• শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
নরসিংদীতে নদী ভাঙনে বিলীন ১৫ বসতঘর, ঝুঁকিতে ২ হাজার পরিবার

ছবি: বাংলাদেশের খবর

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

নরসিংদীতে নদী ভাঙনে বিলীন ১৫ বসতঘর, ঝুঁকিতে ২ হাজার পরিবার

  • নরসিংদী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২২ জুন ২০২২

নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ১৫ বসতঘর ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র। সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের মহিষবেড় গ্রামের ১৫ টি বসতঘর ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও ভাঙন আতঙ্কে আছে প্রায় দুই হাজার পরিবার।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে নদীতে ভাঙন শুরু হয়। আধ ঘণ্টার মধ্যেই বিলীন হয়ে যায় ৫টি বসতঘর। পরে রাতেই মসজিদের মাইকে ভাঙনের কথা ঘোষণা করা হলে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে ঘুমন্ত কয়েক পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে আনে । তবে ঘরের ভিতর থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার সহ আসবাবপত্র বের করে আনা সম্ভব হয়নি। সকাল হতে হতে ভাঙনের কবেল পড়ে আরও পাঁচটি বসতঘর। সবশেষ, মঙ্গলবার বিকেল অব্দি এই এলাকার মোট ১৫ টি বসতঘর মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে।

এদিকে, ভাঙন আতঙ্কে আছে চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের মহিষবেড় গ্রামের অন্তত দুই হাজার পরিবার। গ্রামটির দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই ভাঙন শুরু হয়েছে। গত আট বছরের মহিষবেড় গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে হারিয়েছেন বসতভিটা।

আজমল হোসেন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রাতে ঘুমের মধ্যেই বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেল। কিছুই রক্ষা করতে পারলাম না। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আছি।

চরসুবুদ্ধি ইউপি সদস্য হারুন সরকার বলেন, বর্ষা মৌসুমে এলেই নদীভাঙনে অনেক জমি ও বসতভিটা বিলীন হয়ে যায়। এখানে একটি গ্রাম রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলে মেঘনার ভাঙন থেকে মহিষবেড় গ্রামবাসী রক্ষা পেতো।

রায়পুরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজগর হোসেন বলেন, চরসুবুদ্ধির মহিষবেড় এলাকার ভাঙ্গনস্থল ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছি আমরা। যাদের বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন আশ্রয়নের ব্যবস্থা করা হবে।

নরসিংদী জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় চন্দ্র শংকর বলেন, মেঘনার বুকে জেগে ওঠা একটি চরের কারণে নদীর গতিপথ বদলে গেছে। ফলে মহিষবেড় গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ওই চরটি কেটে সরিয়ে দিলেই ভাঙন থেমে যাবে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads