• সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
মানব কল্যাণে কাজ করছে প্রবাসী কল্যাণ সংঘ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ফিচার

মানব কল্যাণে কাজ করছে প্রবাসী কল্যাণ সংঘ

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০

অসহায় দরিদ্র মো. রাসেল মিয়া। পেশায় তিনি একজন অটো রিকসা চালক। সংসারে স্ত্রী, বাবাসহ ৫ জন সদস্য রয়েছে। দৈনিক অটো রিকসা চালিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু হঠাৎ তিনি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে অটো রিকসা চালাতে না পারায় আয় রোজগার ও বন্ধ হয়ে যায়। টাকার অভাবে কোন চিকিৎসা সেবা নিতে না পারায় তিনি মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। প্রবাসী কল্যাণ সংঘ নামে একটি সামাজিক সংগঠন খবর পেয়ে আর্থিক সহায়তা দিয়ে এই দুর্দিনে তার পাশে এসে দাঁড়ায়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নে প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তায় প্রবাসী কল্যাণ সংঘ নামে এই সংগঠনটি গড়ে উঠে। সংগঠনটি শুরু থেকে গরিব অসহায় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সেবায় আর্থিক সহায়তা, মসজিদ মাদরাসাসহ বিভিন্ন স্থানে টিউবয়েল স্থাপন, কর্মসংস্থানে অসহায়দেরকে সেলাই মেশিন বিতরণ, বিয়ে শাদিতে আর্থিক সহায়তা, দুর্যোগকালে খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন প্রকার কাজ করছে। তাছাড়া যৌতুক, বাল্য বিবাহ, মাদকসহ সকল প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপের বিরোদ্ধে সচেতনতা তৈরীতে নিরলস ভাবে কাজ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ যখন যে ভাবে খবর পাচ্ছেন তারা সহায়তার জন্য মানব কল্যাণে কাজ করতে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন।

গাজীর বাজার এলাকার অসহায় হতদরিদ্র শিল্পী বলেন, তার পরিবারে আয় উপার্জনের কেউ নেই। দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে পড়ে আছেন। টাকার অভাবে তিনি চিকিৎসা নিতে পারছেন না। সংগঠনের লোকজন খবর পেয়ে তাকে নগদ আর্থিক সহায়তা করায় চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি বলেন কখনও ভাবিনি এ ভাবে আমাকে সাহায্য করবে। আর্থিক সহায়তা পেয়ে তিনি খুবই সন্তোষ প্রকাশ করেন।

হীরাপুর কলোনির মো. নূরুল ইসলাম বলেন, স্ত্রী, মেয়েসহ তার পরিবারে ৪ জন সদস্য রয়েছে। মানুষের বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে চলে তার সংসার। টাকার অভাবে মেয়েকে বিবাহ দিতে পারছেন না। খবর পেয়ে ওই সংগঠন আর্থিক সহায়তায় তার মেয়ের বিবাহ হয়।

একই কথা বলেন মো. সেন্টু মিয়া ও তার ৯ সদস্যের সংসার কৃষি কাজের উপর চলে। কিন্তু সংসারে অভাব অনটন থাকায় মেয়ের বিবাহ দিতে পরছেন না। এ অবস্থায় সংগঠনটি আর্থিক সহায়তায় তার মেয়ের বিবাহ হয়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় প্রবাসী কল্যাণ সংঘকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মামুন মিয়া বলেন, অভাব অনটনের সংসার যখন চলছিল না, তখনই প্রবাসী কল্যাণ সংঘ একটি সেলাই মেশিন দিয়েছে। তা দিয়ে সংসারের কিছুটা হাল ধরেছি।

প্রবাসী কল্যাণ সংঘের আহ্বায়ক মো. রুবেল আহমেদ বলেন, গত ৩ বছর পূর্বে এই সংগঠনটি করা হয়। এটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। প্রবাসীদের সামর্থ অনুযায়ী সহায় সম্বলহীন মানুষের কল্যাণে জন্য কাজ করছি। মানুষের সামান্য উপকার করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। এই পযর্ন্ত এলাকায় ৫০টির উপর টিউবওয়েল স্থাপন, বিভিন্ন মসজিদে আর্থিক সহায়তা, অসহায় হতদরিদ্র পরিবারে নগদ অর্থ দিয়ে প্রায় ৩০ জনকে বিবাহ দেওয়া, প্রায় ৫০ জনের মতো অসহায় অসুস্থ রোগীকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক লোকজন রয়েছে তারা অসহায় লোকদের খুঁজে বের করছে। আমরা সামর্থ অনুযায়ী তাদের শীতবস্ত্র, খাদ্য, শিক্ষা, উপার্জনের ব্যবস্থা, রোগীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. জালাল হোসেন বলেন, প্রবাসীরা যে ভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সত্যি প্রশংসার দাবিদার। এ সংগঠনের সদস্যরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এলাকার মান আরো বৃদ্ধি করেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads