• বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

ফিচার

মানুষ আর মানবতার যোগসূত্র ‘সংযোগ’

  • এস এম মুকুল
  • প্রকাশিত ১৫ জুলাই ২০২১

গত ২৯ জুন গলা ব্যথা, কান ব্যথা, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় হিমা রাশিদ আপুকে জানাই। আপু সাথে সাথে ‘সংযোগ’-এর হেল্প লাইনের নাম্বার দিয়ে আমাকে কথা বলতে বললেন। হেল্প লাইনের প্রথম নাম্বারে একবার কল করেই পেয়ে গেলাম ডা. আহমেদকে। অত্যন্ত সুন্দরভাবে তিনি আমার সব অসুবিধা শুনলেন। জানালেন কী কী মেডিসিন খাব। ততক্ষণে কোভিড টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। অথচ শারীরিক সমস্যা অপরিবর্তিত। অক্সিজেন স্যাচুরেশন কখনো কখনো ৯২/৯৩ হয়ে যাচ্ছে। ডা. আহমেদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু টেস্ট করালাম। আল্লাহর রহমতে সব রিপোর্ট ভালো এলো। ওষুধগুলো কন্টিনিউ করতে বললেন তিনি। আশ্বস্ত করলেন দ্রুত সেরে উঠব। আলহামদুলিল্লাহ, আমি এখন সুস্থ হওয়ার পথে। একজন ডাক্তার যখন আন্তরিকভাবে রোগীর ট্রিটমেন্ট করেন, রোগীর মনের জোর এমনিতেই বেড়ে যায়। ডা. হিমা রাশিদ আপু, ডা. আহমেদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ হয়ে রইলাম। এই চরম দুঃসময়ে গভীর রাতেও তাদের আন্তরিক পরামর্শ আমাকে অনেক বেশি হেল্প করেছে। হিমা আপু বলে রেখেছিলেন যে কোনো সময় অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন হলে যেন সংযোগ হেল্প লাইনে কল দিই।  মন খারাপ করা সময়ে সংযোগ টিমের এই আন্তরিক ব্যবহার, দায়িত্বশীল আচরণ আশা জাগায়। ঠিক এমনভাবেই ফেসবুকে জনৈক রোগী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সংযোগের করোনাকালীন স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে বর্ণনা করছিলেন। গত বছর করোনাকালে মানবতার সেবায় শুরু হয় সংযোগের কার্যক্রম। খুব অল্প সময়ে তারা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মানুষের আস্থার জায়গায় এখন সংযোগ একটি বিশ্বস্ত নাম। আরো একজন (হোসেন আহমেদ) ফেসবুকে সংযোগ গ্রুপে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন ঠিক এইভাবে- চুয়াডাঙ্গায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা পর্যন্ত সংযোগের যে সেবা আমি গ্রহণ করেছি সেটা অমূল্য। আমার সাথে ক্যানসার রোগী ছিল, হঠাৎ তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে আমি চারদিকে অক্সিজেনের জন্য ফোন করতে থাকি, তখন আমার পাশে এসে দাঁড়ায় সংযোগ-এর আসিম ভাই, সায়েম ভাই, রাজন ভাই। তারা তিন দিন আমাদের চাহিদামতো অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়ায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা রোগীকে ঢাকা পর্যন্ত নিয়ে আসতে পেরেছি। সংযোগ গ্রুপকে ধন্যবাদ বিশেষ করে আসিমুজ্জামান ভাইকে। সংযোগ : কানেক্টিং পিপল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এরা মূলত দুর্যোগপীড়িত মানুষের পাশে কীভাবে থাকা যায়, সেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে। মানবিক কাজে সংগঠিত করে মানুষকে। মানুষ আর মানবতার যোগসূত্র স্থাপন করে সংযোগ। এটি কোনো তহবিল সংগ্রহ করে না। এটি শুধু দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে ‘সংযোগ’ ঘটিয়ে দেয়। কোভিড-১৯-এর সবচেয়ে ভয়াবহ পর্যায়টি হচ্ছে যখন অসুস্থ ব্যক্তির শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এ কারণে কোভিড-১৯ বললেই দমবন্ধকর অবস্থাটিই প্রকট হয়ে ওঠে। বুকের ভেতরটা কেমন ভারী হয়ে আসে। যেন শব্দটি শোনামাত্রই শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর হয়, তাদের দ্রুততার সঙ্গে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিতে হয়। আর মধ্যম পর্যায়ের আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও অক্সিজেন সরবরাহ করতে হয়। ফলে কোভিড-১৯-এর এই সময়ে অক্সিজেন নিয়ে একধরনের হাহাকার তৈরি হয়েছে। এই হাহাকারের কারণটি মূলত অক্সিজেন সরবরাহ যন্ত্রের স্বল্পতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় কাজ করছে ‘সংযোগ : কানেক্টিং পিপল’ পরিবার। আপনার তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে সংযোগ থেকে পেতে পারেন অক্সিজেন সিলিন্ডার কিংবা কনসেনট্রেটর।

দেশজুড়ে কাজ করছে সংযোগ। অক্সিজেন সেবা, করোনা রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ সেবা এমনকি করোনা রোগীর জন্য কেয়ারগিভারের দায়িত্ব পালন করছে সংযোগ। এই করোনাকালে রোগীদের রক্তের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াচ্ছে সংযোগ। সংযোগের এই বিশাল মানবিক কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে দেশের তরুণ-তরুণীরা। তারা করোনাকালে মানুষের বিপদে নিজেকে নিয়োজিত করছেন সংযোজক হিসেবে। তেমনি একজন বলছিলেন, ‘শ্বাসকষ্টের রোগীরা বুকভরে একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য কতটা কষ্ট করে তা বিগত কিছুদিন যাবৎ অক্সিজেন নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতায় নিজ চোখে না দেখলে হয়তো বুঝতাম না কখনোই। অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। সংযোগ-কানেকটিং পিপলকে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আপনাদের সহায়তায় বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে স্বজনের বেশে সেবা দান করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।’ করোনায় আক্রান্ত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও কনসেনট্রেটর মেশিন। আইসিইউ তৈরি, হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা সরবরাহ, করোনা আক্রান্ত রোগীদের প্লাজমা ডোনারের সন্ধান দেয়ার কাজ করছে নিয়মিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাসপাতালের ডাক্তার, পুলিশ, সাংবাদিকদের জন্য পৌঁছে দিচ্ছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই)। খাবারের কষ্টে থাকা মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা নিয়ে হাজির হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অভাবে থাকা মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে নগদ অর্থ সহায়তা। শীতার্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে হাজার হাজার কম্বল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের ৩৬ জেলায় রয়েছে সংযোগের অক্সিজেন হাব। ৬০০-র বেশি সিলিন্ডার ঘুরছে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায়। প্রায় ২০টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর মেশিন আছে সাথে। খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীর তিনটি সরকারি মেডিকেলে ৬টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা সরবরাহ করেছে সংযোগ। সংযোগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- খুব খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। ফ্লায়ারগুলো ছড়িয়ে দিন। আপনার প্রিয়জন যেন প্রয়োজনে হোম অক্সিজেন থেরাপি নিতে পারে, সেটা নিশ্চিত করুন। অক্সিজেনের অভাবে কারো শ্বাসকষ্ট না হোক। তথ্য জীবন বাঁচাতে পারে। দরকারি তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে সহযোগিতা করুন।

করোনাকাল না এলে অক্সিজেনের গুরুত্ব কতটা আমরা হয়তোবা এমনভাবে অনুধাবন করতাম না। এই করোনাকালে আমরা দেখেছি একটু অক্সিজেনের একজন মানুষের কতটা কষ্ট হতে পারে। গত বছর করোনায় আক্রান্ত অনেক মানুষ মারা গেছে তীব্র শ্বাসকষ্টে। অক্সিজেন সংকটে হাহাকার শুরু হয়েছিল করোনায় আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে। অক্সিজেন সংকটের তীব্রতা কী জিনিস তা ভারতে করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছে। বাংলাদেশে এখন চলছে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাব। আরো কয়েকটি ভ্যারিয়েন্টের কথা শোনা যাচ্ছে। জনগণের সচেতনতার অভাবে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। ঢাকাসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ফলে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সংকট। এই সমস্যা ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনিও সংযুক্ত হতে পারেন অক্সিজেন সিলিন্ডার কিংবা কনসেনট্রেটর সেবায়

যেভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবা কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন- ১. আপনার বাসাবাড়িতে যদি খালি সিলিন্ডার থাকে, সেটা দান করে আমাদের এ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পারেন। আপনার দেয়া সিলিন্ডারে অক্সিজেন ভরে সেটা বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে।

২. আপনার ফ্যাক্টরিতে যদি পড়ে থাকে, সেটা দিন। সংযোগের অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কাজ করা টেকনিক্যাল এক্সপার্ট লোকজন আছেন, তারা ক্লিয়ারেন্স দিলে সেটা ইউজ করা যাবে।

৩. সিলিন্ডার তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে দেয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আপনি বেকার হয়ে থাকলে সম্মানীর বিনিময়ে কিংবা স্বেচ্ছাশ্রম হিসেবে সংযোগের এ প্রোগ্রামে কাজ করতে চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজ, গ্রুপ কিংবা ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন।

৪. সংযোগ শপ থেকে কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য  জায়গা থেকে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর কিনে সংযোগ অক্সিজেন সাপোর্ট টিমে দান করতে পারেন, যা করোনা দূর্ভোগে অসংখ্য মানুষকে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারে। সুস্থ করে দিতে পারে।

যেভাবে নিতে পারবেন অক্সিজেন সিলিন্ডার বা কনসেনট্রেটর মেশিন

১. রোগীর বর্তমান অবস্থা জানাতে হবে (চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ও রোগীর দৃশ্যমান উপসর্গ)। এক্ষেত্রে সংযোগের ফেসবুক গ্রুপ বা পেজে তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

২. রোগীর প্রেসক্রিপশন পর্যবেক্ষণ ও অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করবেন সংযোগ মেডিকেল টিম। একমাত্র সংযোগের ডাক্তারদের সম্মতির পরই অক্সিজেন সিলিন্ডার আপনার বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

৩. অক্সিজেন সিলিন্ডার পেতে ডকুমেন্ট হিসেবে রোগী ও রোগীর পরিবারের একজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি (ডিজিটাল), রোগীর প্রেসক্রিপশন ও রোগীর সিলিন্ডার লাগবে, এই মর্মে ডাক্তারের প্রত্যয়ন পত্র।

৪. সিলিন্ডার সর্বোচ্চ তিন দিন বাসায় রাখা যাবে। তবে কারো যদি তিন দিনের বেশি সময় সিলিন্ডার রাখতে হয়, সেক্ষেত্রে নতুন করে সিলিন্ডারের চাহিদাপত্র জমা দিয়ে নতুন সিলিন্ডার নিতে হবে।

 

== স্বেচ্ছাসেবক ==

দেশ ও সংযোগ-কে বুকে ধারণ করি, আমিই সংযোগ!!!

সংযোগ চিরজীবী হোক, আরো আলো নিয়ে আসুক,

কৃতজ্ঞতা সংযোগ। কানেকটিং পিপল আমাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য এবং আমাকে সম্মানিত করার জন্য।

সংযোগ-এর সাথে আছি সবসময়, সংযোগের চমৎকার সব উদ্যোগের সাথে কাজ করতে চাই ।

সংযোগ-এর বৃহৎ পরিবারে সবাইকে শুভেচ্ছা ও বিশেষ কৃতজ্ঞতা আহমেদ জাভেদ জামাল ভাইয়াকে। আমাকে কাজে যারা সহযোগিতা করেছেন সবাইকে ধন্যবাদ।

সংযোগে সবই পাবেন। তাই বলি, যুক্ত হলে আপনারই লাভ...

সংযোজক

ফেনী জেলা
 

===সম্প্রতি করোনার ভয়াল থাবায় জনজীবন বিপর্যস্ত। আক্রান্তের সংখ্যায় প্রতিদিনই রেকর্ড ভাঙছে। প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোসহ সারা দেশেই করোনা তার প্রভাব ছড়াচ্ছে।

হাসপাতালে যথেষ্ট অক্সিজেন থাকা সত্ত্বেও রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই অক্সিজেন বঞ্চিত হচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অক্সিজেনের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ‘সংযোগ- কানেকটিং পিপল’-এর চুয়াডাঙ্গা মেডিকেল হাবের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে দুটি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর উপহারস্বরূপ দেওয়া হয়েছে। ৮ জুলাই সকাল ১০টায় সংযোগের চুয়াডাঙ্গা জেলা মেডিকেল হাবের সদস্যরা কনসেনট্রেটর দুটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এএসএম ফাতেহ আকরামের কাছে হস্তান্তর করেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের অক্সিজেন কনসেনট্রেটর হস্তান্তত অনুষ্ঠানে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এএসএম ফাতেহ আকরাম  বলেন, ‘সংযোগ কানেকটিং পিপল চুয়াডাঙ্গা মেডিকেল হাবকে অসংখ্য ধন্যবাদ সদর হাসপাতালে দুইটা কনসেন্ট্রেটর আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য।আমরা সবাই এভাবে এগিয়ে আসলে চুয়াডাঙ্গার জনসাধারন শ্বাস কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে। সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকা সত্ত্বেও রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সংযোগের দেওয়া কনসেনট্রেটরগুলো বড় সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। এভাবে সবাই এগিয়ে এলে আমরা রোগীর চাপ সামাল দিতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ। " সংযোগ- Connecting People "শ্বাসকষ্টে থাকবে না বাংলাদেশ" এই স্লোগান সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের ৩৬টি জেলায়। এই কার্যক্রমের ধারা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

শাহরিয়ার সিয়াম

সংযোজক

চুয়াডাঙ্গা জেলা মেডিকেল হাব

 

==== হ্যাঁ, আমি সংযোগ কেয়ারগিভার!

জি, আমি কোভিড আক্রান্ত পেশেন্ট। এর সাথে থেকে কাজ করি! তাদেরকে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার গর্বিত দায়িত্ব পালন করি।

খুব কাছের একজন বলেছিল, তোমার ভয় লাগে না? 

তার প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলাম- না, সবাই সময়ের স্রোতে গা ভাসায় না। কেউ কেউ তার বিপরীতও হয়। আমি না হয় তাদের দল এই, দেশের মানুষের এই ক্লান্তিলগ্নে তাদের পাশে থেকে তাদের সেবা করতে পারছি, এর থেকে বড় পাওয়া কী হতে পারে?

কেয়ারগিভার হিসেবে কাজ করে অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, অনেক দোয়া পেয়েছি। যাদের আমি কোনোদিন চিনতামও না, তাদের সাথে থাকতে থাকতে মনে হয় তারাই আমার পরিবার, আমার খুব আপনজন। এই মহৎ পেশায় কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য শ্রদ্ধেয় জাভেদ জামাল স্যারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ এবং অশেষ ধন্যবাদ। সেই সাথে ধন্যবাদ সংযোগের কেয়ারগিভার টিমের দায়িত্বশীল সাদিয়া শারমিন ম্যাম এবং এইচ এম শাহিন ভাইকে।

আল্লাহর কাছে দোয়া করি সুস্থ হয়ে ওঠো প্রিয় মাতৃভূমি।

 

আমি দেশের বাইরে থাকি। দেশে আমার বাবা-মা করোনায় আক্রান্ত হয়। তাদের চিকিৎসার জন্য সংযোগ-এর মেডিহেল্পের সাথে যোগাযোগ করি। আমি ডা. আতিয়ারের প্রতি কৃতজ্ঞ। তার উপদেশে আমার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করাই। তার ৬০% ফুসফুস আক্রান্ত ছিল। এখন তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ধন্যবাদ সংযোগ-কে! ধন্যবাদ মেডিহেল্পকে। ধন্যবাদ ডা. আতিয়ারকে।

তখন গভীর রাত। হঠাৎই ফোন বেজে উঠল, ঘুম চোখেই কল রিসিভ করে জানতে পারলাম জরুরিভিত্তিতে অক্সিজেনের প্রয়োজন। গভীর রাতে কোনো গাড়ি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সাইকেল নিয়েই বেরিয়ে যায় সংযোগ অক্সিজেন হাব-এর স্বেচ্ছাসেবকরা। অক্সিজেন সেবা দিয়ে ফিরে আসতে আসতে ফজরের আজান দিয়ে দেয়।

এভাবেই শ্রম দিয়ে যাচ্ছে সংযোগ অক্সিজেন হাব-এর প্রতিটি সদস্য। যেকোনো সময় প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ সাপেক্ষে আপনার জরুরি প্রয়োজনে কল করুন :

☎️ 01711-443620

☎️ 01775-062086

 

জরুরি মুহূর্তে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে :

☎️ 01515619914

☎️ 01771982669

☎️ 01580738381

 

মানুষের জন্যে,  মানুষের পাশে  সংযোগ।

আরও পড়ুন

বিশ্ব

অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • আপডেট ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বিশ্ব

ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬

  • আপডেট ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

দুর্ঘটনা

রাজধানীতে সড়কে ঝরলো ২ প্রাণ

  • আপডেট ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২


বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads