• বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জৈষ্ঠ ১৪২৮
বিধিনিষেধ না মানলে জেল-জরিমানা

ফাইল ছবি

জাতীয়

বিধিনিষেধ না মানলে জেল-জরিমানা

  • রেজাউল করিম হীরা
  • প্রকাশিত ১৩ জানুয়ারি ২০২২

দেশে করোনার সংক্রমণের হার ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সংক্রমণ হারের পাশাপাশি রোগীর সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ১১ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। যা আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে। এই বিধিনিষেধ অমান্য করলে হবে জেল-জরিমানা। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হবে।

গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিধিনিষেধ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সারা দেশে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। কেউ মাস্ক না পরলে ও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ ১১ দফা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

বিধিনিষেধ না মানলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হবে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল রাজধানীর মহাখালী বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওমিক্রনের প্রভাবে বিভিন্ন দেশে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাংলাদেশেও এই হার বেড়েছে। যত সংক্রমণ বাড়বে, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়বে। এটি নিয়ন্ত্রণে সরকার ১১ দফার বিধিনিষেধ দিয়েছে। বিধিনিষেধ না মানলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হবে।

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে, মাস্ক পরিধান করতে হবে। তা না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে বাণিজ্যমেলা বন্ধ করা হচ্ছে না কেন, এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু বাণিজ্য মেলার বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারি। বাস্তবায়নের বিষয় তাদের।

ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ সীমিত করা হবে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যারা দোকানে যাবেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে যাবেন, চাকরিতে যাবেন, সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক না পরলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হবে। দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যেই বন্ধ করতে হবে। লঞ্চ-ট্রেন গণপরিবহনে কাজ করলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, মাস্ক পরবেন। সব ধরনের পর্যটন কেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। কোনো এলাকায় সভা-সমাবেশের নামে জট পাকানো যাবে না।

স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ২০২০ সালে ও গত বছরের মাঝামাঝিতে দেশে যখন করোনা সংক্রমণ বেড়ে গিয়েছিল তখনও র্যাব মাঠে থেকে বিধিনিষেধ নিশ্চিতে তৎপর ছিল। তখন যারা বিনা কারণে বের হয়েছিলেন ও যারা বাইরে বেরিয়ে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারি অফিসে জনবলের উপস্থিতি অর্ধেকে নামিয়ে আনার চিন্তা-ভাবনা চলছে। এ ক্ষেত্রে গত বছর যেভাবে চালানো হয়েছিল, সেটির কথা ভাবা হচ্ছে।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজম গণমাধ্যমকে বলেন, এখনো করোনা সংক্রমণের অবস্থা দেখা হচ্ছে। এর আগে অর্ধেক জনবল নিয়ে কাজ চালানো হয়েছে। তিন দিন করে অফিস করা হয়েছিল। এবারও করোনা বেড়ে গেলে সেই ধরনের চিন্তা-ভাবনা আছে।

আগামী শনিবার থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করবে ট্রেন। এর আগ পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় ওই দিন থেকে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের উপপরিচালক (টিসি) মো. নাহিদ হাসান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়, ৫০ শতাংশের অর্ধেক টিকিট কাউন্টারে ও অর্ধেক টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে। আন্ত নগর ট্রেনের স্ট্যান্ডিং টিকিট ও স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম টিকিট ইস্যু সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. কাজী তরিকুল ইসলাম বলেন, দেশে সংক্রামকব্যাধি আইন রয়েছে, সেটাও বাস্তবায়ন করা যায় না জানিয়ে অধ্যাপক কাজী তরিকুল ইসলাম বলেন, এমনকী শিক্ষিত বলে আমরা যারা রয়েছি, তারাও মাস্ক পরছি না। দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার পরেই মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদাসীনতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, টিকা নিতে হবে কারণ হয়তো তাতে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু মাস্ক পরলে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

বিধিনিষেধ চলাকালে যে ১১ নির্দেশনা মেনে চলতে হবে :  ১. দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলক সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। অন্যথায় তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। ২. অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় রোধে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। ৩. রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনার টিকা সনদ প্রদর্শন করতে হবে। ৪. ১২ বছরের বেশি বয়সি সব শিক্ষার্থীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

৫. স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পোর্টগুলোতে ক্রুদের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে হবে। স্থলবন্দরগুলোতেও আগত ট্রাকের সঙ্গে শুধু চালক থাকতে পারবে। কোনো সহকারী আসতে পারবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। ৬. ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সর্ব প্রকার যানের চালক ও সহকারীকে আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদধারী হতে হবে। ৭. বিদেশ থেকে আসা যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক কোভিড-১৯ টিকা সনদ প্রদর্শন করতে হবে।

৮. স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরার বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

৯. সর্বসাধারণের করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার এবং উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে তারা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তা গ্রহণ করবে।

১০. উন্মুক্ত স্থানে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ-পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে। ১১. কোনো এলাকায় ক্ষেত্রবিশেষ কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads