• সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ৪ জৈষ্ঠ ১৪২৮
রাতারাতি বাড়ল বিমানভাড়া

সংগৃহীত ছবি

যোগাযোগ

রাতারাতি বাড়ল বিমানভাড়া

  • রবিউল হক
  • প্রকাশিত ১৭ এপ্রিল ২০২১

কঠোর লকডাউনে প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে আজ থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুর এই ৫টি দেশে সপ্তাহে শতাধিক বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বিশেষ ফ্লাইটের এই সিদ্ধান্তের পরপরই রাতারাতি ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে বেসরকারি বিমান কোম্পানিগুলো। বিশেষ ফ্লাইটের ঘোষণা আসার পর নির্ধারিত ৫টি দেশে জন্য টিকিট প্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জনশক্তি রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘বায়রা’র সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বিমানের ভাড়া বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের খবরে বিমানভাড়া বাড়িয়েছেন বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো। গতকালও আমরা কর্মীদের ভিসার বিপরীতে টিকিটের জন্য খোঁজ নিয়েছি। টিকিট না থাকার অজুহাত দিলেও অতিরিক্ত টাকা দিলে টিকিট দিতে পারবেন বলে জানায় বেসরকারি বিমান কোম্পানিগুলো। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে বিশেষ ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত ৫টি দেশে যাওয়ার জন্য টিকিটপ্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বাড়তি চাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এমনিতেই করোনার কারণে একদফা ভাড়া বাড়িয়েছে বিমান কোম্পানিগুলো। আবার বিশেষ ফ্লাইটের নামে আরেকদফা ভাড়া বাড়ানো হলো। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, এভাবে হঠাৎ করে বিমানের ভাড়া বাড়ানো অন্যায়। এতে বিদেশগামী কর্মীদের বিমানভাড়া বাবদ আরো বেশি অর্থ গুনতে হবে। এ বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখা না হলে বিমান কোম্পানিগুলো শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেবে প্রবাসীদের কাছ থেকে। এছাড়া আমরা রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরাও সমস্যায় পড়ছি। কারণ, প্রত্যেক বিদেশগামী কর্মীর জন্য আমরা বিমানভাড়াসহ নির্ধারিত অভিবাসন ফি নিয়ে থাকি। কিন্তু এখন বিমানভাড়া বেশি নিলে এই অতিরিক্তি টাকা কে দেবে? তিনি বলেন, এ মাসের মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ২০ থেকে ২৫ হাজার কর্মীর ভিসা কনফার্ম করা আছে। এছাড়া সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুর এই ৫টি দেশে আরো প্রায় ৬০ হাজার ভিসা প্রক্রিয়াধীন আছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহষ্পতিবার এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রবাসী কর্মীদের ভোগান্তির বিষয়টি মাথায় রেখে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুর এই ৫টি দেশে প্রতি সপ্তাহে শতাধিক বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভার্চুয়াল এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় মন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংযুক্ত ছিলেন।

আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিসা-আকামার মেয়াদ অনুযায়ী বিমান যাত্রীরা অগ্রাধিকার পাবেন। যাদের ভিসা বা আকামার মেয়াদ আগে শেষ হয়ে যাবে, তাদের বিমান যাত্রী হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সংশ্লিষ্ট দেশের ন্যাশনাল ক্যারিয়ার বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুর যেতে ইচ্ছুক প্রবাসী কর্মীদর মধ্যে যাদের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ইস্যু করা বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স রয়েছে, তাদের বিদেশ গমনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আর প্রবাসীদের মধ্যে যাদের ভিজিট ভিসা আছে, তবে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নেই, তারা বিদেশ গমনে অগ্রাধিকার

রাতারাতি বাড়লো

 

পাবেন না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশগামী যাত্রীদের টিকিটের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যাত্রী পরিবহনের জন্য পরিচালিত বিশেষ ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং চার্জ সাধারণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চার্জের সমপরিমাণ হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিদেশগামী যাত্রীদের পিসিআর টেস্ট নির্বিঘ্নে এবং স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে ফলাফল প্রদান করবে। লকডাউন চলাকালে উল্লিখিত ৫টি দেশ ব্যতীত অন্যান্য দেশে যারা জরুরি প্রয়োজনে যেতে ইচ্ছুক, তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র সাপেক্ষে ট্রানজিট প্যাসেঞ্জার হিসেবে বিশেষ ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে পারবেন। এই ৫টি দেশে বা ট্রানজিট যাত্রীরা এয়ারপোর্টে আসার পথে পাসপোর্ট, ভ্যালিড ভিসা, বিমানের টিকিট, বিএমইটি কার্ড অথবা নিরাপত্তা এজেন্সি কর্তৃক ইস্যুকৃত পাস সঙ্গে রাখবেন। পুলিশ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের বিভিন্ন পয়েন্টে উল্লিখিত ডকুমেন্টধারীদের অভ্যন্তরীণ চলাচলে যথাযথ সহযোগিতা প্রদান করবেন। কাতার ও ওমানে ক্রমহ্রাসমান করোনা সংক্রমণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নিষিদ্ধ দেশসমূহের তালিকা হতে উক্ত দেশ দুটিকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহ দেশে ফিরতে ইচ্ছুক প্রবাসী কর্মীদের লকডাউন চলাকালে দেশে আসার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বাংলাদেশ মিশনের ওয়েব সাইট, নিউজ পোর্টাল ইত্যাদি ব্যবহার এবং কমিউনিটি লিডারদের সহযোগিতা নেওয়া সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা জরুরি প্রয়োজনে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের শর্তে দেশে আসতে পারবেন।  প্রত্যেক যাত্রীকে কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলকভাবে প্রদর্শন করতে হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহ দেশে ফিরতে ইচ্ছুক প্রবাসী কর্মীদের তালিকা প্রস্তুত করবে। বিদেশ হতে ফেরত যাত্রীদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোরেনটাইন নিশ্চিতের জন্য সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ দিয়াবাড়ি, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে। ৫টি দেশ হতে যেসব যাত্রী দেশে আসবেন, তারা বোর্ডিং-এর পূর্বেই কোয়ারান্টাইনের জন্য নির্দিষ্ট হোটেলে বুকিং নিশ্চিত করবেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads