• মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
কুলাউড়ার বরমচাল স্টেশনে থামবে চারটি আন্ত:নগর ট্রেন

ছবি: বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

কুলাউড়ার বরমচাল স্টেশনে থামবে চারটি আন্ত:নগর ট্রেন

  • কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী ও রেল যাত্রীরা। বরমচাল রেলওয়ে স্টেশনে এখন থেকে ৪টি আন্ত:নগর ট্রেন দাঁড়াবে এমন খবরে স্থানীয়রা মিষ্টি বিতরণ করছেন একে অন্যের মাঝে। স্থানীয়রা মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর বরমচাল রেলওয়ে স্টেশনে আন্ত:নগর ট্রেন যাত্রাবিরতি করলে প্রাণ ফিরবে স্টেশনটির।

রেল কর্তৃপক্ষ সূত্র থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারী থেকে ঢাকা ও সিলেটগামী উপবন এক্সপ্রেস,চট্টগ্রামগামী উদয়ন ও সিলেটগামী পাহাড়িকা আন্ত:নগর এক্সপ্রেস ট্রেন বরমচাল স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেবে।

বরমচাল স্টেশন থেকে প্রতিদিন বরমচাল, ভাটেরা, ভুকশিমইল, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়ন, রাজনগরের মুন্সিবাজার এলাকার অনেক যাত্রী বিভিন্ন প্রয়োজনে এ স্টেশন থেকে যাতায়াত করেন। দেশের অন্যতম গ্যাস এর খনি, পেট্টো বাংলা, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, চা-বাগান, রাবার বাগানসহ বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এই অঞ্চলে অবস্থিত। কিন্তু যাতায়াতের জন্য একমাত্র সড়ক ছাড়া মানুষ অসহায়। তাই নানা বিরম্বনা, দুর্ভোগ কাটিয়ে বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হতো এখানকার মানুষের। তাই এখানকার মানুষের প্রাণের দাবি ছিলো অন্তত দুই একটি আন্ত:নগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি। যাতে করে মানুষ নিশ্চিন্তে, নিরাপদে দুরবর্তী স্থানে যাতায়াত করতে পারে সহজে।

স্থানীয় আব্দুর রউফ চৌধুরী তুতি, আনার উদ্দিন, সাংবাদিক কামাল হাসান, তাজ খান, হেলাল খান, আব্দুল জহুর ডেন, তাজুল ইসলাম সাইকুল, হুছনুল আমিন চৌধুরী ফাজু, এজাজ কবির দিপু, আবুল হোসেন খসরু জানান, ‘আমরা উচ্ছ্বসিত, আনন্দিত’। যৌক্তিক এদাবি দাবি বাস্তবায়নে স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক সাইদুল হাসান সিপন, শাকির আহমদ উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের দাবি পূরণ হয়েছে, এখন মানুষের কষ্ট লাগব হবে।’ 

বরমচাল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজাহান বলেন, ‘বরমচালবাসীর দাবি পূরণ করায় মাননীয় রেলপথ মন্ত্রী মো নূরুল ইসলাম সুজন এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মো শাহাব উদ্দিন-সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বরমচালের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইছহাক চৌধুরী ইমরান বলেন, ‘এটা ছিলো বরমচালের দীর্ঘ দিনের দাবি। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু আন্তঃনগর ট্রেনের অভাবে মানুষ কষ্ট করে যাতায়াত করতো। এখন তাঁদের সেই কষ্ট লাগব হবে।’

যাত্রাবিরতির তথ্য নিশ্চিত করে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের টিআইটি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী ১০ জানুয়ারী থেকে এই যাত্রাবিরতি কার্যকর হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন কুলাউড়ার বরমচাল এলাকায় দুর্ঘটনাকবলিত হয় ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন উপবন। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৪ জন। আহত হন দুই শতাধিক যাত্রী। এরপর ২৬ জুন সেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শণ শেষে বরমচালের এক জনসভায় রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, এমপি'র কাছে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চেয়ে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন স্থানীয়রা। পরে তিনি তাঁর বক্তব্যে স্থানীয়দের দাবি মেনে নিয়ে ঘোষণা দেন, ‘সিলেট-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের দুইটি আন্তঃনগর ট্রেন বরমচাল রেল স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে।'

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads