• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ আশ্বিন ১৪২৮

শোবিজ

প্রীতিলতার আত্মা আমার উপর ভর করেছে : পরীমনি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২৩ জুলাই ২০২১

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ক্ষুদিরাম বসু, মাস্টারদা সূর্য সেনের নামের সাথে আরও একটি অগ্নিক‍ন‍্যার নাম উচ্চারিত হয়। তিনি ইতিহাসের প্রথম বিপ্লবী নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। প্রীতিলতা মানেই অগ্নিকন‍্যা, প্রীতিলতা মানেই বিপ্লবী নারী, প্রীতিলতা মানেই নারী শক্তির আত্মপ্রকাশ। বিপ্লবী এই নারীকে নিয়ে তৈরী হয়েছে বিভিন্ন চলচ্চিত্র। ১৯৮০ সালে কলকাতার নির্মাতা নির্মল চৌধুরী প্রথম নির্মাণ করেন ‘চট্টগ্রাম অস্ত্রগার লুন্ঠন’। এই ছবিতে প্রীতিলতার রুপে হাজির হয় বনানী চৌধুরী।

২০১০ সালে ‘খেল হাম জি জান সে’ চলচ্চিত্রে আবারও প্রীতিলতা রুপে দেখা যায় বিশাখা সিং কে। বাংলাদেশে এই প্রথম বিপ্লবী নারী শহীদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কে নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র ‘প্রীতিলতা’। গোলাম রাব্বানীর রচনায় সিনেমাটির পরিচালনা করছেন তরুণ নির্মাতা রাশিদ পলাশ।

সময়ের জনপ্রিয় গ্লামারগার্ল পরীমনি কে দেখা যাবে বিপ্লবী প্রীতিলতা চরিত্রে। প্রীতিলতা রুপে ফুটিয়ে তোলার চ‍্যালেঞ্জিং কাজটি করেছেন দেশের অন‍্যতম জনপ্রিয় এবং আন্তর্জাতিক খ‍্যাতি সম্পন্ন ফ‍্যাশন ডিজাইনার ও কোরিওগ্রাফার বিপ্লব সাহা।

গত ১৯ জুলাই প্রীতিলতার লুক সেট ও লুক টেস্টের আয়োজন করেছিলেন সিনেমাটির নির্মাতা প্রতিষ্টান ইউফরসি। ক‍্যারেক্টার প্রেজেন্টেশন আর্ট ডিরেকশন, স্টাইলিং ও কোরিওগ্রাফি তে ছিলেন বিপ্লব সাহা। ক‍্যানভাস স্টুডিওতে এই ফটোশুট করেন ফটোগ্রাফার অনিক চন্দ।

চিত্রনায়িকা পরীমনি বলেন, দাদার (বিপ্লব সাহা) হাতে জাদু আছে। সত্যি নিজেকে দেখে নিজেই চিনতে পারছিলাম না। শুটের আগে কিছুটা টেনশনে ছিলাম। এখন মনে হচ্ছে আমি একজন বিপ্লবীকে নিজের মধ্যে ধারণ করে ঘুরে বেড়াছি। মনে হচ্ছে প্রীতিলতার আত্মা আমার উপর ভর করেছে।

সিনেমার রচয়িতা গোলাম রাব্বানী এবং পরিচালক রাশিদ পলাশ বলেন, দাদা (বিপ্লব সাহা) ছাড়া এই কাজ আমাদের জন‍্য অসম্ভব ছিল। বিশেষ করে পরীমনিকে প্রীতিলতা লুকে ফুটিয়ে তোলাটা সম্ভব ছিল না।

প্রীতিলতা প্রসঙ্গে দেশ নন্দিত ফ‍্যাশন ডিজাইনার ও কোরিওগ্রাফার বিপ্লব সাহা বলেন, হঠাৎ ৪ দিন আগে রঞ্জু আমাকে ফোন করে প্রীতিলতা মুভির পোস্টার করার কথা বলে। প্রায় দুই বছরে করোনা পরিস্থিতির লকডাউনের কারণে নানান বিষয় নিয়ে কোন কাজ ঠিক ভালোমতো করা হয়ে ওঠে না। যতটুকু করি মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। কারণ সৃষ্টিশীল যেকোন কাজে মানসিক প্রশান্তি টা খুব জরুরী। কিন্তু রঞ্জু সহ প্রীতিলতা টিম নাছোড়বান্দা কাজটা আমাকে করতেই হবে। প্রীতিলতা এত সিরিয়াস একটা বিষয় যে আমি কোন ভাবেই নতুন করে কোন কাজের প্রেসার নিতে চাইছিলাম না। একদিকে প্রীতিলতা অন্যদিকে পরীমনি। দুইজনের কাউকেই আমি জীবনে কোনদিন সামনে থেকে স্বচক্ষে দেখিনি। সেজন্য মন থেকে কোনো ভাবেই সায় দিচ্ছিল না এই কাজটি করার জন‍্য। ঈদের আগে শেষ কয়টা দিন বিশ্বরঙে অনেক ব্যস্ততা থাকে। তারপর ১০০ বছর আগের গল্প। সাজ পোশাক এক্সপ্রেশন। অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে হবে। শেষ পর্যন্ত ফটোশুটের ডেট নির্দিষ্ট করা হলো। প্রীতিলতা টিম রেফারেন্স ছবিটি দিয়ে তাদের একটাই কথা ছবির মত হুবহু চাই। মাত্র ২ দিনে ১০০ বছর আগের শাড়ি-ব্লাউজ গয়না কোথা থেকে জোগাড় করবো।

যেহেতু আমি আমার দেশীয় ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি এবং শেষ ২৫ বছরে নানা রকমের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ক্যারেক্টার প্রেজেন্টেশনের জন্য অনেক কাজ করা হয়েছে। যার জন্য কাজটা করতে কিছুটা সহজ হয়েছে। কিন্তু প্রীতিলতার মতো সাহসী শক্তিমান বলিষ্ঠ মুখমণ্ডল কে বর্তমান চলচ্চিত্রের সব চাইতে গ্ল্যামার মুখ পরীমনির মধ্য থেকে বের করে আনতে হবে এ যেন আরেক অগ্নিপরীক্ষা। আমার যত সৃষ্টিশীল কাজ তার বেশিরভাগই আমি আমার নিজের ইচ্ছায় ও প্রয়োজনে করে থাকি। সেটার আনন্দের জায়গাটা ভিন্ন। এমনিতে নতুন প্রজন্মের কাউকে নিয়ে কাজ করতে কেন জানিনা খুব একটা আরাম বোধ করিনা। সব সময় এক প্রকার শঙ্কা ও ভয় কাজ করে থাকে। কিন্তু মিরপুর পারসোনাতে পৌঁছানোর পর শেষ করা পর্যন্ত নতুন এক পরীমনি কে আবিষ্কার করেছি। একজন ডিরেক্টর হয়তো এমন শিল্পী খোঁজেন সব সময়। প্রীতিলতা টিমের প্রত্যেকটি মানুষের আন্তরিকতাও খুব সুন্দর একটা স্মৃতি রয়ে গেল প্রীতিলতার এই পোস্টারের সাথে।

 

প্রীতিলতা রূপে পরীমনি

 

চরিত্র: প্রীতিলতা

অভিনয়ে: পরীমনি

ক্যারেক্টার প্রেজেনটেশন, আর্ট ডিরেকশন, স্টাইলিং ও কোরিওগ্রাফি: বিপ্লব সাহা

স্থিরচিত্র: অনিক চন্দ্র

পোশাক: বিশ্বরঙ

মেকআপ: পারসোনা

স্টুডিও: ক্যানভাস

নির্মাতা: রাশিদ পলাশ

সংলাপ ও চিত্রনাট্য: গোলাম রাব্বানী

এক্সিকিউটিব প্রডিউসার: রঞ্জু চৌধুরী

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads