• শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

বাণিজ্য

বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা

  • এম এ বাবর
  • প্রকাশিত ২২ মে ২০২১

উপ-আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে শুরু হচ্ছে ঢাকা-সিলেট করিডর মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পের কাজ। ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও চীনসহ ছয়টি দেশ নিয়ে গঠিত দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) বাড়াতে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে।

এডিবির (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) অর্থায়নে আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যে শুরু হয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে। ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডর সড়ক উন্নয়ন’ শীর্ষক এ প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এডিবির কাছ থেকে ঋণ মিলবে ১৩ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। বাকি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

প্রকল্প সূত্র জানায়, টেকসই সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী জাতীয় মহাসড়কের উভয় পাশে সার্ভিস লেন করার পাশাপাশি বিদ্যমান সড়কগুলো ক্রমান্বয়ে চার লেনে উন্নীত করার মহা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই মহা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এডিবির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দেশব্যাপী এক হাজার ৭৫২ কিলোমিটার মহাসড়কের সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এই সমীক্ষার আওতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটিও রয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়, উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ বিশেষ করে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও চীনসহ ছয়টি দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সড়কটি উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে যোগাযোগের প্রধান করিডর হওয়ায় প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি একনেক এ প্রকল্পটি পাস করে। এরই মধ্যে এর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

আলাদা সার্ভিস লেনসহ সড়ক নির্মাণে অতিরিক্ত ৯৮৬ দশমিক ৪৭ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। এ জন্য ব্যয় হবে চার হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণে কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত ইউটিলিটিও স্থানান্তর করা হবে, নির্মাণ করা হবে ৩২১টি আরসিসি কালভার্ট। কালভার্টগুলোর মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় এক হাজার ৩৮১ মিটার। ছোট-বড় ৭০টি ব্রিজসহ থাকবে। থাকবে পাঁচটি রেলওয়ে ওভারপাস।

এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট মূল সড়কের উভয় পাশে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন নির্মিত হবে। বাঁক সরলীকরণসহ অধিক মাত্রার ট্রাফিক বিবেচনায় এনে ৮০ কিলোমিটার গতিবেগ নিশ্চিত করা হবে। শিল্প ও বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে এশিয়া হাইওয়ে নেটওয়ার্ক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত দেশের জোট ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (বিমসটেক) করিডর, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) করিডরসহ আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে চার লেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। চার লেন বিশিষ্ট মহাসড়কের উভয় পাশে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রশস্ত করাসহ প্রকল্পের আওতায় ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, ৭টি ফ্লাইওভার/ওভারপাস, ৬টি রেলওয়ে ওভারপাস থাকবে।

প্রকল্প শুরুর এলাকা কাঁচপুর থেকে সিলেটের মোট দূরত্ব ২২৩ দশমিক ১২৮ কিমি। এর মধ্যে ১১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত। এর উন্নয়ন এলওসির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার  দীর্ঘ ভৈরব ব্রিজ বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ২০৯ দশমিক ৩২৮ কিলোমিটার প্রকল্পের ব্যপারে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. মনমোহন প্রকাশের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এডিবি প্রকিউরমেন্টের অনুমোদন দিয়েছে। তারা আমাদের বলেছে প্রকিউরমেন্ট শেষ করে প্রসেস শুরু করতে পারি। এ প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই।

প্রকল্পের অর্থায়নের ব্যপারে তিনি জানান, প্রতিটি প্রকল্পে একটা মেসিং মানি থাকে। অর্থায়নটা বেশির ভাগই এডিবি করবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগের বাজেট থেকে পরিবর্তন হয়েছে। কারণ আগের নকশায় সার্ভিস লেন এক পাশে ছিল, আরেক পাশে ছিল না। তার পর এতগুলো ওভারপাস, আন্ডারপাস, ব্রিজ আগেরটায় ছিল না। যে কারণে এখন নতুন করে নকশা করতে হয়েছে। আগে ২১৫ কিলোমিটার ছিল, এখন সেটা ২০৯ দশমিক ৩২৮ কিলোমিটার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads