• শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
দেশের মাটির গন্ধে আমার মায়ের গন্ধ পাই: ভাস্কর আইভি জামান

ভাস্কর আইভি জামান

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

দেশের মাটির গন্ধে আমার মায়ের গন্ধ পাই: ভাস্কর আইভি জামান

  • সালেহীন বাবু
  • প্রকাশিত ০৯ জানুয়ারি ২০২২

আইভি জামান। বিশিষ্ট ভাস্কর। তার বাবার নাম এমদাদুল হক তরফদার। মার নাম রওশন আরা তরফদার। আইভি জামানের বাবা ছিলেন ডাক্তার। এমদাদুল হক  মেয়েকে চারুকলায় ভর্তি করান। যে সময় আইভি জামান চারুকলায় ভর্তি হন সে সময় নারীদের ভাস্কর্যে আসার কথা অনেকেই যখন চিন্তাই করতেন না। এরপর আইভি জামান বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্যের ওপর ডিগ্রি নেন। তারপর চলে গেছে অনেকটা সময়। এখনও ভাস্কর্য নিয়েই ক্রিয়াকর্ম তার। এদিকে ষাট পেরুলোন আইভি জামান। গত বুধবার ছিল আইভি জামানের জন্মদিন। অনেকটাই সাদামাটাভাবে কেটে গেছে তার দিন। এই শিল্পী বলেন, ‘আমাদের সময় জন্মদিন করার প্রথা মোটেও ছিল না ওটা ইংরেজদের নিয়ম। স্কুলে ভর্তির সময় বছরের প্রথম ইংরেজি মাসের প্রথম দিকের তারিখ। এবার আমার ফেসবুক ছোট বড় বন্ধুবান্ধব আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসার বা জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আমি আনন্দিত ও মুগ্ধ আবার কিছুটা লজ্জিত। সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভ কামনা। আমরা সবাই সবার আনন্দে আনন্দিত। তাই আমি সবার সাথে সুন্দর মুহূর্তের ছবি দিয়ে আনন্দ কিছুটা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি মাত্র। যাদের ছবি দিতে পারি নাই তারা আমার প্রাণের মাঝে মিশে আছেন। এই জন্মদিন অনুযায়ী প্রথমেই মা, বাবাকে জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা। যাদের আদর্শে আমার বেড়ে উঠার সুযোগ হয়েছিল। মহান আল্লাহ পাক যেন উনাদের বেহেশত নসিব করেন। আমার খুব মনে পড়ছে আমার মা আকাশের নক্ষত্র হয়ে চলে যাবার মাত্র এক বছর আগেই আমাকে বলেছিলেন, আমার জন্মগ্রহণের সঠিক তারিখ ও দিনক্ষণ। মা আমাকে বলতেন, মা-গো তোমার সুন্দর দিনে জন্মদিন। আমরা গর্বিত সার্থক মা তোমার জন্ম এই দিনে। তখন আরবি মাসের সুন্দর দিনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বেশি ছিল। মা বংলাদেশের এই মাটিতে মিশে আছেন। তাই দেশের মাটির গন্ধে আমার মায়ের গন্ধ পাই।’

আইভি জামান ভারতীয় ভাস্কর্যরীতি প্রত্যাখ্যান করেছেন, একই সঙ্গে ইউরোপের ভাস্কর্যের আধুনিকতা জয় করেছেন। বরাবরই তিনি স্পেস থেকে বিভিন্ন ফর্ম গড়েছেন। সমগ্র স্তব্ধতার মধ্যে গতি খুঁজেছেন, পাথর, মার্বেল, কিংবা কাঠের চিন্তা তাকে ভর করেছে, ভাস্কর হিসেবে তার প্যাশন হচ্ছে পাথর, মার্বেল, কিংবা কাঠের মধ্যে নিজেকে রূপান্তরিত করা। ভয় ও আতঙ্ককে তিনি নিজের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা করে তোলেন, এই ভয় হচ্ছে তার নিজের মধ্যকার ক্রোধ। এই ক্রোধ জয় করে তিনি নিজের সঙ্গে কথা বলেন। এই কথা বলাটাই তার কাজ। শব্দ না করে নিজের সঙ্গে কথা বলা। কখনো কখনো তার কাজ গানের মতো, স্পষ্ট বোঝা যায়, কখনো বোঝা যায় না। আস্তে আস্তে, বারবার দেখতে গিয়ে, একটার পর একটা ইমেজ মনে তৈরি হয়। যা চোখ বুজে তাকালে, রং ও রেখা ধরা দেয়, সার সার ঘূর্ণনের মতো। যা একেবারেই মেদহীন ফর্ম হিসেবে আমাদের চোখে উদ্ভাসিত, এই উদ্ভাসন মানুষের দিকে এগিয়ে আসে। আইভির মতে, মানুষ জীবন্ত ভাস্কর্য। প্রকৃতি তার ক্লাসরুম। অনন্য এই শিল্পীর কাজ ছড়িয়ে আছে বাংলা থেকে বিশ্ব।

কোরিয়ার কিমচিয়ন সিটির জিক জি ভাস্কর্য পার্ক থেকে ভারতের শান্তি নিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে, জাতীয় জাদুঘরে, শিল্পকলা একাডেমিতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে, রংপুরের পায়রাবন্দে অবস্থিত বেগম রোকেয়া কমপ্লেক্সে, এশিয়াটিক সোসাইটিসহ বিদেশের অনেক স্থানে।

আইভি জামান বলেন, ‘করোনার মধ্য দিয়ে প্রকৃতি আমাদের একটা শিক্ষা দিল। প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের আচরণ ভালো করতে হবে। প্রকৃতি যাতে ভালো থাকে সে চেষ্টাই আমাদের সবাইকে করতে হবে। আমরা যাতে কোনো প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংস না করি। সবাই এই পৃথিবীকে এসেছে জীবনটা বাঁচাতে। সে জীবনটা যেন স্বস্তিতে থাকে। এই পৃথিবীতে সবার অধিকার সমান। কীটপতঙ্গ প্রাণী এসবেরও বাঁচার অধিকার আছে। তাদের বিরক্ত করা যাবে না। এটা আমাদের অনুভব করতে হবে। এত কিছুর পরেও বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। করোনার থাবা আবার পড়েছে। তবে করোনাকে আমরা জয় করবই। এখন সেই গানটাই বেশি মনে পড়ছে-আমরা করব জয় একদিন।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads