• শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

শোবিজ

বাইরের দেশে একজন আর্টিস্ট প্রোডাক্টকে প্রোমোট করে : কিসলু গোলাম হায়দার 

  • জিয়াউল জিয়া
  • প্রকাশিত ২৯ মে ২০২১

আমাদের দেশে হাতে গোনা যে কয়েকজন গুণী নির্মাতা আছেন, কিসলু গোলাম হায়দার তাদেরই একজন। তার ধ্যান-জ্ঞান সবই ফিল্ম কেন্দ্রিক। তার নির্মিত বিজ্ঞাপণচিত্রের সংখ্যা সঠিকভাবে তিনিই বলতে পারবেন। গত ঈদে নির্মাণ করেছেন ফিকশন ‘লাবনী’। এই ফিকশন তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তার সঙ্গে আলাপ হলো মিডিয়া সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে। বাংলাদেশ খবররের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন জিয়াউল জিয়া

 

আমাদের বিজ্ঞাপনচিত্রের মান বিচারে আমরা সব সময় ভারতের সঙ্গে তুলনা করি। এটা কেন? বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণে কারা এগিয়ে?

 কিসলু গোলাম হায়দার : আসলে আমরা পাশাপাশি দেশ। এরপরে আমাদের লাগোয়া ভারতের যে প্রদেশ সেখানকার মানুষ বাংলায় কথা বলে। আরো নানা কারণে সবমিলিয়ে আমরা তাদেরকে আমাদেরই লোক মনে করি। যে কারণে আমরা তাদের সঙ্গে তুলনা করি। কিন্তু, বাস্তবতা হলো আমাদের সঙ্গে তাদের সাংস্কৃতিক পার্থক্য অনেক। সাংস্কৃতিক দিক থেকে তারা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। সঙ্গত কারণেই তারা বিজ্ঞাপণচিত্রেও আমাদের চেয়ে ভালো করছে। ওরা সংস্কৃতিক দিক থেকে এগিয়ে থাকার কারণ, ওরা অনেক আগে থেকেই শিক্ষার সংগে সংযুক্ত হয়েছে। আমরা অনেক পরে।

 

বিজ্ঞাপণচিত্র এখন শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নির্মাণের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সাপোর্ট যা আছে তা কি সন্তোষজনক? 

কিসলু গোলাম হায়দার : নাহ। এক্ষেত্রে আমাদের ঘাটতি রয়েছে। বাইরে যেসব টেকনিক্যাল ইকুইপমেন্ট পাওয়া যায় তার অনেক কিছুই নেই আমাদের। এরকম ইকুইপমেন্টের কথা বলতে গেলে অনেক বলা যাবে। এক্ষেত্রে হয়তো আমাদের আর্থিক সক্ষমতার কমতি আছে। তবে, বিশ্বমানের কাজ করার জন্য ভালো মেকিং সেন্স থাকার পরে এসব ইউইপমেন্টেসের দরকার হয়। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।

 

বিজ্ঞাপনচিত্র নাকি তারকা হবার শর্টকাট পথ? আপনার অভিমত জানতে চাই?

কিসলু গোলাম হায়দার : এটা আমাদের দেশেই শুধু হয়েছে। এখানে একটি প্রোডাক্ট একজন আর্টিস্ট বা মডেলকে প্রোমোট করে। দেশের বাইরে কিন্তু এর চিত্র বিপরীত। সেখানে একজন আর্টিস্ট প্রোডাক্টকে প্রোমোট করে। আজ ভারতে যখন সালমার খান কোনো বিজ্ঞাপন করেন তখন কার প্রোমোশন হয়? অবশ্যই সেই প্রোডাক্টের। আমাদের দেশে বিজ্ঞাপনচিত্র ’তারকা’ তৈরী করে কি না জানি না, কিন্তু পরিচিতি এনে দেয় এটা সত্যি।

 

বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতারা বাজেটের ক্ষেত্রে ঠকছেন কি?

কিসলু গোলাম হায়দার :  একটি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মানের নেপথ্যে একটি প্রোডাক্ট কোম্পানি, একটি এজেন্সি এবং একটি প্রোডাকশন হাউজ কাজ করে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিভাবে লেনদেন হবে সেটা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সরকারি নীতি থাকা উচিত। সেই নীতি আজও তৈরী হয়নি। কোম্পানি শুরুতে এজেন্সী কমিশন দিত ১৫ শতাংশ। সেটা এখন ৫ শতাংশে নেমেছে। এজেন্সী এখন বিজ্ঞাপনের বাজেট কমিয়ে আনছে। ফলশ্রুতিতে প্রোডাক্ট কোম্পানি যে টাকা খরচ করছে তারা চাইতে কম মানের বিজ্ঞাপনাচিত্র পাচ্ছে। যেকারণে, আমরা সবাই ঠকছি। এক্ষত্রে সরকারি নীতিমালা দরকার।

 

সরকারকে এই বিষয়ে অনুরোধ করছেন না কেন?

কিসলু গোলাম হায়দার :  এটা তো আমার একার বিষয় না। এর জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। এই বিষয়টা নিয়ে কেউ হয়তো সেভাবে ভাবছেন না।

 

ফিকশনে আসতে এতো বিলম্ব কেন?

কিসলু গোলাম হায়দার :  এটা কিন্তু আমার দ্বিতীয় ফিকশন। এর আগে যেটা করেছিলাম তার শিরোনাম ছিলো ‘বাতাসের খাঁচা’। ওই নাটেকের মাধ্যমে ইরেশ জাকের আত্নপ্রকাশ করেন। কিন্তু ওই ফিকশনটা করার পরে মনে হয়েছিল যে, আমি ফিকশন নিয়ে যেভাবে ভাবি সেরকম করতে পারিনি। আর সেই সময় বিজ্ঞাপন নিয়ে আমি ভীষণ ব্যস্ত ছিলাম। ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না। এই সময়ে মনে হলো ফিকশন করবো। সময়ও ছিলো হাতে। তাই করলাম।

 

ফিকশন নিয়মিত নির্মাণ করবেন?

কিসলু গোলাম হায়দার :  হ্যা। যদি ব্যাটে-বলে হয়।

 

সিঙ্গেল নাটক নাকি বিলুপ্ত হয়ে যাবে?

কিসলু গোলাম হায়দার : সিঙ্গেল নাটক থাকার দরকার কি? এখন তো শুধু টেলিভিশনই নাটক প্রদর্শনের একমাত্র মাধ্যম না। তাই নাটকের ব্যাপ্তি এখন বাড়বে। এর একটা ভালো দিক হচ্ছে গল্প বলার সময় তাড়াহুড়া থাকবে না। যে গল্প যেভাবে আগে বাড়া উচিত সেভাবেই আগে বাড়বে।

 

আমাদের দেশে ওয়েব সিরিজ নির্মানের ক্ষেত্রে স্ক্রিপ্টের স্বাধীনতা কতটুকু?

কিসলু গোলাম হায়দার :  এটা নিয়ে ভাবার বিষয় রয়েছে। আসলেই আমরা নানা কারনে সব গল্প দেখানোর স্বাধীনতা রাখি না। এর কারণ, আমরা সাংস্কৃতিকভাবে বেড়ে উঠিনি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রচেষ্টাও চোখে পড়ে না। তবে, গল্প বলার স্বাধীনতা না থাকলে ভালো প্রোডাকশন আশা করা যায় না।

 

মধ্যবিত্ত শ্রেনীকে সিনেমায় ফেরানোর উপায় কি?

কিসলু গোলাম হায়দার : প্রথমত ভালো মানের সিনেমা নির্মান করতে হবে। ভালো মানের সিনেমা বলতে গেলে ভালো বাজেটের প্রসঙ্গ চলে আসে। আমি নিজে নিজে একটা স্টাডি করে দেখেছি যদি 5 শতাংশ দর্শককেও হলে ফেরানো যায় তবে একটি ছবি ৫০ কোটি টাকা ব্যবসা করতে পারে। যে কারণে, ভালো ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকছে না। আর ভালো ছবি হলে দর্শক এমনিতেই হলে ফিরবে। কারণ, বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম সিনেমা। হলে বসে সেটা দেখার আনন্দই আলাদা।

 

আপনার সিনেমা নির্মাণের ইচ্ছে কবে নাগাদ?

কিসলু গোলাম হায়দার : সিনেমা নির্মাণের স্বপ্ন বা ইচ্ছে থেকেই তো অন্য সব করা। কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ করিনি। ফিকশনের মতো ব্যাটে বলে হলেই বানিয়ে ফেলবো।

 

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সময় দেওয়ার জন্য?

কিসলু গোলাম হায়দার : তোমাকে এবং বাংলাদেশ খবর পরিবারের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads