• শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯
দেশে আনা হচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানাকে

সংগৃহীত ছবি

অপরাধ

দেশে আনা হচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানাকে

  • ইমরান আলী
  • প্রকাশিত ০২ জুন ২০২২

কথিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক আলোচিত পুলিশ পরিদর্শক সোহেল রানাকে দেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের জন্য ইতোমধ্যে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে। ভারতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলাটিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ওই মামলা শেষ হলেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বর্তমানে আলোচিত এ পুলিশ কর্মকর্তা অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিএসএফের হাতে আটক হয়ে সে দেশের কারাগারে রয়েছেন। জানা যায়, ই-কমার্সভিত্তিক কথিত প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গ্রাহকের ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। প্রতারিত গ্রাহকেরা মামলা করেছেন ২৭টি। অভিযোগের মুখে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় নেপাল-ভারত সীমান্তে ভারতের বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক বনানী থানার বরখাস্ত পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানা।

ভারতের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি থাকায় যথাযথ উদ্যোগ নিলে সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মত দিচ্ছেন আইনজ্ঞরা। তবে ভারতে হওয়া অনুপ্রবেশের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ফেরানোর আশা দেখছেন না পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

ই-অরেঞ্জের মূল মালিক সোহেল রানার বোন সোনিয়া মেহজাবিন, বোন জামাই মাসুকুর রহমান ও আমানুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। মামলার পর এই তিনজনই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এজাহারভুক্ত আসামি বীথি আক্তারসহ দুজন পলাতক।

ই-অরেঞ্জ নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ আসার মধ্যেই খবর আসে ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হয়েছেন সোহেল রানা। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তিনি এখন ভারতের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করা অনলাইন শপ ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করেনি। এমনকি অগ্রিম টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগে ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানায় মামলায় হয়েছে ২৭টি, ২৫টিই হয়েছে গুলশান থানায়। এর মধ্যে সোহেল রানা আসামি দুটি মামলায়।

ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের করা ২৭টি মামলার মধ্যে ১৫ নম্বর মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই মামলায় সোহেল রানা, মাসুকুর রহমান, সোনিয়া মেহজাবিন, আমানুল্লাহ চৌধুরী এবং নাজনীন নাহার বীথিকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা ছাড়া বাকিরা দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক শামীম বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। পাঁচ আসামির মধ্যে চারজন কারাগারে রয়েছেন। আর বনানী থানার পরিদর্শক সোহেল রানা ভারতের একটি কারাগারে আছে বলে শুনেছি।

ভারতের কারাগারে থাকা সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডির ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার খালেদুল হক হাওলাদার বলেন, সোহেল রানাকে ভারত থেকে ফেরত আনার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর আর ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস কাজ করছে। আর মামলার তদন্ত কাজ চলছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ই-অরেঞ্জের মামলার অধিকাংশ এখন ডিবি আর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি তদন্ত করছে। আর সোহেল রানাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কাজ চলছে।

সোহেল রানাকে দেশে আনা যাবে কীভাবে : বাংলাদেশে সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা এবং ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ থাকায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলে মত আইনজীবীদের।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে যেহেতু দেশে ফৌজদারি মামলা আছে তাই তাকে ফিরিয়ে আনা জটিল কিছু হবে না। কারণ ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দিবিনিময় চুক্তি রয়েছে। তবে সোহেল রানাকে ফিরিয়ে আনাটা নির্ভর করছে আন্তরিকতা এবং কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনার ওপর।

এই আইনজীবী বলেন, অনুপ্রবেশ ভারত এবং বাংলাদেশ দুই দেশের আইনে একটা সুনির্দিষ্ট অপরাধ। তবে সেটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে ফিরিয়ে এনে বিচার করার সুযোগ আছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পরিদর্শক (ইন্টারপোল) মো. মহিউল ইসলাম বলেন, সোহেল রানাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অনেকবার চিঠি চালাচালি হয়েছে। এমনকি রেড নোটিশেও তার নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভারত এখনও কোনো সাড়া দিচ্ছে না।

ভারতের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি থাকায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশে আলাদা করে নাম দেওয়ার দরকার পড়ে না উল্লেখ করে মহিউল ইসলাম বলেন, তবু আমরা রেড নোটিশে তার নাম দিয়েছি। আমরা শুনেছি ভারতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আমাদের ধারণা ওই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ফেরত আনা যাবে না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads