• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ব্যাংকার মোরশেদের মামলা আড়াল করতেই মুনিয়ার নাটক?

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

ব্যাংকার মোরশেদের মামলা আড়াল করতেই মুনিয়ার নাটক?

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২২ অক্টোবর ২০২১

চট্টগ্রামের ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল মোরশেদ চৌধুরীর আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা তদন্ত করছে পিবিআই। গত ৭ এপ্রিল পাঁচলাইশ থানার হিলভিউ আবাসিক এলাকায় নাহার ভিলার একটি ফ্লাটে আত্মহত্যা করেন ব্যাংকার মোরশেদ চৌধুরী। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ইশরাত জাহান বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোরশেদের ফুফাতো ভাই জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, পারভেজ ইকবাল চৌধুরী সহ ৪ জনকে আসামি করা হয়, ঘটনার নেপথ্যে হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী জড়িত মর্মে গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ইশরাত জাহান ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করে তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য শারুনকে দায়ী করেছেন। এই ঘটনার তদন্ত দেয়া হয়েছে পিবিআইকে। ৭ এপ্রিলের এই ঘটনার তিন সপ্তাহের মধ্যেই ঢাকায় মুনিয়া মৃত্যুবরণ করেন।

অনেকেই মনে করছেন যে, ব্যাংকার মোরশেদ চৌধুরীর মৃত্যু আড়াল করতে চৌধুরীর মৃত্যু আড়াল করতেই মুনিয়ার নাটক সাজানো হয়েছে। মুনিয়ার মৃত্যুর পরই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুনিয়ার কথোপকথনের বিভিন্ন অডিও রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এই সমস্ত অডিও রেকর্ডের মধ্যে একটি অন্যতম ছিল মুনিয়ার সঙ্গে হুইপপুত্র শারুনের আলাপচারিতা এবং তাদের মধ্যে মেসেঞ্জার এবং হোয়াটসঅ্যাপে আলাপ বিনিময়। সেই আলাপ বিনিময় পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, মুনিয়ার সঙ্গে শারুনের একটি সম্পর্ক ছিল। আর এই সম্পর্কের জের ধরেই শেষ পর্যন্ত মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কিনা সেটি একটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে জানা গেছে। কারণ মোরশেদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর যখন তার স্ত্রী ইশরাত জাহান সরাসরি শারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন তার ক'দিনের মধ্যেই মুনিয়ার মৃত্যু ঘটলো। তার অর্থ কি এই দাঁড়ায় যে মোরশেদ চৌধুরীর আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলাকে অন্যখাতে প্রবাহিত করার জন্যই মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যেভাবেই মুনিয়া মৃত্যুবরণ করুক না কেন সেই ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকার মোরশেদ চৌধুরীর আত্মহত্যার প্ররোচনার ঘটনা জড়িত। কারণ দুটি ঘটনাতেই একজন ব্যক্তির উপস্থিতি পাওয়া যায়, তিনি হলেন হুইপপুত্র শারুন চৌধুরী।

যখন ব্যাংকার মোরশেদ চৌধুরীর আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় এবং এ নিয়ে সকল মহলে সমালোচিত শারুন চৌধুরী তখনই মুনিয়া মারা গেল এবং সেই মারা যাওয়ার ঘটনায় এমন সব ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হলো যারা শারুনের বিভিন্ন রকম অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। তাই সংশ্লিষ্টরা মনে করেন যে, মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে যে মামলা ঘটেছে সেই তদন্তে মোরশেদের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলাটি একই সাথে সম্পৃক্ত করা উচিত। তাহলে আসল তথ্য বেরিয়ে যাবে। কারণ, মুনিয়ার মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি লাভবান মোরশেদের অপমৃত্যু মামলার আসামিরা। মুনিয়ার মৃত্যুর ফলে এই ঘটনা আড়ালে চলে গেছে। মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনাটি সামনে এসেছে।

মোরশেদ চৌধুরীর মামলাটি প্রথমে পাঁচলাইশ থানা তদন্ত করলেও পরে এটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর হয়। তদন্ত কর্মকর্তা একজনকে গ্রেপ্তারও করেছিলেন কিন্তু এজহারভুক্ত আসামিদেরকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেননি। আর এরপরই যখন মুনিয়ার ঘটনাটি ঘটে তখন মূল আসামিরা আড়ালে চলে গেছে এবং এ মামলা নিয়েও এখন আর কোন কথাবার্তা নেই। অর্থাৎ যে উদ্দেশ্যে মুনিয়ার মৃত্যু ঘটানো হয়েছিল সেই উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। কারণ যখন মোরশেদের স্ত্রী ২৪ এপ্রিল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে শারুন চৌধুরী সহ সকল আসামির গ্রেপ্তার দাবি করলেন ঠিক তার দুদিন পরেই মুনিয়ার মৃত্যু ঘটলো। এটি কি কাকতালীয় নাকি এর পিছনে সুনির্দিষ্ট একটি মহলের কারসাজি ছিল। মুনিয়ার ট্রাম্পকার্ড ব্যবহার করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে থেকে রেহাই পাওয়ার কোন প্রচেষ্টা ছিল কি না সেটি তদন্ত করা দরকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন যে, মোরশেদ চৌধুরীর আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা তদন্ত করলেই মুনিয়ার মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসতে পারে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads