• সোমবার, ৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯
বাজারে সারা জাগাতে আসছে 'বস'

ছবি: বাংলাদেশের খবর

জাতীয়

বাজারে সারা জাগাতে আসছে 'বস'

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ০১ জুলাই ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের টনকি কাজী বাড়ির প্রবাসী কাজী: রকিব উদ্দিন। শখের বসে তিনি একটি শাহী আওয়াল জাতের ষাঁড় (গরু) লালন পালন করছেন। প্রায় ৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট । ষাঁড়টির বয়স সাড়ে ৩ বছর। গরুটির ওজন রয়েছে ১২ মণ। হালকা লাল রঙ্গের শরীর। আদর করে ষাঁড়টির নাম রেখেছেন বস। বসের দাম হাকাচ্ছেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তবে তার আকৃতি বেড়ে উঠলেও রয়েছে খুবই শান্ত স্বভাবের। ইতোমধ্যে এই গরুটি এলাকায় বেশ সারা ফেলেছে। গরুটি দেখতে বিভিন্ন এলাকার লোকজন প্রতিদিন তার বাড়িতে ভিড় করছেন। প্রবাসী রকিব উদ্দিন এই শাহী আওয়াল জাতের ষাঁড়টি কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বিক্রি করবেন। রবিক টনকি কাজী বাড়ির মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

কাজী: রকিব উদ্দিন বলেন, আজ থেকে ২ বছর আগে ৬২ হাজার টাকায় এই (ষাঁড়) গরুটি কেনা হয়। এরপর তিনি দেশীয় পদ্ধতিতে লালন পালন করছেন। নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যা করার ফলে গরুটির আকৃতি ও যেন বাড়তে থাকে। দিনে দিনে এই গরুটির ওজন বেড়ে প্রায় ১২ মণে এসে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে ঘোলখার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গরুগুলোকে অতি যত্ন সহকারে গরুগুলোকে লালন পালন করা হচ্ছে। সকাল বিকাল রাতে বসকে অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া হচ্ছে। এই বিশাল আকাড়ের গরু দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন তার বাড়িতে আসছেন। এদিকে এই বিশাল আকারের গরুটির শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে দিনে দুই বার গোসল করানো হয়।
কাজী: রকিব উদ্দিন বলেন, কোনো প্রকার ক্ষতিকর ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে খড়, তাজা ঘাস,খৈল ভুষি,চালের কুড়া,ভুট্রা,ভাতসহ পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে লালন পালন করা হয়। পাশপাশি নিয়মিত গোসল করানো,পরিস্কার ঘরে রাখা, তাপমাত্রা পরিমাপ রাখা ও রুটিন অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেওয়াসহ প্রতিনিয়ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়। এই বিশাল আকারের ষাঁড়টির সাড়ে ৩ লাখ টাকা চাওয়া হলেও বাজারের অবস্থা বুঝে আলোচনা সাপেক্ষে দাম কমবেশি হতে পারে।

তিনি আরো বলেন এ ধরনের গরু লালন-পালন করা আসলেই খুবই কষ্টকর। পরিবারের সবাই মিলে অনেক শ্রম দিয়ে তিলে তিলে যত্ন করে গরুকে বড় করা হয়েছে। এই গরুটিকে আমার পরিবারের একজন সদস্য মনে করি।

উপজেলার আজমপুর এলাকা থেকে গরু দেখতে আসা মো. সিরাজ মিয়া ও আলমগীর হোসেন বলেন লোক মুখে তারা শুনে গরুটি দেখতে এসছেন। আসলেই গরুটি দেখতে খুবই সুন্দর। মালিকের মোবাইল নাম্বার নেওয়া হয়েছে। আশা করছি দু’একদিনের মধ্যে গরুটি ক্রয়ে তারা দর দাম করবেন।

পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার মো: ফারুক মিয়া বলেন, বড় আকৃতির গরুর কথা লোকমুখে শুনে এখানে দেখতে আসলাম। মানুষের মুখে যা শুনেছি এখানে এসে তাই দেখলাম।
টনকি গ্রামের মো: মিলন মিয়া বলেন, প্রবাসী রকিব উদ্দিন একজন সৌখিন মানুষ। গরু লালন পালনে তার যতেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। শখ করে এই উন্নত জাতের গরুটি তিনি অতি যত্ন সহকারে গরু লালন পালন করছে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: জুয়েল মজুমদার বলেন, এ উপজেলায় অনেক লোকজন খামার করে উন্নত জাতের গরু লালন পালন করছেন। পশু মোটা তাজাকরণে ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার বন্ধে খামারগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তাছাড়া সকল খামারিদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি খামারিদের সচেতন ও তদারকি করা হচ্ছে। মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে দেশীয় খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করার জন্য কৃষক ও খামারীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads