• শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২, ৭ মাঘ ১৪২৮
কেরুর চাহিদা বাড়ায় উৎপাদন দ্বিগুণ

ফাইল ছবি

ব্যবসার খবর

কেরুর চাহিদা বাড়ায় উৎপাদন দ্বিগুণ

  • চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১২ জানুয়ারি ২০২২

দেশে-বিদেশি মদের সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নিয়েছে দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। একই সঙ্গে এই মদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে আরও আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ৮৩ বছরেরও বেশি পুরনো দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মদ ও অ্যালকোহলজাতীয় পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠানটি।

২০২০-২১ অর্থবছরে শুধু মদ বিক্রি করে ১৯৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে কেরু। দেশে অ্যালকোহলের চাহিদা মেটাতে দর্শনায় দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

এ প্রসঙ্গে, দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোশাররফ হোসেন জানান, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি ২০২২ সালে শেষ হবে। এই প্রকল্পের আওতায় উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করা হবে।

বর্তমানে কেরুর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায় তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে সারা দেশে কেরুর ১৩টি ওয়্যারহাউস রয়েছে।

এর বাইরে পাবনার রূপপুর, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একটি করে বিক্রয় কেন্দ্র এবং রাজশাহী ও রামুতে একটি করে ওয়্যারহাউস নির্মাণের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এরই মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দুটি নতুন বিক্রয়কেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছে বলে জানালেন মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, বিক্রয়কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করার জন্য পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হবে।

চাহিদা বাড়ার সঙ্গে মুনাফাও বেড়েছে কেরুর। ফলে পরিসর বাড়ানোর কার্যক্রম চলছে। প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের লক্ষ্যে শতাধিক কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার, যা চলতি বছরেই শেষ হবে।

দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি থেকে জানা যায়, প্রতি মাসে গড়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার কেস কেরুর উৎপাদিত মদ বিক্রি হয়ে থাকে। উৎপাদনও সে অনুযায়ী করা হয়। ২০২০ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২১ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে কেরুর উৎপাদিত মদ বিক্রি।

২০২১ সালের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে যথাক্রমে ১৮ হাজার ৫৭৯, ১৯ হাজার ৪৪৬ এবং ২১ হাজার কেসেরও বেশি মদ বিক্রি করেছে কেরু। প্রতিষ্ঠানটি ১৭৫ মিলিলিটার, ৩৭৫ মিলিলিটার ও ৭৫০ মিলিলিটারের বোতলে মদ বাজারজাত করে থাকে। একটি কেসে ৭৫০ মিলিলিটারের ১২টি, ৩৭৫ মিলিলিটারের ২৪টি ও ১৭৫ মিলিলিটারের ৪৮টি মদের বোতল থাকে।

কেরুতে রয়েছে মদের ৯টি ব্র্যান্ড। ব্র্যান্ডগুলো হচ্ছে ইয়েলো লেবেল মল্টেড হুইস্কি, গোল্ড রিবন জিন, ফাইন ব্র্যান্ডি, চেরি ব্র্যান্ডি, ইম্পেরিয়াল হুইস্কি, অরেঞ্জ কুরাকাও, জারিনা ভদকা, রোসা রাম ও ওল্ড রাম।

 কেরু কোম্পানির সূত্র আরও জানায়, কেরুতে বর্তমানে ৯টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আওতায় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য প্রস্তুতকৃত ১০ লাখ ৮০ হাজার লিটার মদ, ২৬ লাখ লিটার দেশি স্পিরিট ও ৮ লাখ লিটার ডিনেচার্ড স্পিরিট উৎপাদন করা হয়। মদের পাশাপাশি ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সার, চিনি ও গুড়ের মতো অন্যান্য পণ্যও উৎপাদন করে থাকে কেরু।

 কেরুর মদের চাহিদার কারণটিও উল্লেখ করলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি জানান, শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধার অপব্যবহার রোধে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার নিয়ে রেষারেষি হয় বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বেসরকারি কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউসগুলোর মধ্যে। এ কারণে কমে গেছে বিদেশি মদের সরবরাহ।

এরই জেরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে দেশীয় ব্র্যান্ড কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদের চাহিদা। সারা দেশে ১৩টি ওয়্যারহাউস ও তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ইতোমধ্যে বাড়তি চাহিদা পেয়েছি। এর মধ্যে ঢাকা ও শ্রীমঙ্গল ওয়্যারহাউসের চাহিদা সব থেকে বেশি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বরে কোম্পানিটির উৎপাদিত মদের বিক্রি বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি, বলেন মোশাররফ।

গত ২৪ ডিসেম্বর দর্শনা চিনিকলে আখ মাড়াই মৌসুম কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কেরুর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়নে দ্বিতীয় একটি ইউনিট নির্মাণের কথা বলে গেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

মদের পাশাপাশি ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জৈব দ্রাবকের মতো অন্যান্য পণ্যেরও চাহিদা মেটাতে এবং অ্যালকোহলের চাহিদা মেটাতে বিয়ার তৈরির লক্ষ্যে ইউনিটটি স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বেশ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে বলে কেরু সূত্রে জানা গেছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads