• রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯
বিধিনিষেধে চরম অনীহা

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

বিধিনিষেধে চরম অনীহা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৬ জানুয়ারি ২০২২

করোনার ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের তৃতীয় দিন গতকাল শনিবারও স্বাস্থ্যবিধি মানতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অনীহা দেখা গেছে। মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কেউ মানেনি। কোনো কোনো গণপরিবহনে সরকারের নির্দেশনা মেনে যাত্রী ওঠানো হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছিল অনিয়ম। বেশির ভাগ বাসেই যাত্রী ছিল আসনের চেয়ে অনেক বেশি। গাদাগাদি করে যাত্রী তোলা নিয়ে দেখা গেছে বাগবিতণ্ডাও। সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে এ চিত্র।

তবে জনসচেতনতা মূলক মাইকিং করছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা থাকলেও দূরত্বসহ অন্যান্য নির্দেশনা মেনে চলার আগ্রহ কম। টিকার সনদ রাখার ব্যাপারে মনোযোগী নয় অনেকে।

একদিন ছুটির পর, গতকাল সকাল থেকেই হাসপাতালে করোনা টিকাকেন্দ্রগুলোতে টিকা প্রত্যাশীদের ভিড়। একই লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নেন প্রথম, দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজের টিকা প্রত্যাশীরা। মাস্ক পরলেও লাইনে নির্দিষ্ট দূরত্ব ছিল না তাদের।

গণপরিবহনের মতোই বিধিনিষেধ উপেক্ষিত দেখা যায় রাজধানীর রেস্তোরাঁ, বাজার ও বিপণিবিতানে। রেস্তোরাঁ মালিকরা জানান, খেতে আসা ব্যক্তিদের কাছে টিকা সনদ দেখতে চান না তারা। টিকার সনদ দেখাতে বললে অনেকে বিরক্ত হয়ে না খেয়ে চলে যান। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বিক্রেতাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। মানা হচ্ছে না দূরত্ববিধি।

চলমান বিধিনিষেধে, গণপরিবহনে আসনের অর্ধেক যাত্রী বহনের নির্দেশনা আসার পর বাসের ব্যাপারে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন এসেছে। নতুন সিদ্ধান্তে বাসে শনিবার থেকে অর্ধেক নয়, আসনের সমানসংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। তবে আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনসংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন। আর লঞ্চের ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কোনো নির্দেশনাই দেয়নি। ফলে আগের মতো যাত্রী বহন করছে লঞ্চ।

কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার জানান, গতকাল সকাল থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ট্রেনগুলো স্টেশন ছেড়ে যায়। আগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেন আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। আমরা নতুন কোনো নির্দেশনা পাইনি।

 

সরকারের জারি করা ১১ দফা বিধিনিষেধ কার্যকরে গত বুধবার পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা করে বিআরটিএ। সভায় পরিবহন নেতাদের দাবিতে সবাই একমত হন যে, সব সরকারি বেসরকারি অফিস চালু রেখে গণপরিবহনের যাত্রী অর্ধেক করলে সংকট দেখা দেবে। পরিবহন নেতারা দাবি জানান, অর্ধেক নয়, আসনের সমানসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের সুযোগ দেওয়া হোক। ফলে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্তের পরিবর্তন আসে। বিআরটিএ থেকে পরিবহন নেতাদের জানানো হয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে একটি বাসে আসনের সমানসংখ্যক যাত্রী চলাচল করতে পারবে।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, সকাল থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসনের সমানসংখ্যক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করছে। কেউ ব্যত্যয় ঘটালে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। 

সকাল ৯টা থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পাশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজা পারভীন। এই আদালতের মুখোমুখি না হতে মৎস্য ভবন মোড় থেকে শাহবাগগামী কিছু বাস কাকরাইল, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে পাশে মোড় ঘুরে যেতে দেখা গেছে।

নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকায় একটি বা দুটি এড়াতে পারলেও অন্যায় করে ছাড় পাওয়া যাবে না। বিভিন্ন সড়কে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আছেন। এক রুট এড়িয়ে যেতে পারলেও অন্যগুলোয় ধরা পড়বে। প্রথম দিন হিসেবে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা আমরা দেখছি। আজ বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেখা যাচ্ছে না। কয়েকটি পরিবহনে এক-দুজন যাত্রীকে মাস্ক না পরে চলতে দেখা গেছে। তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। জরিমানাও করা হচ্ছে। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী বাস ও চালকদের কাগজপত্রও চেক করা হচ্ছে। যাদের কাগজ সঠিক পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গত সোমবার করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউ মোকাবিলায় ১১টি বিধিনিষেধ ঘোষণা করে সরকার, যা কার্যকর শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। তবে বাস ও ট্রেনে বিধিনিষেধগুলো কার্যকর হয়েছে গতকাল থেকে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads