• সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

জাতীয়

প্রবাসীদের দেশে না আসার পরামর্শ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০২ ডিসেম্বর ২০২১

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেড়েই চলেছে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা।  তাই সেসব দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের আপাতত দেশে না ফেরার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসাথে ওমিক্রন প্রতিরোধে বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলেও ওমিক্রন ডেলটার মতো ভয়ংকর নয় বলে মনে করছেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রবাসী যারা এ সময় দেশে আসতে চান, যারা দক্ষিণ আফ্রিকা বা ইউরোপে আছেন, বিশেষ করে যেসব দেশে ওমিক্রনের ভ্যারিয়েন্টটি বেশি শনাক্ত হচ্ছে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার আহ্বান জানান।

তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণ পরিকল্পনা বন্ধ রাখুন। এই কাজটি করলে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে আমাদের সারা দেশে করোনা রোধে যে সর্বোচ্চ চেষ্টাটি আছে, সেটা বেগবান হবে। তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যারা এসেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, তাদের চিহ্নিত করছি। যাদের পরীক্ষার দরকার তাদের পরীক্ষা করছি। সামগ্রিকভাবে এই মুহূর্ত পর্যন্ত সব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন প্রতিরোধে বিদেশ থেকে দেশে আসা প্রবাসীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এখন থেকে যেকোনো দেশ থেকে দেশে আসতে হলে ৪৮ ঘণ্টা আগের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে হবে, যা আগে ছিল ৭২ ঘণ্টা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বিসিপিএস মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, যে যাত্রী আফ্রিকা থেকে আসবেন, বাধ্যতামূলকভাবে তাদের ১৪ দিনের কোয়ারান্টাইনে থাকতে বলেছি। একই সঙ্গে তাদের ৪৮ ঘণ্টা আগের করোনার সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। যদি কোনো দেশ থেকে করোনা টেস্ট ছাড়া কেউ আসে, তাদের অবশ্যই ৪৮ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে যেতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, কোয়ারেন্টাইনের জন্য আমাদের আগের যে হোটেলগুলো ছিল, সেগুলোতে লোকজন অনেক কম। তাই অনেকগুলো আবারো তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে গেছে। আমরা আবারো তাদের আহ্বান জানাচ্ছি এবং সেগুলোতে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করছি। আমরা বিমানবন্দর, স্থলবন্দরসহ দেশের প্রবেশ পথগুলোতে নির্দেশনা জারি করেছি, যেন ওমিক্রন প্রবেশ করতে না পারে। আশাকরি আমরা সফল হবো, যদি সকলে আমাদের সহযোগিতা করেন। 

প্রবাসীদের দেশে না আসার আহ্বান জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, যারা এ দেশ থেকে বিদেশে কর্মরত আছেন, বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোতে যারা আছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ আপনারা স্ব-স্ব কর্মস্থলে অবস্থান করেন। কারণ একসঙ্গে যদি আফ্রিকা থেকেই ২০ হাজার লোক দেশে চলে আসেন, আমরা কিন্তু সবাইকে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থাও করতে পারবো না।

ডেলটাসহ করোনার আগের ধরনগুলোর চেয়ে ওমিক্রন বেশি সংক্রামক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আশঙ্কা, নতুন এ ধরন বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ওমিক্রন কতটা মারাত্মক, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হয়নি কেউ। চলছে গবেষণা। গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের চেনা উপসর্গের চেয়ে ওমিক্রনের লক্ষণগুলো ভিন্ন। তাই এ নিয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে চলা করোনাভাইরাসের যে উপসর্গগুলো আমাদের চেনা হয়েছে, তার সঙ্গে নতুন ভ্যারিয়েন্টের খুব একটা মিল নেই। জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, স্বাদ-গন্ধ চলে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে মানুষ পরীক্ষা করাতে উদ্যোগী হয়েছে। কিন্তু নতুন ভ্যারিয়েন্ট উপসর্গ ছাড়াই বাসা বাঁধছে মানুষের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওমিক্রনকে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এটা সম্পর্কে প্রতিনিয়ত আমরা নতুন তথ্য-উপাত্ত পাচ্ছি। এদিকে আমাদের গভীর মনোযোগ আছে এবং সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সব প্রাক-প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে ভ্রমণ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এই সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করার জন্য পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে আমাদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হচ্ছে। বন্দরগুলোতে আমরা সতর্কতা দিয়েছি। কোয়ারেন্টাইনের বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়েছিল সেটি আর শিথিল নেই। কোয়ারেন্টাইনের বিধি-নিষেধ আমরা কঠোরভাবে প্রতিপালনের নির্দেশনা দিয়েছি।

সাউথ আফ্রিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (এসএএমএ)-এর সভাপতির ড. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েটজি জানিয়েছেন, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টটি ‘অস্বাভাবিক কিন্তু মৃদু’। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত যাদের শরীরে ধরনটি শনাক্ত করেছি, তাদের স্বাদ বা গন্ধ চলে যায়নি। হালকা কাশি হতে পারে। বিশেষ কোনো উপসর্গ এখনো পরিলক্ষিত হয়নি।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন পর্যন্ত ওমিক্রনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৮১ শতাংশ গাওতেং প্রদেশের বাসিন্দা। এখানকার চিকিৎসক ডা. উনবেন পিল্লায় বলেছেন, ওমিক্রনের উপসর্গ মৃদু জ্বর জ্বর অনুভূতি, শুকনা কাশি, রাতে ঘাম ও গায়ে প্রচণ্ড ব্যথার মতো উপসর্গ রয়েছে। বেশিরভাগ রোগীর চিকিৎসা বাড়িতেই সম্ভব। আক্রান্তদের মধ্যে যারা টিকা নিয়েছিলেন তাদের অবস্থা ভালো থাকতে দেখা যাচ্ছে। যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগের বয়স ২০-৩০ বছরের ঘরে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভারতের কর্নাটক রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে সুধাকর জানিয়েছেন, ওমিক্রন নিয়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা সাবেক সহপাঠীদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। তারা তাকে জানিয়েছেন, ওমিক্রন দ্রুত ছড়ালেও ডেলটার মতো ভয়ংকর নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির বমি ভাব হয়, হূৎস্পন্দন বেড়ে যায়। তবে স্বাদ-গন্ধ চলে যায় না। এ ধরনে আক্রান্তদের হাসপাতালেও নিতে হচ্ছে না।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরার্মশক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলানও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ওমিক্রন বেশি সংক্রামক, এ নিয়ে সর্তক থাকতে হবে। এই ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত হলে কেউ সহজে বুঝতে পারবে না। রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে। এটা সরাসরি চলে যায় ফুসফুসে  পোর্ট অব এন্ট্রিগুলোতে তাই স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের স্ট্রেইনগুলোর মধ্যে ওমিক্রনের জিন বিন্যাসে পরিবর্তন এসেছে সবচেয়ে বেশি। যে কারণে যেসব টিকা এখন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে সেগুলো এই ভ্যারিয়েন্টে কাজ না-ও করতে পারে।

গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশে রোগী শনাক্তর সংখ্যা পাঁচশ-র নিচে। মৃত্যুও ১০-এর কম। মানুষের মধ্যেও নেই করোনাভীতি। কোথাও স্বাস্থ্যবিধিও নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সকল ধরনের জনসমাগম নিরুৎসাহিত করার কথা জানিয়ে ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads