• শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
গেমস রেকর্ডগুলো কি আন্তর্জাতিক মানের

সংগৃহীত ছবি

অ্যাথলেটিকস

গেমস রেকর্ডগুলো কি আন্তর্জাতিক মানের

  • তারিক আল বান্না
  • প্রকাশিত ০৫ এপ্রিল ২০২১

বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসের এবারের আসরে অনেক জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের মিডিয়াগুলোতে এসব রেকর্ড ফলাও করে প্রচার পেয়েছে। কিন্তু এই রেকর্ডগুলো বাংলাদেশের ক্রীড়ার আন্তর্জাতিক মান বাড়াতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে সংশয় আছে। আর এসব যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব যাদের, সেই বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) কি বিষয়টি আমলে নিয়েছে, প্রশ্ন সেটাই।

১৯৭৮ সাল থেকে আয়োজন হয়ে আসছে বাংলাদেশ গেমস। এবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপিত হচ্ছে বলে নাম দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস। ৪৩ বছর ধরে গেমসে শত শত জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বিশ্ব ক্রীড়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সেই তলানিতেই। যার প্রমাণ আমরা দেখি বিশ্ব অলিম্পিক প্রতিযোগিতায়। আমাদের যে ক্রীড়াবিদরা বাংলাদেশ গেমস সাঁতারে পুল কাঁপিয়ে দিচ্ছেন, তাদের বিশ্ব অলিম্পিকের বাছাই পর্বে হাবুডুবু খেতে দেখা যায়। মূল পর্বে অংশগ্রহণের সৌভাগ্য আর হয় না। একই অবস্থা স্প্রিন্ট, লংজাম্প, হাইজাম্প, গোলক নিক্ষেপ, হকি, ফুটবল, শুটিং ইত্যাদি খেলাগুলোতেও লক্ষ করা যায়। ক্রীড়াবিদরাও বাংলাদেশ গেমসে সাফল্য লাভের পর বিশ্ব আসর নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা শোনান। অথচ সেসব স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়।

আসলে বাংলাদেশ গেমসের কোনো দোষ নেই। গেমসের সূচনা হয় অলিম্পিক গেমসে যাতে ভালো করা যায়, সে লক্ষ্যেই। তবে লক্ষ্য পূরণের পরিকল্পনা ও সাধনাই তো হয় না। বিওএ কর্মকর্তারা হয়তো একটি বাংলাদেশ গেমস শেষ হলে সেটাকে নিয়ে আর সময় ব্যয় করার সময়ই পান না। বাংলাদেশ গেমসের উদ্দেশ্য যে পূরণ হয় না, সেটা আমরা নিয়মিত দেখে আসছি। এবারের গেমসে পুরুষ বিভাগের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে মোহাম্মদ ইসমাইল ১০.৫০ সেকেন্ডে দূরত্ব অতিক্রম করে স্বর্ণপদক জয় করেন এবং দেশের দ্রুততম মানব উপাধি অক্ষুণ্ন রাখেন। একইভাবে মহিলা বিভাগে শিরিন আখতার ১১.৬০ সেকেন্ডে দূরত্ব পার হয়ে স্বর্ণ জেতেন, হন দেশের দ্রুততম মানবী। শিরিন ও ইসমাইলের ছবি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে আর তাদের দৌড়ের ভিডিও বিভিন্ন টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়েছে। এমনকি অনেক মিডিয়ায় তাদের সাক্ষাৎকারও প্রচার হয়েছে বা হচ্ছে। কিন্তু তারা বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পুরুষ ও নারীর তুলনায় যে কতটা পিছিয়ে তার হিসাব কি আমাদের জানা আছে? সর্বশেষ বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে পুরুষ বিভাগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোলম্যান ৯.৭৬ সেকেন্ডে দূরত্ব অতিক্রম করে স্বর্ণ জেতেন। আর নারী বিভাগে জ্যামাইকার শেলি অ্যান ফ্রেজার প্রাইস ১০.৭০ সেকেন্ডে দূরত্ব অতিক্রম করে শিরোপা লাভ করেন। আমাদের ইসমাইলের সঙ্গে কোলম্যানের দল পার্থক্য (১০.৫০- ৯.৭৬) দশমিক ৭৪ সেকেন্ড। দশমিক ৭৪ সেকেন্ড  মানে এক সেকেন্ডেরও কম সময়। সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হবে এই পার্থক্য খুব বেশি নয়। কিন্তু দশমিক ৭৪ সেকেন্ডের মধ্যে আসলে বিস্তর ব্যবধান। কারণ অলিম্পিক কিংবা বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের হিটে দেখা যায়, কোলম্যান হয়তো প্রথম ৫ জনের ভেতর রয়েছেন, কিন্তু আমাদের ইসমাইলরা হিটে লাভ করেন ৯০/১০০ তম স্থান। আবার শিরিন ও শেলি অ্যানের (১১.৬৯-১০.৭০) পার্থক্য দশমিক ৯৯ সেকেন্ডকে মনে হবে সেটাও তো খুব বেশি নয়। কিন্তু অলিম্পিক বা বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের হিটে ওই দশমিক ৯৯ এর মধ্যেও প্রায় ১০০ ক্রীড়াবিদ অবস্থান করেন। দেখা যায়, শিরিন হিটেই বাদ পড়েন নতুবা নব্বইয়ের আশপাশে স্থান পেয়েছেন। এটা তো শুধু স্প্রিণ্টের হিসাব। সাঁতার, দূরপাল্লার দৌড়, শুটিং, গোলক নিক্ষেপ, লংজাম্প, হাইজাম্পসহ সব ইভেন্টে আমাদের ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানের ক্রীড়াবিদদের ওই একই পার্থক্য লক্ষ করা যায়। কেন এত পার্থক্য, কীভাবে তা কমানো যায়, এসব খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে বিওএ কর্মকর্তাদের। বিওএ কর্মকর্তারা দীর্ঘ ৪৩ বছরেও (প্রথম বাংলাদেশ গেমস ১৮৭৮ সালে) বোঝেননি, আগামী ১০০ বছরেও তা বুঝবেন বলে মনে হয় না।

যদি গেমসের রেকর্ড ও সাফল্যগুলো আন্তর্জাতিক আসরে কোনো ভূমিকাই রাখতে না পারে, তাহলে এত টাকা ব্যয় করে তার আয়োজনের কী দরকার আছে? অনেকেই একবাক্যে বলবেন, প্রয়োজন নেই। কিন্তু এর প্রয়োজন রয়েছে। ওপরে ওঠার প্রথম সিঁড়ি এই বাংলাদেশ গেমসই। আমাদের যা দরকার তা হলো, গেমসে যারা কৃতিত্ব দেখান তাদের সঠিক পরিচর্যার আওতায় আনা। সেটা করার ইচ্ছে থাকলে এবং করতে পারলে অবশ্যই বাংলাদেশ অলিম্পিক ও বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে ভালো করবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads