয় না।’

কমলাপুর থানায় ওসিসহ ৬২ জন পুলিশ সদস্য আছেন। এই সংখ্যক সদস্য দিয়ে কি কমলাপুরের মতো থানা চালানো সম্ভব? উত্তরে রেল পুলিশের প্রধান বলেন, ‘না সম্ভব না। এই থানার আওতায় বিমানবন্দর, ক্যান্টনমেন্ট, টঙ্গীসহ কয়েকটি স্টেশন রয়েছে, যা এই জনবল দিয়ে ম্যানেজ করা কষ্ট হয়ে যায়। আগে জনবল ১ হাজারের মতো ছিল, যখন ট্রেনের অঞ্চল দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। বর্তমান আইজিপি এসে এই সংখ্যা অনেক বাড়িয়েছেন। এখন আরো বাড়ানো হচ্ছে। জেলা পুলিশের মতো করে রেলেও জনবল বাড়ানো হচ্ছে।’

রেলের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গত তিন বছরে ট্রেনে কোনো ডাকাতি হয়নি। ছোটোখাটো ছিনতাই বলতে ব্যাগ টানাটুনি হয়েছে। আমরা ছাদে উঠার জন্য সবাইকে নিরুৎসাহিত করি। ট্রেন আউটারে গেলে কিছু লোক জানালা দিয়ে ওপরে উঠে যায়। ‘যে ট্রেনে ডাকাতির ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন, সেটি একটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ট্রেন। বেসরকারি ট্রেনে তো আমরা গার্ড দিই না। এ কারণে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ট্রেনে একটু অনিরাপত্তার বিষয় থেকেই যায়। এই সুযোগটাই তারা নিয়েছে।’

সমপ্রতি ডাকাতির ঘটনার পর ট্রেনের নিরাপত্তাকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু একটি প্রচলিত পদ্ধতির ভেতরে এসে একটি ব্যত্যয় ঘটেছে, সেহেতু এই ব্যবস্থাকে পুনরায় বিন্যাস করার দরকার আছে। নিরাপত্তাকে নতুনভাবে সাজানো শুরু করেছি। কিছুদিন ধরে ট্রেন বন্ধ ছিল।

এর আগে যাদের আমরা বিভিন্ন সময় আইনের কাছে সোপর্দ করেছি, তারা এখন জামিনে বাইরে আছে। এদের আবার নজরদারিতে আনা হচ্ছে। স্টেশনগুলোতে র্যানডম চেকিং ও অভিযান পরিচালনা করাসহ যাত্রীদের সচেতন করা হচ্ছে। যাত্রীরা কোনো ঝামেলায় পড়লে যাতে ৯৯৯-এ ফোন দেন, সেটা বলা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে রেল পুলিশের প্রধান দিদার আহমেদ বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, স্মার্ট পুলিশিং ব্যবস্থা আসছে রেলে। শিগগিরই আমরা নানা ধরনের প্রযুক্তি আনছি যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সহজ সেবা দিতে। ‘তবে এই প্রযুক্তিগুলো আমরা এখনই জানাতে চাচ্ছি না। সারা দেশে পুলিশের যে মানদণ্ড, সেটি রেল পুলিশে বজায় থাকবে। ছিনতাই-ডাকাতি সবখানেই কমবেশি থাকে। ট্রেনেও কিছু আছে। জনবল ও এই প্রযুক্তি রেল পুলিশে যুক্ত হলে এগুলো একেবারেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’

জনবল সংকট নিয়ে রেল পুলিশের প্রধান দিদার আহমেদ বলেন, ‘এরই মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাদের ৫০০ ফোর্স হলেই চলবে। এই ৫০০ ফোর্স আমরা খুব তাড়াতাড়ি পেয়ে যাব। এই জনবল যুক্ত হলে আশা করছি, নিরাপত্তাজনিত অনেক সমস্যার সমাধান হবে।’

পাথর ছোড়া ও ছিনতাই রোধে বিট পুলিশিং বিষয়ে রেল পুলিশের প্রধান দিদার আহমেদ বলেন, ‘ট্রেনে পাথর ছোড়া ও স্টেশনে ছিনতাই প্রায় বন্ধ হয়েছে। স্টেশন এলাকায় আমরা বিট পুলিশিং ব্যবস্থা করে এটা কমিয়ে এনেছি। আমাদের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সব পুলিশ সদস্য ওই সব এলাকায় গিয়ে কথা বলেছেন; এলাকার লোকদের এ ধরনের কাজ না করার জন্য বোঝানো হচ্ছে।

‘লোকজন হেলাফেলা করে যে পাথর ছোড়ে, এটা থেকে যে মারাত্মক কিছু হতে পারে, এটা বোঝানো হচ্ছে। বেশির ভাগ মানুষ এগুলো বুঝে সরে আসছেন। কিছু দুষ্টু মানুষ তো থাকবেই। তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেই।’

ট্রেনে পুলিশের অস্ত্র বিষয়ে কমলাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল হক বলেন, ‘পুলিশের হাতে অস্ত্র দেওয়ার একটা নিয়ম আছে। এক বা দুজন কনস্টেবলকে অস্ত্র দিতে পারি না। তাহলে অস্ত্রের নিরাপত্তা থাকে না। যখন দলটা শক্তিশালী করা সম্ভব হয়, তখন ইনচার্জকে পিস্তল দিই। কনস্টেবলকে শটগান দেওয়া হয়। যখন এক বা দুজন ফোর্স থাকে, তখন লাঠি দিই।’

দুজন কনস্টেবলের হাতে লাঠি দিয়ে ট্রেনের নিরাপত্তা সম্ভব কিনা এম প্রশ্নের উত্তরে দিদার আহমেদ বলেন, ‘লোক স্বল্পতার কারণেই লাঠি দেওয়া হয়। একজন অস্ত্রধারী পুলিশের কাজ হচ্ছে অস্ত্র সংরক্ষণে রাখা এবং গুরুত্ব অনুযায়ী ব্যবহার করা। এ কারণে দুজন কনস্টেবল গেলে তাদের খালি হাতে বা লাঠি দিয়ে পাঠানো হয়। তাদের কাছে অস্ত্র না থাকলেও, ফোন করে বলতে পারে কোনো সমস্যা হলে। কিন্তু আমি দুজনের কাছে দুটি অস্ত্র দিয়ে পাঠাতে পারি না।’

কমলাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল হক বলেন, ‘আগে ট্রেনে ডাকাতি হতো। এখন হয় না। আগে ট্রেনের এক মাথা থেকে ডাকাতি করতে করতে অপর মাথায় গিয়ে নেমে যেত সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। এই ডাকাতি এখন কোনো ট্রেনে নেই। চলন্ত অবস্থায় ছাদে কিছু হলে তা ভেতর থেকে বোঝা যায় না। দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনে ডাকাতি একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads