• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

সংবাদ-ভাষ্য

একুশ এসেছে বাঙালিত্বের অভ্রভেদী দাপটে

  • আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া
  • প্রকাশিত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। রক্তঝরা ১৯৫২ সালের এ দিনে আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্য অকুতোভয় সন্তানরা বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করেছিলেন। হাসি মুখে পাকিস্তানি বর্বর পুলিশের রাইফেলের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন শহীদ বরকত, সালাম, জব্বার, রফিকসহ নাম না-জানা অনেকে। মাতৃভাষা রক্ষার জন্য এমন অকাতরে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত গোটা পৃথিবীতে এক অশ্রুতপূর্ব ঘটনা। কবির কণ্ঠে বলতে হয়, ‘সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক  তাকিয়ে রয়;/জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।’ শুধু ভাষার প্রশ্নে নয়, স্বাধিকার আদায়ের সকল আন্দোলনে অসম সাহসী বাঙালিরা এমনিভাবেই আত্মত্যাগের অত্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অন্যায়-অত্যাচার, শাসন-শোষণ ও নিষ্পেষণের সাথে কখনো আপস করেননি বীর বাঙালি। এরই ধারাবাহিকতায় একুশ থেকে একাত্তর-এর কাব্যগাথা রচিত হয়েছে। স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা-বাঙালির ইতিহাসের এই মহা-অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মাধ্যমে।

এর বীজ বপন করেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ঢাকা সফরকালে ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্রসভায় ঘোষণা করেছিলেন, ‘উর্দু, উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ তৎকালীন ছাত্রনেতা মুজিব ও পরবর্তীসময়ে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সমস্বরে প্রতিবাদ উঠল-‘নো নো নো।’

সেই আগুনের ফুলকি দাবানলে পরিণত হলো ৭১-এর স্বাধীনতাযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ফলে জিন্নাহ মিয়ার পাকিস্তান আজিমপুরের গোরস্তানে পরিণত এবং বিশ্ব মানচিত্রে সংযোজিত হলো একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ-বাংলাদেশ। বিশ্ব ইতিহাসে সংযুক্ত হলো একটি জাতীয় সংগীত-‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি।’

আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল বাঙালি জাতির অহংকার ও গৌরবগাথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বায়ান্নর শহীদদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। ইউনেস্কো এই মহান দিবসটিকে ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। বাংলার দামাল ছেলেদের বীরত্বগাথাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করার মাধ্যমে আজ পৃথিবীর সকল স্বাধীন সার্বভৌম দেশে পালিত হচ্ছে একুশে ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

আমরা এই দিবস পালন করছি জাতীয় শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। তবে আজ এই মহান দিবসটি এসেছে বাঙালিত্বের অভ্রভেদী দাপট নিয়ে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ সুবর্ণরেখায়। এবার একুশ এসেছে জাতীয় জীবনের এমন এক মাহেন্দ্রক্ষণে যখন আমরা পালন করছি ‘মুজিববর্ষ’, আনন্দে-উৎসাহে মাতোয়ারা হচ্ছি জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ পালনের মধ্য দিয়ে। একই সাথে আমরা উদ্যাপন করছি আমাদের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা জাতিকে ঘাতক করোনার ছোবলও রুখতে পারেনি। জনতার ঢল নেমেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে; সমগ্র বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে নির্মিত শহীদ মিনারের পাদদেশে। ফুলে ফুলে ভরিয়ে দিচ্ছে ভাষাশহীদদের অমর আত্মার প্রতি তাদের বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads