• মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ৩ জৈষ্ঠ ১৪২৯

ফিচার

৫ম জাতীয় ভাস্কর্য পুরস্কার ২০২১

প্রথম হলেন বিজন হালদার

  • প্রকাশিত ১৬ জানুয়ারি ২০২২

জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘৫ম জাতীয় ভাস্কর্য পুরস্কার ২০২১’-এ বিজন হালদারের ভাস্কর্য ‘নেইল্ড লাভ’ প্রথম হয়। পুরস্কার হিসেবে ২ লাখ টাকা পান এই শিল্পী। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলার প্রতিষ্ঠাকালীন লগ্ন থেকে  প্রথম কোনো গ্রাজুয়েট হিসেবে বিজন হালদার এই পুরস্কারটি অর্জন করেন। বিজন বলেন, ‘আমি আমার কাজের মাধ্যমে আমার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান বাড়াতে পাড়ায় নিজের শিল্প কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে অনেক। আমি আমার বাবা-মার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমার বাবা-মা ছোট থেকে শুধু একটা কথা বলতেন। শুধু পরাশোনা শিখে তোরা মানুষ হ দেখবি এক সময় আমাদের পরিবারের সকল দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যাবে এবং তোদের বাবা মায়ের সম্মান বাড়বে। আমার হিসাবটা পরিবারের সম্মান বাড়ানো। আমি আপাতত সে কাজটা করতে পেড়েছি। মা-বাবার সম্মান এখন অনেক বেড়েছে। আমার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করায় এখন আমাদের গ্রাম থেকে পাঁচগ্রাম দূরের লোকজনও তাদের চিনে। কোথাও গেলে বা রাস্তা দিয়ে হাঁটলে এখন কেই বাবাকে দেখে দূরে সরে যায় না এখন আরো জোর করে কথা বলে তাদের আলাদা সমাদর করে বসতে দেয় যা একসময় ছিল কল্পনাতীত।’

 

পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি সম্পর্কে বিজন বলেন, ‘আমরা সবসময় আমাদের ধ্বনিত সব কিছু পেরেক দিয়েছি, তাদের মধ্যে ভালোবাসা একটি পেরেক যা ব্যথা করে কিন্তু তারপরও আমরা বন্ধন  নারী-পুরুষের ভালোবাসা কখনোই ম্লান হয় না, এতে কষ্ট আছে এবং আশা আছে।  আমার দৃষ্টিভঙ্গি হলো ভালোবাসা বেদনাদায়ক একই সময়ে এটি চিরকাল এবং চিরকাল বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ব্যথা সহ্য করে আমরা কোন কিছুর ওপর নির্ভর এবং আশা করে বেঁচে থাকি।’

 

বিজন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা স্কুল থেকে ভাস্কর্যে অনার্স,  আইসিসিআর স্কলারশিপ নিয়ে মহারাজা সয়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় বরোদা থেকে ক্রিয়েটিভ স্কাল্পচার-এ মাস্টার সম্পন্ন করেন। বিজন ছবি আঁকা শুরু  করেন ২০১২ সালে। চারুকলায় ভর্তির পরে, প্রথম বর্ষ থেকেই ভাস্কর্যের প্রতি একটি আলাদা ভালোবাসা জন্ম নেয়।

বিজন হালদার ২০১৭ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। একই বছর এশিয়াটিক সোসাইটির চারুকলা গ্যালারিতে দলীয় প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। পরের বছর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনতে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও দেশের বাইরে বেশ কয়েকটি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন ।

 

চারুকলার আদর্শ কাকে মনে করেন  এই শিল্পী। উত্তরে তিনি বলেন, ‘একজন নতুন শিল্পী হিসেবে আমি অনেক শিল্পীর কাজ অনুসরণ  করি,  আমাদের দেশের মধ্যে এসএম সুলতানের জীবন দর্শন এবং তার কাজ, সমকালীন শিল্পীদের মধ্যে   আল মামুন স্যারের কাজ, মোহাম্মদ হাফিজের কাজ ভালো লাগে। যেহেতু আমি রিফিউজি এবং  মাইগ্রেন্ট লোক নিয়ে কাজ করি তাই আমার এদের কাজ ভালো লাগে। ’

ভবিষ্যতেও আরো ভাস্কর্য  নিয়ে কাজ করতে চান বিজন। এ পর্যন্ত দেশ ও দেশের বাইরে বেশ কয়েকটি পুরস্কার পান।

 

চিত্রকলায় তরুণদের ভবিষ্যৎ  সম্পর্কে এই শিল্পী বলেন, ‘আর্টিস্টের জীবন  এক ধরনের সংগ্রাম করে টিকে থাকার মতো। এই চলার পথটা কখনো একজন তরুণের জন্য মসৃণ হয় না। এই পথ চলাটা অন্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে একটু বেশি কঠিন।  কিন্তু সব কিছু পরিবর্তনশীল। আমার আশা ভবিষ্যতে পরিবর্তন হবে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads