• সোমবার, ৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯
রেলস্টেশনে তরুণীকে হেনস্থা, অভিযুক্ত নারী গ্রেপ্তার

ছবি: বাংলাদেশের খবর

অপরাধ

রেলস্টেশনে তরুণীকে হেনস্থা, অভিযুক্ত নারী গ্রেপ্তার

  • নরসিংদী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩০ মে ২০২২

নরসিংদী রেলস্টেশনে আধুনিক পোশাকের অজুহাতে এক তরুণীকে হেনস্তার ঘটনার মূল হোতা মার্জিয়া আক্তারকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব ১১। সোমবার দুপুর ৩টায় এক সংবাদ  বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান র‌্যাব-১১ নরসিংদীর ক্যাম্প কমান্ডার ফ্লাইট লেফটেন্টে তৌহিদুল মুবিন খান।

গ্রেপ্তারকৃত মার্জিয়া আক্তার রায়পুরা উপজেলার ডোকেরচর ইউনিয়নের আদিয়াবাদ গ্রামের মৃত আয়েত আলীর মেয়ে। তিনি পেশায় ঘটক।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, স্টেশনে তরুনীকে লাঞ্ছিতের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ওই ঘটনার মূলহোতা মার্জিয়া আক্তার ওরফে শিলা ওরফে শায়লা আত্মগোপনে চলে যায় । পরে র‌্যাব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবপুর উপজেলার মুনছেপের চর এলাকায় শিলার খালার বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে রাত ৩টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার কাছ থেকে ০১টি মোবাইল ও ০১টি সীমকার্ড ও নগদ ১৯৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব আরো জানায়, গত ১৮ মে বুধবার ভোর ৫টার সময় নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে একজন তরুণী এবং দুইজন তরুণ ঢাকাগামী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সে সময় নরসিংদী রেল স্টেশনে উপস্থিত থাকা একজন মধ্যবয়সী নারী ভুক্তভোগী ঐ তরুণীর পরনে পোশাক সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন। একই সাথে তার সঙ্গে থাকা অপর দুই তরুণের সম্পর্কেও বাজে মন্তব্য করায় তাদের সাথে ওই অভিযুক্ত নারীর বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায় অভিযুক্ত ওই নারীর সঙ্গে রেলস্টেশনের থাকা আশেপাশে আরও কিছু যুবক ও দু'জন স্থানীয় নারী উক্ত ঘটনায় যোগ দেয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত একজন নারী ওই ভুক্তভোগী নারীর শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে এবং তাকে হেনস্থা করে। ঘটনাস্থলে পরবর্তীতে যোগ দেয়া বখাটে স্থানীয় যুবকরা ঐ তরুনীর সাথে থাকা দুই যুবককে মারধর করে। পরবর্তীতে ওই ভুক্তভোগী তরুণী নিজেকে বাঁচাতে স্টেশন মাস্টারের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেয়। স্থানীয় থানা পুলিশ এসে উক্ত তরুণী এবং তার সাথে থাকা দুই তরুণকে ট্রেনে উঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ব্যাপকভাবে ভাইরাল হলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার দুই দিন পর শুক্রবার রাতে নরসিংদী শহরের ইউএমসি জুট মিলের সামনে থেকে ইসমাইল মিয়া নামে এক যুবককে আটক করে নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে রাতেই তাকে রেলওয়ে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার বিকেলে নরসিংদীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ সিদ্দিকীর আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান এবং এই ঘটনার তদন্ত করে মামলা করার নির্দেশ দেন।

পরে ওই রাতেই নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমায়েদুল জাহেদী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ও ৩০ ধারায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে ইসমাইল মিয়া ও মার্জিয়া আক্তারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও এক নারী ও ১০ পুরুষকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিওতে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের আসামি করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে নরসিংদীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ সিদ্দিকীর আদালত ইসমাইলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় র‌্যাব জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই অভিযুক্ত নারীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে রাত ৩ টার দিকে তাকে তার খালার বাসা হতে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১১ নরসিংদীর ক্যাম্প কমান্ডার ফ্লাইট লেফটেন্টে তৌহিদুল মুবিন খান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মার্জিয়া আক্তারের নেতৃত্বেই রেল স্টেশনে তরুণীকে হেনস্তা করা হয় । তিনি একজন নারী হয়ে আরেকজন নারীকে অপমান, অপদস্ত করেছেন যা গুরুতর অপরাধ। এঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামী’কে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads