• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮
বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সাইমন ড্রিং আর নেই

সংগৃহীত ছবি

বিদেশ

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সাইমন ড্রিং আর নেই

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২১ জুলাই ২০২১

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং আর  নেই। গত ১৬ জুলাই শুক্রবার রোমানিয়ার একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় তিনি মারা যান। সাংবাদিক সাইমন ড্রিংয়ের বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন।
রয়টার্স, টেলিগ্রাফ ও বিবিসির হয়ে সাইমন ড্রিং দীর্ঘদিন কাজ করেছেন বৈদেশিক সংবাদদাতা, টেলিভিশন উপস্থাপক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে।

সাইমন ড্রিং একমাত্র সাংবাদিক, যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের ভয়াবহতা ও নৃশংসতার শুরু থেকেই প্রতিবেদন করেছিলেন। বাংলাদেশে তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেয়া হয়।

তিনি বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্টার অব দ্য ইয়ার-১৯৭১। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বন্ধু হিসেবে ২০১২ সালে সাইমন ড্রিংকে সম্মাননা দেয় সরকার।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সায়মন ড্রিং ৬ মার্চ কম্বোডিয়া থেকে ঢাকায় আসেন। তখন তিনি দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি উঠেছিলেন ঢাকার শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী হত্যাযজ্ঞ শুরু করার আগেই ঢাকায় সে সময় অবস্থানরত সব বিদেশি সাংবাদিককে ওই হোটেলে অবরুদ্ধ করে ফেলে। সেনা কর্তৃপক্ষ তাদের বলে, শহরের পরিস্থিতি খুব খারাপ, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের হোটেলের ভেতরেই অবস্থান করতে হবে। পরদিন সকালেই তাদের বিমানবন্দরে নিয়ে তুলে দেয়া হয় উড়োজাহাজে। কিন্তু পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ সাইমন ড্রিংকে খুঁজে পায়নি। 

তিনি প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে হোটেলেই লুকিয়ে ছিলেন। ২৭ মার্চ সকালে কারফিউ উঠে গেলে হোটেলের কর্মচারীদের সহযোগিতায় ছোট্ট একটি মোটরভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে দেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হল, রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাক ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা। এরপর ‘ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান’ শিরোনামের এক প্রতিবেদন লেখেন। লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ৩০ মার্চ সেটা ছাপা হয়। যাতে গণহত্যার বিস্তারিত ওঠে আসে। এই প্রতিবেদন থেকেই বিশ্ববাসী জানতে পারে পাকিস্তানি বাহিনীর সেদিনের বর্বরতার কথা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের প্রাথমিক মুহূর্ত ছিল সেটি।

৩০ মার্চ সাইমন ড্রিংকে লন্ডন চলে যেতে হয়। এরপর কলকাতায় আসেন নভেম্বরে। সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধের খবরাখবর সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিতেন লন্ডনের টেলিগ্রাফ পত্রিকায়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে তিনি মিত্রবাহিনীর সঙ্গে ট্যাংকে চড়ে ময়মনসিংহ হয়ে মুক্ত বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করেন।

সাইমন ড্রিংয়ের জন্ম ইংল্যান্ডে ১৯৪৫ সালে। তিনি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন ১৮ বছর বয়স থেকে। দেখেছেন ২২টি যুদ্ধ, অভ্যূত্থান ও বিপ্লব। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নানা দেশের অসংখ্য সহমর্মী মানুষ। যুদ্ধের মাঠে, রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে, শরণার্থীশিবিরে, প্রতিবাদে বা জনমত গঠনে কঠিন সেই সময়ে তারা ভূমিকা রেখেছেন। তাদের একজন সাইমন ড্রিং।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads