• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

ফিচার

শিল্প হলো জীবনের প্রকাশ

  • প্রকাশিত ০৯ মে ২০২১

সেরাজুম মনিরা

 

‘বিশ্বায়ন’ এই শব্দবন্ধ ছবির জগতে বিশেষ সুপরিচিত। এই নাম নিলেই আধুনিক তথা উওর-আধুনিক শিল্পজগতে প্রবেশের অধিকার পাওয়া যায় সহজেই। বর্তমান সময়ের তরুণতর শিল্পীরা প্রায় সকলেই ঝুঁকছেন ‘আধুনিক’ শিল্পকলার সাম্প্রতিকতম এই তকমা পেতে।

শিল্পীরা এখন নিজেদের প্রতিনিয়ত পুনঃআবিষ্কার করছেন এবং স্বকীয় মাত্রার পরিচয় দিচ্ছেন। শিল্পশৈলী এবং প্রকাশ উভয়ের ক্ষেত্রে নিরীক্ষার মাধ্যমে উন্মোচিত হচ্ছে অসাধারণ সম্ভাবনার দ্বার।

সৃষ্টিকে স্মণীয় করে রাখার প্রবণতা হয়তো সকল সৃজনশীল মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। সৃষ্টিকে স্মরণীয়  রাখবার জন্য কোনটা বেশি জরুরি, তার অভিজ্ঞতা না গ্রহণযোগ্যতা?

বর্তমান সময়ে তার সৃষ্টিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য হয়তো অনেক শিল্পীই কাজ করে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে বর্তমান সময়ের একজন সম্ভাবনাময় তরুণ শিল্পী নবরাজ রায়। তিনি বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পচর্চায় বহুমাত্রিক অনুষঙ্গ সৃষ্টির জন্য শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যম নিয়ে নিরীক্ষামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। নবরাজ রায়ের জন্ম ফরিদপুরে ১৯৮৮ সালে । কৈশোর  কেটেছে  ফরিদপুর জেলা সদরে। বন্ধু  তন্ময় রায়ের ছবি আঁকা দেখে স্কুল জীবন থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ভালোলাগা শুরু হয়। ২০০৮  সালে উচ্চ মধ্যমিক শেষ করে ছবি আকার দিকে মনোনিবেশ করেন, যদিও এতে পরিবারের মত ছিল না। তারপরও নিজের ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিয়ে ২০০৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইওডা)-তে পেইন্টিং বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি শুরু করার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিল্পচর্চার যাত্রা শুরু করেন। ২০১৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি শেষ করেন। ২০১৪ সালে ভারত সরকারের স্কলারশিপ নিয়ে  রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যকলা অনুষদের পেইন্টিং বিভাগে   স্নাতকোত্তর  শুরু করেন , ২০১৬ সালে প্রথম বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে  মুক্তভাবে শিল্পচর্চা শুরু করেন।  নবরাজের শিল্প সৃস্টির অনুপ্রেরণার বড় একটি  জায়গাজুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের আবহমান লোক সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য ও শৈশবের স্মৃতি। বর্তমানে তিনি দুটি সিরিজ নিয়ে কাজ করছেন, একটি হলো বাংলাদেশের লোকঐতিহ্য ও অন্যটি প্রকৃতি।

তার ছবির বিষয় বস্তু নির্বাচনে লোকশিল্পের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ঐতিহ্যের পুনরাবিষ্কার আধুনিকতার প্রধান দিক। বাংলাদেশের লোকঐতিহ্য অনেক পুরাতন ও সমৃদ্ধ। ঐতিহ্যের নবায়নে শিল্পে ব্যক্তির নিজস্ব ভাবনা ও স্বদেশীয় সত্তা সম্পৃক্ত হয়। শিল্পী বলেন, শিল্প জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, শিল্প হলো জীবনের প্রকাশ আর তার উদ্দেশ্য হলো মানবসমাজকে সমৃদ্ধ আর সুন্দর করে তোলা। তাই আমার কাজের মধ্যে বার বার জায়গা করে নেয় বাংলার লোকসংস্কৃতি ও প্রকৃতির রূপ বৈচিত্র্য, এর মেলবন্ধনেই তৈরি হয় আমার চিত্র ভাষার। দিনদিন মানুষ আধুনিকতার বেড়াজালে আমাদের নিজস্ব শিল্প ও ঐতিহ্যকে ভুলতে বসেছে। তাই আমার শিল্পকর্ম দিয়ে আমি আমার দেশ ও ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করতে চাই।’

নবরাজ রায় ২০১৮ সালে বার্জার নবীন শিল্পী  পুরস্কার, ২০২০-তে সুলতান ফাউন্ডেশন পুরস্কারসহ বিভিন্ন সময়ে আরো একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। এই নবঅন শিল্পী একাধিক আর্টক্যাম্প, কর্মশালা ও ৪০টির অধিক জাতীয় আন্তর্জাতিক গ্রুপ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ  করেছেন। দেশীয় চিত্রকলাকে আরো সমৃদ্ধ করতে চান এ শিল্পী। এই শিল্পী প্রবীণ শিল্পীদের নিজের আদর্শ ভাবেন। প্রাপ্তি প্রত্যাশা করেন না এখান থেকে। বরং নিজের মনের শান্তির খোরাকের জন্যই শিল্পকর্ম করে চলেছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads