• শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯
গ্যালারি কায়ায় চলছে সোহাগ পারভেজের 'মাই কান্ট্রি'

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

গ্যালারি কায়ায় চলছে সোহাগ পারভেজের 'মাই কান্ট্রি'

  • সালেহীন বাবু
  • প্রকাশিত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

১৯৮১ সালে কুষ্টিয়ায় জন্ম শিল্পী সোহাগ পারভেজের। জলরঙে ছবি এঁকে পরিচিতি পেয়েছেন সারা দেশে। এ পর্যন্ত আট শতাধিক ছোটদের বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন। পেয়েছেন অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার। শিল্পী সোহাগ পারভেজের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে তার অষ্টম একক প্রদর্শনী ‘মাই কান্ট্রি’। ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের গ্যালারি কায়ায় এর উদ্বোধন করা হয়। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিল্পপিপাসুরা এ প্রদর্শনী উপভোগ করতে পারবেন। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কার্টুনিস্ট ও দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার খান। ‘মাই কান্ট্রি’ শিরোনামে এ প্রদর্শনীতে শিল্পী সোহাগ পারভেজের আঁকা ৪২টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। ‘বিউটি অব বান্দরবান’, ‘সান্তাল ফ্যামিলি’, ‘মাই কান্ট্রি’, ‘ওল্ড ঢাকা’, ‘ফিশিং’, ‘কালবৈশাখী’, ‘মহেশখালী’, ‘বান্দরবান ইন অটাম’, ‘ওয়ে টু হোম’, ‘সেইলিং’সহ নানা শিরোনামে এসব ছবি আঁকতে ক্যানভাসে ব্যবহার করা হয়েছে ওয়াটার কালার, অ্যাক্রিলিক, চারকোলসহ বিভিন্ন মাধ্যম। আয়োজকরা জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই প্রদর্শনী চলবে। এ কারণে গ্যালারিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১৫ জন দর্শনার্থীকে প্রদর্শনী ঘুরে দেখার সুযোগ দেওয়া হবে। এই প্রদর্শনীটি পৃষ্ঠপোষকতা করছে এডিএন গ্রুপ। এই প্রদর্শনীসহ সার্বিক বিষয়ে কথা হয় শিল্পীর সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সালেহীন বাবু।

আপনার এই প্রদর্শনী সম্পর্কে বলুন?

এই প্রদর্শনীতে বিগত ৩ বছরের অনেকগুলো কাজের মধ্য থেকে বাছাই করা ৪২ টি ছবি উপস্থাপন করেছি। আমি যেহেতু বাংলাদেশ নিয়েই কাজ করি সেহেতু এই প্রদর্শনীর নাম রাখা হয়েছে ‘মাই কান্ট্রি’। আমার ছবির ভাষা হচ্ছে বাংলাদেশ। এদেশের প্রকৃতি ও মানুষকে নিয়ে আমি চিন্তা করি তা রূপদানের চেষ্টা করেছি। সেটা জলরঙে হোক, ক্যানভাসে বা ওয়াটারকালারে হোক বিভিন্ন মাধ্যমে। আমার ছবি জলরং আছে, অ্যাক্রিলিক আছে, চারকোল, ড্রইং আছে।

আপনার এই প্রদর্শনীর বিশেষত্ব কী?

এই প্রদর্শনীর বিশেষত্ব হচ্ছে চারকোল আর ড্রইং-এর কাজ। এই প্রদর্শনীতে একটি সাঁওতাল পরিবারকে আমি এক রঙে ফুটিয়ে তুলেছি। এই প্রদর্শনীতে ৪২ টি ছবি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় আমার কোনো ছবি ২০১৯ এ আঁকা। কোনোটি তার পরের বছর আঁকা। আবার একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যেয়ে সরাসরি ছবি এঁকেছি। কিছু ছবি বাসায় এঁকেছি। এই প্রদর্শনীর উল্লেখযোগ্য ছবি হলো পুরান ঢাকা নিয়ে। যেমন পুরান ঢাকা সেই আমলে যারা শাসন করেছেন। তাদের আলাদা আলাদা জীবনচিত্র ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছি।  এখানে সোনারগার পানাম নগর নিয়ে বেশ কিছু জলরং আছে। বুড়িগঙ্গার ছবি আছে।

কেন বাংলাদেশের ছবি?

প্রথমেই আমাদের শিকড়কে চিন্তা করতে হবে। আমাদের শিকড়টা জয়নুল, কামরুল, সুলতান স্যার। এই উপমহাদেশে বাংলাদেশের চিত্রকলার আলাদা একটা ধারা আছে। এই  ধারার মধ্যে আমাদের বাংলাদেশের সব কিছুই আলাদা ও ভিন্ন। যেমন গাছ আলাদা। পাখি আলাদা। এভাবে প্রত্যেকটি জিনিস আলাদা। আমার কাজ দেখলেই বোঝা যাবে এটা বাংলাদেশের ছবি। আমার শিক্ষক হচ্ছেন  হাশেম খান। শিক্ষক আপনাকে পথ দেখাবে। তবে আমার মূল শিক্ষক হচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৃতি, এদেশের মানুষ। আমার প্রতিটি একক প্রদর্শনীর নামের সাথে বাংলাদেশ আছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় পাস করার পর আমার কাজে নিজস্বতা তৈরি করার চেষ্টা করেছি চর্চার মাধ্যমে। আমি চিন্তা করি বাংলাদেশকে নিয়ে।

জন্ম ও বেড়ে উঠা কোথায়?

আমি পড়াশোনা করেছি  কুষ্টিয়াতে। ১৯৮১ তে জন্মগ্রহণ করি। আমি শহরে জন্মগ্রহণ করলেও এখানের গ্রাম দ্বারা প্রভাবিত হয়েছি বেশি। পরে আমি কুষ্টিয়ায় লালন-রবীন্দ্রনাথের বলয়ে যে সংস্কৃতি তা দেখে বড় হয়েছি। আমি উৎসাহ পেয়েছি। সেই উৎসাহে থেকে আমার পথচলা । চারুকলায় ২০০৩ সালে ভর্তি হয়েছি। বের হয়েছি ২০১২ সালে।

এ পর্যন্ত একক ও যৌথ প্রদর্শনী করেছেন কতগুলো?

আমি একক প্রদর্শনী করেছি ৮টা। গ্রুপ প্রদর্শনী করেছি ৭৫টা। ১৪ টি দেশে প্রদর্শনী করেছি। আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়ায় শো করেছি সেখানে আমার মূল থিম বাংলাদেশ। 

আপনার ‘জলের ধারা’ সম্পর্কে বলুন?

আমি নিজস্ব চারুকলা দিয়েছি। নাম দিয়েছি জলের ধারা। একজন চাকুরিজীবী যার ছবির প্রতি আগ্রহ আছে। সে এখানে ডিপ্লোমা করতে পারবে। এখানে ২ বছর, ৩ বছরের কোর্স আছে। আমি শুধু নিজেই আঁঁকছি না। আরো নতুন নতুন চিত্রশিল্পী তৈরি করেছি। আপাতত ‘জলের ধারা’তে অনলাইনে কোর্স চলছে। আমরা প্রতি বছরই আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন করি। সর্বশেষ কোভিডের আগে হয়েছিল ‘জলরং’ উৎসব। এটি তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একজন শিল্পীকে প্রমোট করা। যেমন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন একজন শিল্পী আছেন যিনি নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ পাচ্ছেন না। আমরা তার সাথে যোগাযোগ করি। তাকে আর্ট ক্যাম্প করার সুযোগ দেই। আসলে একাডেমির শিক্ষা থাকলেই যথাযথ শিল্পী তৈরি হয় না। যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি এটিকে ধারণ করছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads