• রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯
আতশবাজির শব্দে কাঁপছিল ছোট্ট উমায়ের, পরদিনই মৃত্যু

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

আতশবাজির শব্দে কাঁপছিল ছোট্ট উমায়ের, পরদিনই মৃত্যু

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ০৪ জানুয়ারি ২০২২

ইংরেজি নববর্ষের রাতে (থার্টি ফার্স্ট নাইট) আতশবাজির শব্দে অসুস্থ হয়ে তানজিম উমায়ের নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটি বয়স ছিল চার মাস ১৯ দিন। সে জন্ম থেকেই হৃদরোগে ভুগছিল।

উমায়েরের পরিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা। গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরদিন ১ জানুয়ারি শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শিশুটির বাবা ইউসুফ রায়হান অভিযোগ করেছেন, ‘খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উদযাপনে রাজধানীজুড়ে যে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো হয়েছে, সেই শব্দে তার অসুস্থ ছেলে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। পরদিন তাকে হাসপাতালে নিলে সে মারা যায়।’

ইউসুফ রায়হান একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ফেসবুকে দেওয়া তার আবেগঘন স্ট্যাটাসটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। তার সেই স্ট্যাটাসের নিচে মন্তব্যের ঘরে আতশবাজির তীব্র সমালোচনা করেন অনেকে।

থার্টি ফাস্ট নাইটে রাজধানীজুড়ে টানা বিকট শব্দে তার ছেলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কান্না শুরু করে এবং সে ভয়ে কাঁপতে থাকে বলে তার বাবা অভিযোগ করেন।

ইউসুফ রায়হান বলেন, ‘আমার ছেলে উমায়েরের জন্মের পর থেকেই হৃদরোগের সমস্যা ছিল। তার প্রায়ই শ্বাসকষ্ট হতো এবং শরীর ঘেমে যেত।’

‘এই ঘটনার আগে উমায়ের ১২ দিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এরপর হৃদরোগের সমস্যা থাকায় তাকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কিছুটা সুস্থবোধ করায় তাকে চারদিন পর চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় নিয়ে আসি। এক সপ্তাহ পর আবারও চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য বলা ছিল। সে সুবাদে আমাদের ৩০ ডিসেম্বর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসককে দেখানোর কথা থাকলেও চিকিৎসক ব্যস্ত থাকায় ১ জানুয়ারি সকালে যাওয়ার কথা হয়। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে তার অপারেশন করার কথা ছিল।’

ইউসুফ রায়হান বলেন, ‘আমার ছেলেটা সারাদিন হাসিখুশিই ছিল। কিন্তু সেদিন (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১২টার পর থেকেই টানা বাজির শব্দে ছেলেটা বারবার কেঁপে উঠছিল। বাড়ির কাছে যেগুলো ফুটছিল সেগুলোর কারণে বিকট শব্দ হচ্ছিল। এরপর তাকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছিলাম। সাধারণত রাতে তার ঘুম কম আসতো। সেদিন সারারাত সে ছটফট করছিল। শ্বাসকষ্ট হলে তাকে নেবুলাইজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। বলতে গেলে সে রাতে তাকে আধঘণ্টা পরপরই নেবুলাইজ করতে হচ্ছিল।’

পরদিন সকালে উমায়েরকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটির বাবা বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় সকাল ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল ৪টায় তার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে নল দিয়ে খাবার দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু প্রথমবার দেওয়ার পর দ্বিতীয়বারের খাবার তার এক নাক দিয়ে গেলে অন্য নাক দিয়ে বের হয়ে আসছিল। এসময় তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত আইসিইউতে নিয়ে যান। একপর্যায়ে চিকিৎসকরা জানান, উমায়েরের অবস্থা ভালো নয়। এর কিছুক্ষণ পর সে মারা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চার মতো অনেক শিশুরই এ ধরনের সমস্যা থাকে। যাদের হৃদরোগের সমস্যা থাকে, উচ্চশব্দে তাদের সমস্যা হয়। আমি চাই না এভাবে আর কারও সন্তান বা কেউ মারা যাক।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads