• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

ফিচার

তিন বছরে মুক্ততরী

  • সালেহীন বাবু
  • প্রকাশিত ০৬ জুন ২০২১

২০১৯ সালের ১ জুন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে মুক্ততরী। সেই ২০১৯ থেকে এখন ২০২১- এই পথচলায় মুক্ততরী বিভিন্ন ধরনের কাজ করে গেছে এবং যাচ্ছে। শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন কাজ করতে করতে শুরু করে প্রজেক্ট ২ টাকায় হাসি। যেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও নিম্নআয়ের মানুষজন মাত্র দুই টাকার বিনিময়ে তার পছন্দমতো পোশাক সংগ্রহ করতে পারে। ২ টাকায় পায় খাদ্য, একই টাকায় পায় বাজারও।

এরপর শুরু হয় প্রজেক্ট ‘প্রত্যাশার আলো’। যার মাধ্যমে দুটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলা হয়েছে। প্রজেক্ট প্রত্যাশার আলোর আওতায় মিরপুরে একজন মহিলাকে অটোরিকশা এবং গুলিস্তানে একজন মহিলাকে ভিক্ষাবৃত্তি করা থেকে বিরত রাখতে চায়ের ফ্লাস্ক কিনে দেওয়া হয়। তারপর শুরু হয় মুক্ততরীর স্বপ্নের প্রজেক্ট ‘মুক্ত বিদ্যাপীঠ’ যেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান করা হয়। মুক্ত বিদ্যাপীঠে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৪ জন। এছাড়াও বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো অসহায়দের সহযোগিতা করা লকডাউন চলাকালে প্রায় ১৫০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া ছাড়াও অনলাইন অফলাইন বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে মুক্ততরী। মুক্ততরীর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও তৃতীয় বছরে পদার্পণ উপলক্ষে শুরু হচ্ছে ভিন্নধর্মী আয়োজন ‘পঞ্চে তৃপ্তি’, যেখানে নিম্নআয়ের মানুষজন মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে একটি নির্দিষ্টস্থানে বসে তৃপ্তিমতো খাবার খেতে পারবে। থাকবে ভিন্ন মেনু, পাশাপাশি ৭ দিনব্যাপী ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন। মুক্ততরী বর্তমানে তিন জেলায় কাজ করে করছে- ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ। তিন জেলায় উদযাপিত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। মুক্ততরীর মূল শক্তি মুক্ততরীর স্বেচ্ছাসেবীরা। মুক্ততরীর লক্ষ্য, ‘আজকের সুবিধাবঞ্চিত শিশু আগামীদিনের সুবিধা প্রদানকারী হবে।’

মুক্ততরীর প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক জয় দত্ত বলেন, ‘মুক্ততরীর দুই বছরের এই পথচলায় মুক্ততরীর প্রতিটি সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ তারা আছেন বলেই মুক্ততরী আজ মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পারছে, ভিন্নধর্মী চিন্তার মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকতে পারছে। সামনে মুক্ততরীর আরো কিছু কাজ আসছে। সবার সহযোগিতা পেলে আশা করি সেই কাজগুলোর দেশ ও দশের মঙ্গল করতে পারব। মুক্ততরীর তৃতীয় বছরের পথচলা হোক এক অনন্য দৃষ্টান্ত।’

মুক্ততরীর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মো. রুবাইদ সায়মন বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মুক্ততরী, কাজ করে যাচ্ছে ২ বছর সম্পন্ন হয়ে গেলো, আসলেও কি স্বেচ্ছায় কাজ করছে মুক্ততরীর সদস্যরা? হয়তো প্রশ্নের উত্তরটা না, কেননা প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ববোধের কাছে হার মেনেছে তাদের স্বেচ্ছা, ভালোবাসার কাছে হার মেনেছে স্বেচ্ছা, অপ্রতিরোধ্যতার কাছে হার মেনেছে তাদের স্বেচ্ছা। মানুষের মুখের হাসিটাই যেন তাদের কাছে মুখ্য। এই দ্বিতীয় বর্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই মুক্ততরীর সব সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে, শুভ জন্মদিন মুক্ততরী, শুভ জন্মদিন আমার প্রাণপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবকরা।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads