• সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
বিপদে ধৈর্য ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার উপায়

প্রতীকী ছবি

ধর্ম

বিপদে ধৈর্য ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার উপায়

  • প্রকাশিত ২৪ নভেম্বর ২০২১

মাসুম আলভী

নদী বয়ে চলে এঁকেবেঁকে। গতিপথে পাহাড় প্রাচীর বাধা পেলে নতুন পথ খুঁজে নেমে আসে সাগর বুকে। বিপদ-আপদ জীবন নদীতে তুফান তোলে। মাঝিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দোটানায় ফেলে। জীবন কোনো ফুলের গালিচা বিছিয়ে রাখা পথ নয় বরং ঢের কণ্টকাকীর্ণ। কিন্তু মুমিনের স্বভাব হলো বিপদ-আপদে হতাশ না হয়ে ধৈর্যসহকারে জীবনযাপন করা। সূর্যের মতো আলো ছড়াতে হলে আগে নিজেকে পোড়াতে হয়। বিপদ-আপদ মুমিনের জন্য ঈমানের আলোয় দীপ্তি হওয়ার পরীক্ষা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না?’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত : ২)। জীবনের দুর্বিপাকের মুখোমুখি হলে মুমিনের উচিত ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।

দুনিয়ার জীবনে রোগ-বালাই, করোনা মহামারি বহুমুখী বিপদ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, দারিদ্র্য বিমোচনের প্রাণান্তকর লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে; দিনের শেষে নতুন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘরে ফিরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, ছেলে-মেয়ের লাগামহীন কাজকর্মে দিশাহারা। দুশ্চিন্তার কালো ছায়া মাঝেমধ্যেই আবৃত করে। অন্তর্দৃষ্টি সংকীর্ণ হওয়ায়, আল্লাহর দেওয়া কল্যাণকর সিদ্ধান্তগুলো মনঃপূত না হলে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ে। কিন্তু আল্লাহতায়ালা সামান্য বিপদের বিনিময়ে মুমিনদের জরাজীর্ণ মুছে পরিশুদ্ধ জান্নাতি মানুষ হিসেবে তৈরি করে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না। যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, আল্লাহ তার অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা তাগাবুন, আয়াত : ১১)

বিপদে-আপদে মুমিন বান্দাগণ অস্থির না হয়ে বরং নিজেকে সংবরণ করেন এবং অন্তরে গভীর বিশ্বাস রাখেন, সব সময় আল্লাহতায়ালা মুমিন বান্দার মঙ্গলের নিমিত্তে বিপদের মুখোমুখি করেন।

বহু ফল আছে দেখতে অসুন্দর হলেও, তার স্বাদ অতুলনীয়। ঠিক একইভাবে ধৈর্যধারণ করা ঢের শক্ত কিন্তু মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিপদে ধৈর্য ধারণ করার অসীম শক্তি। আর ধৈর্য ধারণকারীদের জন্য রয়েছে, উত্তম প্রতিদান। বিপদ-আপদে বিচলিত না হয়ে; আল্লাহতায়ালার ওপর ভরসা রাখলে, আল্লাহতায়ালা তার জীবন চলার গতিপথ সহজ করে দেন।  রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আনসারি কিছু সাহাবিকে বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করতে চায় আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীলই রাখেন। আর যে অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। ধৈর্যের চেয়ে বেশি প্রশস্ত ও কল্যাণকর কিছু কখনো তোমাদের দান করা হবে না।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭০)।

সফলতার স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করতে প্রয়োজন প্রবল আত্মবিশ্বাস ও মজবুত ঈমান। অন্তর আল্লাহর ভয়ে আড়ষ্ট হলে ঈমান সুদৃঢ় হয়। বিপদ-আপদ ধৈর্য ধারণ করা সহজ হয়ে যায়। আর আল্লাহতায়ালা ধৈর্যশীলদের গুনাহ মাফ করে দেন এবং জান্নাতের সুসংবাদ দেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধর ও ধৈর্যে অটল থাক এবং পাহারায় নিয়োজিত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও।’ (সুরা ইমরান আয়াত : ২০০) অন্তর্দৃষ্টির সংকীর্ণতার জন্য নিজেদের কল্যাণকর মুক্তির পরীক্ষায় যেন অকৃতকার্য না হই। তাই মুমিনের উচিত সব সময় আল্লাহতায়ালার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।’ (সুরা বাকারা আয়াত : ১৫২)।

মুমিদের জন্য সবচেয়ে উত্তম আদর্শ হলো নবী ও রাসুলগণ। ইসলামের সুমহান শিক্ষা প্রতিষ্ঠায় নবী ও রাসুলগণ আল্লাহতায়ালার নির্দেশনা মেনেছেন এবং তাঁদের নিত্য সঙ্গী ছিল ধৈর্য। কোনো পরিস্থিতিতেই নিজেদের গুটিয়ে রাখেনি। আল্লাহতায়ালার ওপর ভরসা ও ধৈর্যকে পুঁজি করে পথ চলতে শুরু করেন। আর আল্লাহতায়ালা পুরস্কারস্বরূপ দুনিয়ার জীবনে দিয়েছেন; সীমাহীন সম্মান ও পরকালের মুক্তির সুসংবাদ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা আয়াত : ১৫৫)।

মুমিনদের প্রগাঢ় ইচ্ছাশক্তি বিপদ-আপদে ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পথ সুগম করে দেয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করার চেষ্টা করবে আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা প্রদান করবেন। আর কোনো ব্যক্তিকে এমন কোনো দান দেওয়া হয়নি, যা ধৈর্য অপেক্ষা উত্তম। (বুখারি, হাদিস : ১৪৬৯)। হে আল্লাহ, আমাদের বিপদে-আপদে ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

ই-মেইল : msharkar199@gmail.com

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads