• শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ৬ জৈষ্ঠ ১৪২৯

অপরাধ

অনলাইন সম্মেলনের ঘোষণা

আবারো সংগঠিত হচ্ছে হিযবুত তাহরীর!

  • ইমরান আলী
  • প্রকাশিত ৩০ নভেম্বর ২০২১

অনলাইনে সম্মেলনের ডাক দিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর। আগামী ৩ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেল ৩টায় এ সম্মেলন হবে। ফেসবুকে ‘স্ট্যান্ড ফর খলিফা’ নামক পেজ থেকে এর প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সম্মেলনে ‘পশ্চিমাদের নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার পতন ঘণ্টা’ নামে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ চট্রগ্রাম ও সিলেটে পোস্টারিংও করা হয়েছে। এদিকে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, আবারো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ এ জঙ্গি সংগঠনটি। প্রকাশ্য না আসতে পারলেও মাঝে মধ্যে অনলাইন ও পোষ্টারিং করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার চেষ্টা করছে। অনলাইন সম্মেলনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নড়েচড়ে বসেছে। ডিএমডির কাউন্টার টেরোরিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশন্যাল (সিটিটিসি) এর উপ-কমিশনার আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে জেনেছি। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি।

সূত্র মতে, গত কয়েকদিন আগে স্ট্যান্ড ফর খলিফা নামের একটি পেজ থেকে এ সম্মেলনের ডাক দেয় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযুবত তাহরীর। তারা এটিকে বুস্টও করেছে। পাশাপশি এ পেজ থেকেই প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন উস্কানিমূলক পোস্টের পাশাপাশি রয়েছে ভিডিও। এর আগেও নিষিদ্ধ এ সংগঠনটি অনলাইন সম্মেলনের ডাক দিয়েছিল।

এদিকে অনলাইন সম্মেলন লেখা পোস্টারটির শিরোনাম ‘পশ্চিমাদের নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদীব্যবস্থার বিশ্বব্যবস্থার পতনঘণ্টা’। এরপর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের কিছু মিছিল ও আন্দোলনের ছবি। পোস্টারে ১ম বক্তব্যে লেখা হয় ‘পশ্চিমাদের নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার পতনঘণ্টা ও দালাল শাসক ও রাজনীতিকরা এখন দেউলিয়া’। ২য় বক্তব্যে লেখা হয় ‘আসন্ন খিলাফতের নেতৃত্বে নতুন বিশ্বব্যবস্থা’। ৩য় বক্তব্য হলো - ‘দেশের জনগণের প্রতি দিক-নির্দেশনা।’ হিযুবত তাহরীর উলাইয়াহ্ বাংলাদেশে নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটি তাদের পোস্টারে জানায়, ৩ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেল ৩টায় সম্মেলন।

জানা গেছে, র্যাব পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সক্রিয় থেকে কর্মী সংগ্রহ ও প্রকাশ্য লিফলেট বিতরণ করছে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ এই সংগঠটি। শীর্ষ নেতারা কারাবন্দি থাকলেও মাঠে থাকা কর্মীরা সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সূত্র দাবি করে বলেছে, হিজবুত তাহরীর সব সময়ই তাদের নজরদারির মধ্যে থাকে। তবে এর মধ্যেও গোপনে তাদের কিছু কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে খবর তাদের নিকট রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর উত্তরা, আজমপুর, খিলক্ষেত, বাড্ডা, এয়ারপোর্ট, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, রমনা এলাকায় বর্তমানে হিজবুত তাহরীরের বেশি কর্মকান্ণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এই সকল এলাকায় বিশেষ করে শুক্রবার জুমআর নামাজের পর হিজবুত তাহরীর কর্মীরা ওই এলাকার বিভিন্ন মসজিদে লিফলেট বিতরণ করে। কখনো তারা নিজেরা আবার কখনো ভাড়া করা লোক দিয়ে এই লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এদিকে অনলাইন সম্মেলনের বিষয়টি রাজধানী ঢাকা, চট্রগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় পোষ্টার আকারেও সাঁটানো হয়েছে। 

রাজধানীর উত্তরা, আজমপুর, খিলক্ষেত, বনানী, গুলশান-১, গুলশান-২, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, তুরাগ উত্তরখান, শ্যামপুর, মিরপুর, খিলক্ষেত, দক্ষিণখান, আশুলিয়া, আবদুল্লাহপুর, নামাপাড়া, নিকুঞ্জ,  মোল্লারটেক ও কামারপাড়ায় এলাকায় পোস্টার চোখে পড়েছে। ওই সব এলাকায় হিযবুত তাহরীরের কর্মীদের শক্ত অবস্থানও রয়েছে বলে জানা গেছে।  

সিটিটিসির উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল  মান্নান বলেন, ‘নিষিদ্ধ সব সংগঠনই গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারিতে থাকে। সেক্ষেত্রে হিযবুত তাহরীর ও জেএমবিও রয়েছে’।

তিনি বলেন, অনলাইনে সম্মেলনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা ইতিমধ্যে নজরদারি করছি। অনেক সময় দেশের বাইরে বসেও জঙ্গিরা এ ধরনের সম্মেলন করে। তারপরও যদি দেশের কোথাও এ সম্মেলন করার চেষ্টা করে তবে আমাদের নজরদারির মধ্যে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘এই সংগঠন দুটির কার্যক্রম অমাদের নজরদারির মধ্যে থাকে। যখনই এরা মাথাচাঁড়া দিয়ে উঠে তখনই গ্রেপ্তার হয়’।

তবে এই মূহুর্তে তাদের সাংগঠনিক অবস্থা কি এমন প্রশ্নে তিনি দাবি করে বলেন, ‘যেহেতু তারা নজরদারির মধ্যে রয়েছে সেহেতু তাদের নাশকতা বা রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরুপ কোনো কিছু করার মতো শক্তি তাদের নেই। তারপরও আমরা এই বিষয়গুলো দেখছি।’

র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানান, হিজবুত তাহরীরের কর্মকাণ্ড তারা নজরদারির মধ্যে রেখেছেন। বর্তমান সময়ে লিফলেট, পোস্টার সাঁটানোর খবর তারা পেয়েছেন। এ বিষয়ে র্যাব কাজ করছে। তিনি আরো জানান, হিজবুত তাহরীরের এখন যারা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তাদের কে গ্রেপ্তারে র্যাবের বিশেষ টিমও কাজ করছে।

সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মাথাচাড়া দেয় হিযবুত তাহরীর। পরবর্তীতে সরকার বিরোধী নানা কর্মকাণ্ডের কারণে ২০০৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। গ্রেপ্তার করে হিযবুত তাহরীরের শীর্ষ নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহিউদ্দীন ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজনকে। কিন্তু তারপরও থেমে থাকেনি এদের কার্যক্রম। রাজধানী ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লিফলেট ছড়ানো থেকে শুরু করে প্রকাশ্যই মিছিল পর্যন্ত এরা করে থাকে। শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা তাদের নানা পরিকল্পনা এদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে থাকে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads