• মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ১৫ লাখ টাকার বেশি হলেই কমবে মুনাফা 

সংগৃহীত ছবি

ব্যবসার খবর

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ১৫ লাখ টাকার বেশি হলেই কমবে মুনাফা 

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা কমানো হয়েছে। এখন সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ হলেই মুনাফার হার কমবে। তাবে যাদের বিনিয়োগ ১৫ লাখ টাকার কম তাদের মুনাফার হার আগের মতোই থাকছে।

সঞ্চয়পত্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে মুনাফার হার তিন ধাপে করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হারে মুনাফা পাবেন যাদের বিনিয়োগ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। যাদের বিনিয়োগ ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার মধ্যে, তাদের মুনাফার হার থাকবে এর চেয়ে কিছুটা কম।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম হারে মুনাফা পাবেন তারা, যাদের বিনিয়োগ ৩০ লাখ টাকার বেশি।

গতকাল মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ছয় বছর পর সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করেছে। এর আগে ২০১৫ সালে এক ধাপে কমানো হয়।

বাংলাদেশে মোট ৬ ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ডাকঘর সঞ্চয়ের ব্যাংক-সাধারণ হিসাব ছাড়া সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে জানানো হয়, নতুন হারে মুনাফা নতুন সঞ্চয়পত্রের ওপর প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ এই আদেশ জারি হওয়ার আগেই যারা সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, তারা আগের হারেই মুনাফা পাবেন।

ব্যাংকে আমানতের সুদের হার বছরে ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক আদেশে মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তারপরেও ব্যাংকে টাকা রাখা এখন লাভজনক না হওয়ার কারণে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকে লাভজনক হিসেবে দেখে এসেছেন বিনিয়োগকারীরা।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বেশি হওয়ায় বছর শেষে সরকারের ওপর সুদের চাপ বেশি পড়ে। এ কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদে সঞ্চয়পত্রের সুদহার ২ শতাংশ করে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও জাতীয় সংসদে প্রবল বিরোধিতার কারণে তা করতে পারেননি সে সময়ের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

করোনার সময় বিনিয়োগে মন্দার মধ্যে এক বছরের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি বেড়ে তিন গুণ হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। একই সময়ে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মুনাফা-আসল বাবদ ৭০ হাজার ২২৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সে হিসাবে গত অর্থবছরের সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। মোট বিক্রি থেকে মুনাফা ও আসল বাবদ পরিশোধ করা অর্থ বাদ দিয়ে এ নিট হিসাব করা হয়।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ২০২০-২১ অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছিল। বিক্রি অস্বাভাবিক বাড়ায় সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা করা হয়।

 

সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার : ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে প্রথম বছরে মুনাফার হার ৯.৩৫ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৮.৯৫ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৭.৭১ শতাংশ।

এই সঞ্চয়পত্রে দ্বিতীয় বছরে মুনাফার হার ৯.৮০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৮.৯৫ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.০৮ শতাংশ।

তৃতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.২৫ শতাংশ যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৯.৩৬ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৪৫ শতাংশ।

চতুর্থ বছরে মুনাফার হার ১০.৭৫ শতাংশ যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৯.৮২ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৮৬ শতাংশ।

পঞ্চম বছরে মুনাফার হার ১১.২৮ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ১০.৩০ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.৩০ শতাংশ।

এদিকে ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে প্রথম বছরে মুনাফার হার ১০.০০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে। বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৯.০৬ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.১৫ শতাংশ।

দ্বিতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.৫০ শতাংশ যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৯.৫১ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৫৬ শতাংশ।

তৃতীয় বছরে মুনাফার হার ১১.০৪ শতাংশ যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি সুদ হার ১০.০০ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.০০ শতাংশ।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে অবসরভোগীদের বর্তমানে প্রথম বছরে মুনাফার হার ৯.৭০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৮.৮৭ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.০৪ শতাংশ।

দ্বিতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.১৫ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৯.২৮ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৪২ শতাংশ।

তৃতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.৬৫ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৯.৭৪ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৮৩ শতাংশ।

চতুর্থ বছরে মুনাফার হার ১১.২০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ১০.২৪ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.২৯ শতাংশ।

পঞ্চম বছরে মুনাফার হার ১১.৭৬ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ১০.৭৫ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.৭৫ শতাংশ।

পরিবার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রথম বছরে মুনাফার হার ৯.৫০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৮.৮৬ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৭.৮৩ শতাংশ।

দ্বিতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.০০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৯.১১ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.২৫ শতাংশ।

তৃতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.৫০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৯.৫৭ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৬৬ শতাংশ।

চতুর্থ বছরে মুনাফার হার ১১.০০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ১০.০৩ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.০৭ শতাংশ।

পঞ্চম বছরে মুনাফার হার ১১.৫২ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ১০.৫০ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.৫০ শতাংশ।

এছাড়া ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের বর্তমান হার ৭.৫০ শতাংশ, যা অপরিবর্তিত থাকবে।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক-মেয়াদি হিসাবের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রথম বছরে মুনাফার হার ১০.২০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৯.৩১ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৪১ শতাংশ।

দ্বিতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.৭০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৯.৭৭ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৮২ শতাংশ।

তৃতীয় বছরে মুনাফার হার ছিল ১১.২৮ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ১০.৩০ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.৩০ শতাংশ।

কমেছে একটি বন্ডের মুনাফার হারও। সঞ্চয়পত্র ছাড়াও তিনটি বন্ডে বিনিয়োগ করা যায়।

এর মধ্যে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে ৬ মাস পর কিন্তু ১২ মাসের আগে মুনাফার হার ৮.৭০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৭.৯৮ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৭.২৫ শতাংশ, ৫০ লাখের বেশি হলে ৬.৫৩ শতাংশ।

১২ মাস পর কিন্তু ১৮ মাসের আগে মুনাফার হার ছিল ৯.৪৫ শতাংশ যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৮.৬৬ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৭.৮৮ শতাংশ, ৫০ লাখের বেশি হলে হবে ৭.০৯ শতাংশ।

১৮ মাসের পর কিন্তু ২৪ মাসের আগে মুনাফার হার ছিল ১০.২০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৯.৩৫ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৫০ শতাংশ, ৫০ লাখের বেশি হলে হবে ৭.৬৫ শতাংশ।

২৪ মাস পর কিন্তু ৬০ মাসের আগে মুনাফার হার ১১.২০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ১০.২৭ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.৩৩ শতাংশ, ৫০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৪০ শতাংশ।

মেয়াদ শেষে এ হার হবে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১২ শতাংশ, ১৫ লাখের বেশি হলে ১১ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে ১০ শতাংশ এবং ৫০ লাখের বেশি হলে ৯ শতাংশ।

ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টেমন্ট বন্ডের মুনাফার হার পরিবর্তন করা হয়নি।

প্রিমিয়াম বন্ডে প্রথম বছর শেষে ৬.৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৭ শতাংশ, তৃতীয় বছর শেষে ৭.৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে আগের মতোই।

আর ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে প্রথম বছর শেষে ৫.৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৬ শতাংশ ও তৃতীয় বছর শেষে ৬.৫০ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads