• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

অপরাধ

চিলমারীতে জোড়গাছ বাজারে শস্য ও পশুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২৪ নভেম্বর ২০২২

কুড়িগ্রামের চিলমারীর প্রধান ব্যাবসা কেন্দ্র জোড়গাছ বাজারের শস্য ও পশুর হাটে ইজারাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খাজনা আদায়সহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে । সপ্তাহে দুই দিন রোববার ও বুধবার ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেষে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বসে বিভিন্ন রকমের খাদ্য শস্যসহ বিভিন্ন পণ্যের হাট। হাটে উপজেলার চরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নসহ পাশ্ববর্তী রৌমারী,রাজিবপুর,উলিপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মানুষ খাদ্যসশ্য,পশুসহ বিভিন্ন প্রকার পণ্য সামগ্রী বেচা—কেনা করতে আসে।

জানা গেছে,উপজেলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী জোড়গাছ হাটটি বাংলা ১৪২৯সনের জন্য ১কোটি ৭৫লক্ষ টাকায় ইজারা নেন মৃত আজিজ ব্যাপারীর ছেলে উকিল আমিন । যার ইজারা আদায় কার্যক্রম শুরুর পূর্বে জনসাধারনের জ্ঞাতার্থে টোল আদায়ের হারের তালিকা বাজারের বিভিন্ন স্থানে লাগানোর কথা থাকলেও অদ্যাবধি কোথাও কোন টোল আদায় চার্ট লাগানো হয়নি। টোলের হার তালিকা না লাগিয়ে দরিদ্র কৃষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত টোলের ৫/৬গুন বেশী অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে ওই হাটে আসা চরাঞ্চলের কৃষক নিজেদের খরচ বাচাতে পাশ্ববর্তী সুন্দরগঞ্জ ও রাজিবপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটে পণ্য বিক্রি করতে যাচ্ছেন।ফলে ঐতিহ্্যবাহী হাটটি দিন দিন ক্রেতা—বিক্রেতা শুন্য হয়ে পড়ছে।

রোববার সরেজমিনে জোড়গাছ হাটে গিয়ে দেখা যায়,উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের কড়াইবরিশাল গ্রাম থেকে আসা বেগুন চাষি গওছল আজম ১২মন বেগুন নিয়ে বাজারে এসেছিলেন। প্রতি মন বেগুন ৫৫০টাকায় বিক্রি করলেও তার অভিযোগ ওই টাকায় বেগুন বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠে না তার ওপর প্রতিমন বেগুনের জন্য বাজারের খাজনা দিতে হয় ৫০ টাকা এবং ঘাট খাজনা দিতে হয় ১০টাকা।টোল তালিকার ৪নং ক্রমিক অনুযায়ী তরকারী(পটল,বেগুন,মূলা,লাউ,কুমড়া, কপি ইত্যাদি কৃষিজাত দ্রব্য ও যাবতীয় শাক—সবজি এক মহিষের গাড়ী ভর্তি পণ্যের টোল ২৫টাকা দেয়া আছে)। তিনি আরও জানান, পাশ্ববর্তী কামারজানি বাজার ও রাজিবপুর বাজারে হাটের খাজনা দিতে হয় মনপ্রতি ১০টাকা। অধিক খাজনা নেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধের দাবী জানান তিনি।একই কথা জানালেন পাট ব্যাসায়ী সুরুজ্জামান মিয়া।পাট খড়ি বিক্রয় করতে আসা সিকারপুর এলাকার কৃষক আব্দুস সালাম জানান,তিনি ১০০টি পাট খড়ির আটি এনেছিলেন এবং তা ৭০০টাকায় বিক্রি করেছেন।এজন্য তাকে খাজনা গুনতে হয়েছে ৭০টাকা। পাট খড়ি, খড়ের আটি,ধনচে এবং খড়ি বিক্রয়ের বিক্রয় মূলের উপর ১০% হারে খাজনা প্রদান বাধ্যতামূলক বলে জানান তিনি। খোদ্দ বাশপাতার এলাকার কৃষক আবু সামা জানান ৬ কেজি বাদাম বিক্রি করতে তাকে খাজনা গুনতে হয়েছে ৮০টাকা। গয়নার পটল এলাকার কৃষক সোহরাব আলীকে প্রতিমন পেয়াজ বিক্রি করতে খাজনা গুনতে হয়েছে ৬০টাকা।একই রকম কথা জানালেন,নটারকান্দি এলাকার নুর মোহাম্মদ, কড়াই বরিশাল এলাকার সাজু মিয়া,গয়নারপটল এলাকার ইদ্রিস আলী, সোহরাব আলী, সংকর মাধবপুর এলাকার ধনচে বিক্রেতা মহির উদ্দিন,কোদাল কাটি এলাকার নুরল হকসহ অনেকে।

এসময় কোদালকাটি এলাকার মমিন মিয়া জানান,উত্তরবঙ্গের মধ্যে জোড়গাছ হাটে খাদ্য শস্য,পশুসহ বিভিন্ন পণ্যের খাজনা সবচেয়ে বেশী। ধান,পাট,বেগুন,মরিচ,চিনা,ভূটÍা,পাট খড়ি,ধনচেসহ বিভিন্ন পন্যের উপর অতিরিক্ত খাজনা নেয়া হলেও দেয়া হয় না কোন রশিদ। কোথায় সাটানো হয়নি কোন টোল কিংবা খাজনার তালিকা। পরে পশুর হাটে গেলে দেখা যায়,প্রতিটি গরু বিক্রির জন্য ক্রেতার নিকট হতে ৪শ টাকা এবং বিক্রেতার নিকট হতে ২শ টাকা নেয়া হলেও বিক্রেতাকে কোন চালান দেওয়া হয়নি।

অতিরিক্ত খাজনা আদায় প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে ইজারাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে হাটটির ইজারা মূল্য বেশী হওয়ার কথা জানানো হলেও কেহ বক্তব্য দেয়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মাহবুবুর রহমান বলেন, হাটে সরকার নির্ধারিত মূল্যেই খাজনা আদায় করতে হবে। অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। শিগগিরই তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আনোয়ারুল ইসলাম
চিলমারী,কুড়িগ্রাম
মোবাইলঃ ০১৭১৬—০২৯৯৯৫
২৩/১১/২০২২

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads