• শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৬ কার্তিক ১৪২৮
অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খানের চারুকলা পাঠ

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

পর্ব-৯

অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খানের চারুকলা পাঠ

  • প্রকাশিত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

লেখা : ভাস্করশিল্পী আইভি জামান (নয়)

ইংল্যান্ড চার মাস থাকতে হবে। ডাক্তারদের নির্দেশ সময়টা ছিল উনিশ-শ ঊনসত্তর  হামিদুজ্জামানের বয়স চব্বিশ বছর। ইংল্যান্ডে এসে চার মাস থাকতে হবে। লন্ডনে তখন কোনো কাজ ছিল না। ব্রিটিশ মিউজিয়ামে অনেক বার গেছে। ভিক্টোরিয়া এন্ড আলবার্ট মিউজিয়াম, ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারি, টেট ব্রিটেন গ্যালারি, তিনি মিউজিয়াম, দেখতে শুরু করলেন। তখন তিনি লন্ডনে বহু জায়গায় স্কাল্পচার দেখলেন। আলাদা পার্ক আছে। ব্রিটিশ মিউজিয়াম দুনিয়ার সমস্ত কিছু দেখতে পেলেন। তখন তার হাতে অফুরন্ত সময় ছিল, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছে। এটাতে তিনি বুঝতে পারলেন স্কাল্পচার আউট ডোরে থাকে। তখন তার মনে হয়েছে স্কাল্পচারের অনেক বেশি পাওয়ার। হামিদুজ্জামান চার মাস সুস্থ ছিলেন। পরে ইংল্যান্ডের ডাক্তারদের সাথে আলাপ করতে উনারা বললেন, তুমি চলে যেতে পারো। আর কোনো অসুবিধা নেই তোমার। একটা সময় আছে...সেটা চলে গেছে, এখন অ্যাডজাস্ট হয়ে গেছে। এরপর হামিদুজ্জামান প্যারিসে আসেন দুই সপ্তাহ থাকবেন। প্রথমে ল্যুভরের কাছাকাছি একটা এক্সিবিশনে হয়েছিল জিয়োকোমেটির...বড় এক্সিবিশন, ওইটা  দেখলেন। আস্তে আস্তে স্কাল্পচার দেখতে শুরু করেছেন। তারপর অনেক ভালো করে ঘুরে দেখতে শুরু করলেন। তার পর ওই মোমার্ত, আরো অনেক কিছু প্যারিসে  ঘুরে ঘুরে দেখছেন। একটা ব্রিজের সামনে একটা স্কাল্পচার। স্পট লাইটের সামনে স্কাল্পচার, কিছুটা ল্যান্ডস্কেপে যেটা আগের জমানার...আশপাশে প্রচুর স্কাল্পচার। এগুলো কিন্তু হামিদুজ্জামানকে আস্তে আস্তে প্রভাবিত করছে। স্কাল্পচার তো খুব পাওয়ারফুল...বাইরে রাখা যায়, প্রকৃতির ছোঁয়া থাকে। এটা হামিদুজ্জামানকে ইনফ্লুয়েন্স করে। পরে ইটালিতে আসেন। ইতালি তো স্কাল্পচাররের দেশ।

যেহেতু তিনি চারুকলা থেকে পাশ করে গেছেন দেখা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। ইতালিতে গেলেন। ইতালিতে গিয়ে দেখলেন সত্যিই স্কাল্পচারের দেশ। সেন্ট পিটারে ঢুকলেন, ঢুকে দেখতে পেলেন শত শত স্কাল্পচার। যেগুলো উনি বইয়ের মধ্যে দেখতে পেয়েছেন। চারুকলার কোর্সে ছিল সেন্ট পিটারে অনেকগুলো আছে। মাইকেল অ্যাঞ্জেলো থেকে শুরু করে...সেই ফ্রেসকো, প্রচুর স্কাল্পচার। এগুলো দেখে তিনি মানসিকভাবে স্কাল্পচারের দিকে ঝুঁকে  পড়েন। ঢাকা আসলেন, আসার পরে আমাদের তখন ডিপার্টমেন্ট এই ভাবে চালু হয়নি। ডিগ্রি হয় নাই...ডিগ্রি হয়তো চালু হবে আরো দু-এক বছর পর, কিন্তু তখন আনোয়ার জাহান বলে একজন কাজ করতেন। আনোয়ার জাহান পেইন্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে পাশ করেছেন। তখন তো ডিগ্রি ছিল না। তখন হামিদুজ্জামান তাকে বললেন। আমি স্কাল্পচার শিখতে চাই? বললেন করো।

হামিদুজ্জামান স্কাল্পচার ডিপার্টমেন্ট মাটি দিয়ে কাজ শুরু করলেন। কিছুদিন পরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন স্যার ডাকলেন। ডেকে বললেন, তুমি জয়েন করো...টিচার। কোন ডিপার্টমেন্ট? ‘স্কাল্পচার’।

দেশ স্বাধীন হলো...ইন্ডিয়ান স্কলারশিপ ওপেন হলো।

হামিদুজ্জামান বললেন, স্যার আমি স্কাল্পচার পারি না। বললেন, না, কিছু পারতে হবে না। তবে আব্দুর রাজ্জাক স্যার এর কাছে ভাস্কর্য হাতে খড়ি। ছয় মাস উনার কাছে মাটির কাজ করেছেন। আব্দুর রাজ্জাক স্যার ভাস্কর্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ছিলেন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন তুমি এখন থেকে ক্লাশ নিবা, তুমি ড্রয়িংটা দেখবা। আস্তে আস্তে স্কাল্পচার শিখা যাইবা। এই ছিলেন জয়নুল আবেদিন। হামিদুজ্জামান তখন শিক্ষকতা শুরু করলেন। সময়টা ছিল উনিশ-শ সত্তর। তারপর হামিদুজ্জামান ভাবলেন আমি টিচার হয়েছি, আমি তো স্কাল্পচারের কিছু জানি না। তারপরে নিজে নিজে কাজ করছেন।

সেভেনেটি ফোরে একটা স্কলারশিপ পেলেন। আবেদিন স্যার বললেন, তুমি স্কলারশিপের জন্য অ্যাপ্লাই করো, মাস্টার্স কইরা আসো। অ্যাপ্লাই করলেন। আবেদিন স্যার ছিলেন জাজ, সিলেকশন বোর্ডে। ইন্টারভিউ দিতে ঢুকতেই দেখতে পান শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন স্যার চলে যাচ্ছেন। স্যার আমরা তো ইন্টারভিউ দিতে আসছি। আসছি। তো বলেন, ‘যাও’ ইন্টারভিউ হবে না। তোমার ইন্টারভিউ লাগবে না। আমি দেখেছি কারা কারা অ্যাপ্লাই করছে, যারা যাবে আমি মনে  করছি দিচ্ছি, আমি সাইন কইরা দিয়া বলছি ওদের চইলা যাইতে বলেন, ইন্টারভিউ হবে না। আমি সিলেকশন কইরা দিয়া চইলা গেলাম। এই ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন  স্যার। এ কথাও বললেন, ‘তুমি গিয়া স্যুটকেস রেডি করো। পড়তে যাবা।’

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads