• সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ৪ জৈষ্ঠ ১৪২৮

আবহাওয়া

কুয়াশার চাদরে জেঁকেছে শীত

শৈত্যপ্রবাহ থাকবে আরো কয়েকদিন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৪ জানুয়ারি ২০২১

সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। কিছু কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে দিনের অনেকটুকু সময়। ছন্দপতন ঘটছে স্বাভাবিক জীবনের। শীতের তীব্রতার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। গত সপ্তাহের তুলনায় রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ১৫ ভাগ বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। শিশু হাসপাতালে খালি নেই একটি শয্যাও। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির পর ঘন কুয়াশায় সর্বত্র শীতের অনুভূতি বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরো অন্তত দুদিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকবে বলে আভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। গতকাল শনিবার দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় শ্রীমঙ্গলে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেঁতুলিয়ায় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি ও রাঙ্গামাটিতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। এসময় ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ জানান, রাঙামাটি, শ্রীমঙ্গল ও পঞ্চগড় অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। এই তিন অঞ্চল ছাড়াও সারা দেশেরই তাপমাত্রা কমে গেছে। মাত্র দুটি অঞ্চল বাদে দেশের সব অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। ফলে সব অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ না থাকলে দেশজুড়ে শীত জেঁকে বসেছে। গতকাল সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টার পরের তিনদিন রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এদিকে কনকনে বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জেঁকে বসা শীতে রাজধানীসহ সারা দেশে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টের মতো শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় হু হু করে বাড়ছে হাসপাতালে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর হাসপাতালগুলো। শুক্রবার গিয়ে দেখা যায় ৬৬৪ শয্যার ঢাকা শিশু হাসপাতালের একটিও খালি নেই। অনেক রোগীকে শয্যার অভাবে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে অন্য হাসপাতালে। অন্যদিকে দিনের বেলায় সন্ধ্যার আবহ সৃষ্টি হয়েছে রংপুরে। কুয়াশার চাদরে ঢাকা চারপাশ। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়া উত্তরের জনপদ তীব্র শীত কাবু। দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় শীতবস্ত্রের অভাবে নওগাঁর ছিন্নমূল মানুষের কষ্টটা একটু বেশিই। সরকারের পক্ষ থেকে তাই গরম কাপড় দেবার অনুরোধ জানিয়েছেন রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঠাঁই নেওয়া অসহায় মানুষ।

এছাড়া চলতি বছরও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। শ্রীমঙ্গলে গত বুধবার তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি চলতি বছর এ পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। পরদিন বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ছিল সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শুক্রবার ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগি সেলসিয়াস।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ১ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এর আগে ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গলে ৫ ডিগ্রি এবং ২০০৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি লেসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ২০০৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড করা হয় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়াও ১৯৯৫ সালের ৪ জানুয়ারি এবং ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads