• শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
এ শোকের আগুন জ্বলবে অনন্তকাল

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

এ শোকের আগুন জ্বলবে অনন্তকাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ০৬ আগস্ট ২০২২

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া। ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। সে ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দ্য টাইমস অব লন্ডনের ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় বলা হয়, সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই।

সেদিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসাবে বিবেচনা করবে। সেই শোকাবহ আগস্টের ষষ্ঠ দিন আজ।

১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ছিল মঙ্গলবার। নারকীয় হত্যাযজ্ঞের প্রধান লক্ষ্য বঙ্গবন্ধু হলেও এ দিনের ঘটনায় শেখ কামালই ছিলেন প্রথম শহীদ। বঙ্গবন্ধুর ছেলে পরিচয় দেওয়ার পর ঘাতক বজলুল হুদা স্টেনগান দিয়ে শেখ কামালকে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু ভবনের আবাসিক ব্যক্তিগত সহকারী এবং হত্যা মামলার বাদী মোহিতুল ইসলামের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের বর্ণনায় জানা যায়, তখন ভোর সাড়ে চারটা-পাঁচটা হবে। চারদিক ফরসা হয়ে গেছে। বাড়ির চারদিকে বৈদ্যুতিক আলোও জ্বলছিল। বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে তখন গোলাগুলি শুরু হয়ে গেছে।

কিছুক্ষণ পর গুলি বন্ধ হলে কাজের ছেলে আবদুল ওরফে সেলিম ওপর থেকে পাঞ্জাবি-চশমা এনে দিলে বঙ্গবন্ধু ওই পাঞ্জাবি চশমা পরে বারান্দায় এসে ‘আর্মি সেন্ট্রি, পুলিশ সেন্ট্রি এত গুলি হচ্ছে তোমরা কী কর’ বলে উপরে চলে যান। তারপর শেখ কামাল ওপর থেকে এসে বলেন ‘আর্মি ও পুলিশ ভাই আপনারা আমার সঙ্গে আসেন।’ তখন তিন-চারজন কালো খাকি পোশাকধারী সশস্ত্র আর্মি আসে। এর মধ্যে খাকি পোশাকধারী বজলুল হুদা শেখ কামালের পায়ে গুলি করে।

শেখ কামাল তখন শেখ মুজিবের ছেলে পরিচয় দিলে সঙ্গে সঙ্গে শেখ কামালকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। এরপর একে একে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সবাইকে।

বঙ্গবন্ধু সব সময় বলতেন, সাত কোটি বাঙালির ভালোবাসার কাঙাল আমি। আমি সব হারাতে পারি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা হারাতে পারব না। কিন্তু ঘাতকের দল তার সেই প্রিয় বাঙালিদের কাছ থেকে, স্বপ্নের স্বাধীন প্রিয় বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল।

কিন্তু শরীরী মুজিবকে হত্যা করলেও বাঙালির হূদয় থেকে প্রিয় পিতাকে মুছে ফেলতে পারেনি তারা। তাই আজও শ্রাবণের বৃষ্টি, সবুজ মাঠের সীমনা, নদীর পাড়ঘেঁষে সমুদ্রের জল, গাছের পাতারাও শোকে ঝরছে অবিরল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads