• শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

ফিচার

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন হোক সৃজনশীল

  • সিনথিয়া সুমি
  • প্রকাশিত ৩০ মে ২০২১

আমরা মূলত কলেজ জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। সেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে অনেক কষ্ট, ত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করে নিতে হয় নিজের কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সিট। মানুষের জীবনের মধুর সময় বলা হয় ছাত্র জীবনকে। আর ছাত্র জীবনের সবচেয়ে সেরা সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময়টাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর সবার নতুন একটা অধ্যায়ের সূচনা হয়। চান্স পাওয়ার আগে অনেকে ধারণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া মানেই হয়তো সব পেয়ে গেছি। কিন্তু আসলেই কি তাই? আসলে এমনটা না। চান্স পাওয়া মানেই সব পেয়ে যাওয়া না। বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া মানে আমি মনে করি নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করা। দেশ ও জাতির অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি হলো শিক্ষা। এই বিবেচনায় বলা হয় শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে। এতদিন স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার; কিন্তু এখন স্বপ্ন দেখতে হবে ক্যারিয়ারটা সুন্দর করার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা যায় স্বপ্ন দেখার একটা সহায়ক প্লাটফর্ম মাত্র। যেটা আপনাকে স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করবে এর থেকে বেশি কিছু না। আমরা যখন প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই মানে যখন আমরা প্রথম বর্ষে পড়ি তখন আমরা অনেক কিছুই বুঝে উঠতে পারি না। কিছুদিন অতিক্রম করলেই আমরা দেখতে পাই বিশ্ববিদ্যালয় হাজারো শিক্ষার আবাসস্থল। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আমরা আরো অনেক কিছু শিখতে পারি। সেখানে আমাদের কথা বলার ধরন, আচার-আচরণ ক্রমেই পরিবর্তন হয়। আমরা নিজেদের রিপ্রেজেন্ট করতে শিখি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা অনেকের সাথে মেশার সুযোগ পাই। বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারি এবং তাদের কালচারাল সম্পর্কে জানতে পারি। সরেজমিনে দেখা যায়,  বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে একঝাঁক তরুণ-তরুণী তাদের যোগ্যতায় বিভিন্ন কাজে শামিল হচ্ছে। কেউবা সামাজিক সংগঠনে যোগ দিচ্ছে কেউবা ডিবেট, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক সংগঠন, ক্যারিয়ার, বিজ্ঞান এমন অনেক সংগঠনে শামিল হচ্ছে। এতে করে অনেক উপকার হচ্ছে কারণ অনেক কিছু শিখতে পারছি, অনেক বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি অনেক ভালো কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি আমরা। এইতো আমি যখন প্রথম বর্ষে ছিলাম তখন থেকেই দেখে আসতেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী মিলে কখনো বন্ধুর জীবন, কখনো ভাই-বোনের কিংবা কখনো বন্ধুর বাবা-মায়ের জীবন বাঁচানোর জন্য সবাই দলবদ্ধ হয়ে মিলেমিশে বিভিন্ন স্থান থেকে  টাকা সংগ্রহ করে দিচ্ছে। আবারো কখনো কখনো রক্ত সংগ্রহ করে দিচ্ছে। সবার বিপদে-আপদে এগিয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে করোনা পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ  কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কখনো অনলাইনে রক্ত সংগ্রহ করে দিচ্ছে বা গরীব অসহায়দের সাহায্য করতেছে এমন অনেক মানবিক কাজে শামিল হচ্ছে তারা। সত্যি এসব থেকে অনেক কিছু শেখার আছে সবার। 

আমরা পুথিগত বিদ্যার্জনের মধ্য দিয়ে সনদপত্র লাভকেই শিক্ষা মনে করি। আমাদের এ ধারণা নিতান্তই ভুল। এ ভুল ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। শুধু সনদপত্র লাভ বা ডিগ্রি অর্জনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা পরিপূর্ণ হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের লেখাপড়া এমন যেখানে পড়ালেখার পাশাপাশি থাকে আনন্দ, সেখানে বিভিন্ন  জ্ঞানের চর্চা এবং তারুণ্যের সৃষ্টিশীল কাজ থাকে। সেখানে থাকবে না কোনো অহংকার ও ভেদাভেদ।  আমাদের জাফর ইকবাল স্যারের কথাই বলতে চাই। তিনি বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসরুমের ভেতরে একজন শিক্ষার্থী যেটুকু শেখে তার চেয়ে অনেক বেশি শেখে ক্লাসরুমের বাইরে।’ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাই হলো স্বাধীন, মুক্তমনা। কেননা আমরা কি করব না করব সবকিছুতে আমরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। সেখানে থাকে না নিজের অভিভাবক। একটি ক্যাম্পাস প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য আবেগ আর ভালোবাসার জায়গা। ক্যাম্পাসজুড়ে থাকে কতশত স্মৃতি আর ভালোবাসা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা, আড্ডা, গান-বাজনা, বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা, দুষ্টামি, খুনসুটি আর সৃষ্টিশীল কাজে মেতে ওঠে। কত শত স্মৃতি বিজড়িত মুহূর্ত আছে ক্যাম্পাসজুড়ে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবনজুড়ে আনন্দের সিংহভাগ থাকে ক্যাম্পাস জীবনে। মনে রাখতে হবে  বিশ্ববিদ্যালয় সাফল্যের একটি সিঁড়ি মাত্র। তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা গড়ে উঠুক পড়ালেখার পাশাপাশি  গঠনমূলক কাজ তথা সৃষ্টিশীল কাজে। তাহলেই আমরা প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পারবো এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটি সার্থক হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads