• বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪২৯

পুঁজিবাজার

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দর কমেছে অধিকাংশ শেয়ারের

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ০৯ জুলাই ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কয়েক বছর ধরে মন্দায় কেটেছে দেশের পুঁজিবাজার। চলতি বছরের প্রথম দিকে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়া হলেও জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপড়েন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি এবং সম্প্রতি নতুন অর্থবছরের বাজেটে করারোপসহ নানা বিষয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। এতে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দর কমেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের। এতে লোকসান গুনার পাশাপাশি পুঁজিবাজার ছাড়ার প্রবণতাও বাড়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৪১২টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৪৬টি দর কমেছে। অর্থাৎ দর কমেছে ৮৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ফান্ডের। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন হয়েছে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের, ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন হয়েছে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের এবং ৬০ শতাংশের বেশি আটটি প্রতিষ্ঠানের।

পতনের তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে জিএসপি ফাইনান্সের। এছাড়া আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারদর কমেছে ৬৭ দশমিক ৭০ শতাংশ, এইচ আর টেক্সটাইলের দর কমেছে ৬৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের দর কমেছে ৬৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের দর কমেছে ৬২ দশমিক ৭৬ শতাংশ, ফনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের দর কমেছে ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, রিং সাইন টেক্সটাইলের দর কমেছে ৬২ দশমিক ২৯ শতাংশ ও ফরচুন সুজের শেয়ারদর কমেছে ৬০ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, দীর্ঘদিন ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকায় পুুঁজিবাজারে মূল্যসংশোধন হবে তা প্রত্যাশিত ছিল। তবে তা ছয় মাস ধরে অব্যাহত থাকবে, তা কাম্য ছিল না। এ সময়ে ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়নসহ সামষ্টিক অর্থনীতির প্রভাবে পুঁজিবাজার নেতিবাচক ছিল। এছাড়া বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল না। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে বাজারের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

এদিকে পুঁজিবাজারের বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড বা সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ৩০ জুন শেষে দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ারসহ বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ লাখ পাঁচ হাজার ৭৫১টি। চলতি বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি শেয়ারসহ বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ পাঁচ হাজার ১৩১টি। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে ৯৯ হাজার ৩৮০টি বিও হিসাবে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা।


যদিও এই সময়ে সক্রিয় বিও হিসাব বেড়েছে এক হাজার ৫৯৫টি। গত ৩০ জুন পুঁজিবাজারে সক্রিয় বিও হিসাব দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ১৪৬, যা চলতি বছরের প্রথম দিনে ছিল ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫১টি।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিনিয়োগকারী তার বিও হিসাব থেকে সব শেয়ার বিক্রি করে দিলে ওই হিসাব শেয়ারশূন্য বিও হিসেবে থাকার কথা। তাতে শেয়ারসহ বিও হিসাব যত কমবে, শেয়ারশূন্য বিও তত বাড়বে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেটি ঘটেনি। কারণ শেয়ার বিক্রি করে দেয়া বেশিরভাগ বিও হিসাব বন্ধ হয়ে গেছে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে পুঁজিবাজার মন্দাভাব চলছে। ফলে হতাশ বিনিয়োগকারীরা বাজার ছাড়ছেন সুযোগ পেলেই। দীর্ঘদিন শেয়ারের ওপর ফ্লোর প্রাইস আরোপ থাকায় বিনিয়োগকারীরা চাইলেও শেয়ার বিক্রি করতে পারেননি। কিন্তু গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে এই ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়া হয়। এতে বাজারে দরপতন শুরু হলেও বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। এ সুযোগে অনেক বিনিয়োগকারী লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে হলেও বাজার ছেড়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া বাজারে নতুন আইপিওর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিনিয়োগকারীরা একাধিক অ্যাকাউন্ট সচল রাখতেন। কিন্তু বাজারে নতুন আইপিও আসার হার কমেছে যাওয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছেন। এছাড়া মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে মানুষ সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন। যেহেতু পুঁজিবাজারে অর্থ তারল্য আকারে থাকে, তাই মানুষ পুঁজিবাজারে থেকে অর্থ তুলে নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইফরমেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আল আমীন শেয়ার বিজকে বলেন, ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ায় বাজারে আটকে থাকা শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল। টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার ছেড়েছে। এছাড়া ব্যাংক সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে পুঁজিবাজার ছাড়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। বাজেটে ক্যাপিটার গেইনের ওপর কর আরোপের খবরেও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন যাবৎ নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এসেছে। বাজারের বর্তমান ধারা স্থায়ী হলে পরবর্তী দিনগুলোয় বাজার ইতিবাচক হবে বলে আশা করা যায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads