• রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৭

শোবিজ

নিজস্ব ছন্দে সুমাইয়া শিমু

  • বিনোদন প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছোট পর্দার আলোচিত তারকা সুমাইয়া শিমু। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিংয়েও তাকে দেখা গেছে। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে তার প্রাণবন্তু অভিনয় বরাবরই দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। এক সময় টিভি নাটক মানেই ছিল শিমুর সাবলীল অভিনয়। তবে কয়েক বছর ধরে তিনি নাটকে অনিয়মুি। এর কারণও আছে। অভিনয়ের বাইরের কিছু ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। তবে সেই কাজের বিষয়টি আয়ত্তে আসার পর চলতি বছরের শুরু থেকে অভিনয়ে আবার নিয়মুি হণে চেয়েছিলেন। ফিরেই একটি খণ্ড নাটক ও একটি ওয়েব সিরিজে কাজ করেন। তানিম পারভেজের পরিচালনায় ‘ঘোলা’ নামের পাঁচ পর্বের ক্রাইম ওয়েব ফিকশনে তার সহশিল্পীরা ছিলেন এফ এস নাঈম, ইয়াশ রোহানসহ অনেকে। আসাদুজ্জামান সোহাগের চিত্রনাট্যে ‘তিথির সারাবেলা’ নাটকটি পরিচালনা করেন সীমান্ত সজল।

কাজে নিয়মুি হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে বছর শুরু হলেও করোনার কারণে তার এই নতুন অভিযাত্রা থমকে যায়। অন্য সবার মণো তিনিও ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। সুমাইয়া শিমু বলেন, ‘বেশ পরিকল্পনা করেই অভিনয়ে নেমেছিলাম। ভালো দুটি কাজ শুরু করেছিলামও। নাটকটির কাজ শেষ হলেও ওয়েব সিরিজটির কাজ অসমাপ্ত আছে। এগুলো ছাড়া ঈদের কিছু কাজ নিয়েও কথা হয়েছিল কয়েকজন নির্মাতার সঙ্গে। তার আগেই সব কাজ বন্ধ হয়ে গেল।’

করোনাকে মেনে নিয়েই চলণে শুরু করেছে বিশ্ব। জীবন ও জীবিকার তাগিদে মাঠে নেমেছেন সবাই। বন্ধ থাকা সব কিছুই ধীরে ধীরে সচল হণে শুরু করেছে। শুটিংয়েও ফিরছেন অভিনয় শিল্পীরা। তবে এখনই শুটিংয়ে নামণে রাজি নন শিমু। তিনি পরিস্থিতি দেখণে চান আরও কিছুদিন। এ নিয়ে শিমু বলেন, ‘সবাই আস্তে আস্তে কাজ শুরু করেছে। অনেকে আগে না করলেও এখন করছে। আমি আরেকটু দেখে কাজ করণে চাই। এখনই শুটিংয়ে ফিরণে চাইছি না।’ শিমু জানান, ঈদে কাজের প্রস্তাব ছিল একাধিক। বিশেষ দিবসের কাজের প্রস্তাবও বাদ ছিল না। কাজে বেরোণে একেবারেই সাড়া পাননি নিজের ভেতর থেকে। তাই শিগগিরই শিমুকে পর্দায় দেখণে পাবেন না দর্শক। এখন বাড়িণেই সময় কাটছে শিমুর। নিজের কাজ না থাকলেও এবারের ঈদে সিনিয়র অভিনেত্রীদের সাফল্যের সংবাদ পৌঁছেছে তার কানে। তিনি নিজে সব কাজ দেখণে না পারলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জেনেছেন দর্শকদের ভালো লাগার কথা। বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন শিমু। তার মণে, যেগুলো ভালো নাটক বলে বিবেচিত হয়েছে, তাণে যারা অভিনয় করেছেন, তারা গুণী অভিনেত্রী। হয়তো তারা নিয়মিত কাজ করছেন না। তবে বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের পছন্দ করেন। শিল্পী এক দিনে তৈরি হন না। অনেক দিনে তৈরি হন। যত দিন যেণে থাকে, শিল্পী তত পরিণত হতে থাকেন। শিমু বলেন, যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী, গল্প অনুযায়ী শিল্পীরা কাজ করবেন। সব ধরনের গল্প নিয়ে, সব ধরনের চরিত্র নিয়ে আমরা নির্মাতা, নাট্যকার, পৃষ্ঠপোষকরা যদি কাজ করণে পারি, তাহলেই ভালো ভালো কাজ হবে। সব ধরনের গল্পে যদি নাটক তৈরি করা হয়, তাহলে গল্পের বৈচিত্র্য থাকে। দর্শক একঘেয়ে হন না।

নাটকে চরিত্রাভিনেতা ও চরিত্রাভিনেত্রীদের হারিয়ে যাওয়াটা ইদানীং বেশ সমালোচিত হয়েছে। শিমু বলেন, নাটক মানে কিন্তু এই নয় যে, একই বয়সের চরিত্রের ওপর ১০০টা নাটক সবাইকে করতে হবে। একটা পরিবারে অনেক সদস্য থাকে। প্রত্যেক সদস্যের আলাদা বয়স থাকে, আলাদা গল্প থাকে। পৃথিবীর যেকোনো দেশের দিকে দেখেন। সব জায়গায়ই গল্প অনুযায়ী অভিনেত্রী থাকেন। নায়িকা মানে এই না যে, আমাকে ১৬ বছর বয়সী হতে হবে। একটা প্রধান চরিত্রে একজন ৬০ বছরের মানুষও থাকতে পারেন।

শিমু মনে করেন, ভালো গল্প প্রেমের হতে পারে কিংবা হতে পারে পারিবারিক। আর প্রেমের গল্প হলেই যে একটা নির্দিষ্ট বয়সের হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বিভিন্ন বয়সের মানুষের প্রেমও আসতে পারে নাটকে। তাতে কাজ করতে পারেন বিভিন্ন বয়সের অভিনয়শিল্পীরা। নাটকের গল্প একটা বয়সে আটকে থাকলে আটকে থাকবে নাটকের মানও। টিভি নাটকে বরবারই শিমুর চাহিদা রয়েছে। তার অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে। তাই পরিচালকরাও তাকে নিয়ে আগ্রহ দেখান। শিমু জানান, যে কোনো মূল্যে পর্দায় থাকতে চান তিনি। কেননা, অভিনয় করে মানুষের ভালোবাসা যতটা পেয়েছেন, তার তুলনা হয় না। তিনি বলেন, আমি সব সময় চেষ্টা করেছি অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষকে, বিশেষ করে নারীদের, কোনো না কোনো বার্তা দিতে। সেটা আমি অব্যাহত রাখতে চাই। তা ছাড়া মানুষ আমাকে যতটা ভালোবাসা দিয়েছে, সেটা যদি আমি অন্য কোনো পেশায় থাকতাম তাহলে হয়তো পেতাম না। কয়েক বছর ধরে নাটকে অনিয়মিত হওয়ার পেছনে রয়েছে শিমুর পড়াশোনা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ। গত দুই বছর ধরে একটি নতুন ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন শিমু। ‘বেটার ফিউচার ফর উইমেন’ নামের একটি ভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানের হয়ে নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনী কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে অনলাইনে কার্যক্রম চলাচ্ছেন। এর পাশাপাশি পুরুষদের স্কিল ডেভেলপের জন্য কোর্সও পরিচালিত হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে যেসব মানুষ চাকরিচ্যুত হয়েছেন কিংবা সমস্যাগ্রস্ত আছেন তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ করে তোলার জন্য এক বছর মেয়াদি এই কোর্সটি চালু করেছেন। সারা দেশের মানুষ অনলাইনে এই কোর্সটি সম্পন্ন করে নতুন কর্মসংস্থানে যোগ দিতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে সুমাইয়া শিমু বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি মূলত নানা ধরনের কোর্স পরিচালনা করছে। মানুষকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। করোনা ভাইরাসের কারণে যাদের কর্মসংস্থান নেই, তাদের নতুন কর্মক্ষেত্রে যোগ দেয়ার উপযোগী করে তোলার জন্য একটি নতুন কোর্স শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক সাড়াও পাচ্ছি। সামনে সময়োপযোগী আরও কিছু কোর্স চালুরও পরিকল্পনা করছি। এদিকে অভিনয়েও মাঝে মধ্যে দেখা যায় এ অভিনেত্রীকে। হঠাৎ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান শুরু করার কথা কেন ভেবেছেন অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিনয়ের অভিজ্ঞতা, পরিচিতি, পড়াশোনা ও গবেষণা মিলিয়ে মানুষের জন্য কিছু করতে চেয়েছি। সে জন্যই এ প্রতিষ্ঠান গড়েছি। এটি পুরোপুরি একটি নন-প্রফিট অর্গানাইজেশন। এখানে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি শিল্পী পরিচিতির কারণে নারীদের অনেকে আমাকে নিজেদের অনেক সমস্যার কথা অকপটে শেয়ার করেন। আমিও তাদের সমস্যা মন দিয়ে শুনি এবং সমাধানের চেষ্টা করি।

সম্প্রতি পিএইচডির গবেষণা শেষ করেছেন শিমু। ‘শিল্প ও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের টেলিপেস্ন অভিনয়ে নারীর ভূমিকা’ নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ গবেষণা শেষ করেছেন এ অভিনেত্রী। এ কারণে বেশ কিছুদিন অভিনয় থেকে খানিক অবকাশে যেতে হয়েছিল তাকে। শিমু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকার ও রাজনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে বিয়ে করেন সুমাইয়া শিমু। বর নজরুল ইসলাম কাজ করেন একটি বিদেশি সংস্থায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads