• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

জাতীয়

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত করছে দুদক ও মাউশি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৫ নভেম্বর ২০২১

রাজধানীর মিরপুর শাহ আলী থানায় অবস্থিত হজরত শাহ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তারের বিরুদ্ধে কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ করা করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে করা অভিযোগটি অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে কমিশন। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে করা অভিযোগেও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০২ সালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা হারুন অর রশিদের স্ত্রী নার্গিস আক্তার সরকারি বিধিবিধান ও সমস্ত প্রকার জালিয়াতির মাধ্যমে কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তার এই নিয়োগটি অবৈধ বলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি নিজের পক্ষে নেন নার্গিস আক্তার। পরে তার বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলাটি চলমান রয়েছে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন ও মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে দেয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পরপরই স্কুলের খেলার মাঠটি একটি ডেভোলপার কোম্পানিকে দিয়ে তিনতলা বিশিষ্ট মার্কেট নির্মান করেন। ওই মার্কেটের সাইনিং মানি থেকে শুরু করে দোকান বিক্রি ও ভাড়া কোনটাকাই তিনি বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করে আসছেন। সাইনিং মানি বাবদ প্রায় ৫০ লাখ টাকা, মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ২০১৯ ও ২০২০ সালে নির্মিত ৩৫ টি দোকান ভাড়া দিয়ে ১ কোটি ৫ লাখ, দোকানের ভাড়া বাবদ বছরে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার, মার্কেটের আন্ডার গ্রাউন্ডের ৩৫ টি দোকান ভাড়া বাবদ বছরে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার, মার্কেটের ১০টি দোকান বিক্রি বাবদ ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের গাইড বই অন্তর্ভুক্ত করে সেখান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার মত আত্মসাৎ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, মার্কেটের জায়গা স্কুলের নামে হলেও তিনি মার্কেট থেকে আয়োর কোন টাকাই স্কুলে দেন না। পুরোটাকাই তিনি আত্মসাৎ করে থাকেন। এদিকে অভিযোগের ব্যাপারে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদেক বলেন, অভিযোগটির বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

অন্যদিকে অভিযোগের ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন,  আমরা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ পেয়েছি। এর মধ্যে তার নিয়োগ অবৈধ সংক্রান্ত, শিক্ষিকার এমপিও ভুক্তি বাতিল এবং অর্থ আত্নসাৎ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ঢাকা জেলার পরিচালক প্রফেসর মনোয়ার হোসেনকে তদন্তকরার দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি বিষয়টি এখনো তদন্ত করছেন। তবে অভিযোগের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার বলেন, শত্রুতামূলক আমার বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ ষড়যন্ত্র করছে। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads