• শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২, ৭ মাঘ ১৪২৮

অপরাধ

শ্রীপুরে ইউনিয়ন আ.লীগ কার্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মী খুন

  • শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারি ২০২২

গাজীপুরের শ্রীপুরে ক্রিকেট খেলার দ্বন্দ্ব মিটাতে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আ.লীগ অফিসে ডেকে এনে কুপিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে কাওরাইদ বাজারে ইউনিয়ন আ.লীগ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ওই কার্যালয়ে খেলার দ্বন্দ্ব মীমাংসার সময় হামলা করা হয় ছাত্রলীগ কর্মীর ওপর। পরে প্রাণে বাঁচতে দৌড়ে পালানোর সময় একটি পুকুরে পড়ে গেলে সেখানেই পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় ছত্রলীগ কর্মী নয়ন শেখ (৩০) কে।

নিহতের পরিবারের দাবি নয়নকে হত্যার উদ্দেশ্যে কৌশলে আ.লীগ অফিসে ডেকে নিয়ে হত্যা করে যুবলীগ নেতা খাইরুল ইসলাম মীর ও তার অনুসারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর কাওরাইদ বাজারে আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে ময়না তদন্তের পর স্বজনদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

খুন হওয়া ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন শেখ বেলদিয়া গ্রামের মৃত আবদুল হক শেখের ছেলে। এদিকে অভিযুক্ত যুবলীগ খাইরুল ইসলাম মীর একই এলাকার জালার উদ্দীন মীরের ছেলে।

নিহত নয়নের বড় ভাই রতন শেখ জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয় কাওরাইদ কেএন(কালী নারায়ণ)উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা খাইরুল ইসলাম মীরের ছেলে অনুভব (১৪)'র সাথে মাঠের অন্যান্য ছেলেদের (খেলোয়াড়) বাকবিতণ্ডা হয়। পরে অন্যরা নয়নকে বিষয়টি জানিয়ে মিমাংসা করার জন্য বিচার দেন। মিমাংসার জন্য নয়ন অনুভবকে ডেকে এনে দমক দিয়ে মিলিয়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় অনুভর মীর ও তার সহপাঠীরা। পরে এ নিয়ে অনুভব মীরের বাবা বিষয়টি নিয়ে আ.লীগ অফিসে বসেন। এক পর্যায় কথা কাটাকাটির পর নয়নের ওপর হামলা করে খাইলরুল ইসলাম মীরের অনুসারীরা। পরে প্রাণে বাঁচতে দৌড়ে পালানোর সময় নয়ন রেলস্টেশন পুকুরে পড়ে গেলে সেখানেই পিটিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি দাবি করে হত্যার জন্যই ডেকে নিয়ে হামলা করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নয়নকে আ.লীগ কার্যালয়ে ডেকে আনার পরই কথাকাটাকাটির এক পর্যায় তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। এ সময় তার মাথা ফেটে রক্ত বের হয়। পরে নিজেকে বাঁচাতে সে দৌঁড়ে পালানোর সময় পাশের একটি পুকুরে পরে যায়। পরে সেখানে পানিতে ফেলেই বেধম মারধর করা হয় নয়নকে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত খাইরুল ইসলাম মীরের ফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন উপায়ে যোগাযোগ করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সাথে খাইরুল জড়িত না বলে তার স্বজনরা দাবি করেন।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভুইয়া জানান, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ পুকুরের পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মাথায় কোপের চিহ্ন ও শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পুরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে নিহতের বড় ভাই থানায় আছে তিনি অভিযো দিলে মামলা নেওয়া হবে। পরে পুলিশ আসামীদের ধরতে কাজ শুরু করবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads