• শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

ফিচার

সাহসী নারীদের অনুপ্রেরণা বিথী

  • প্রকাশিত ০৮ মার্চ ২০২২

খালিদ আহমেদ রাজা

রংপুরের মেয়ে আরিফা জাহান বিথী। রংপুরের নূরপুরে বেড়ে ওঠেন তিনি। বিথীর জন্ম নিম্নবিত্ত একটি পরিবারে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাঠ সেরেছেন রংপুর থেকেই। ডিগ্রিতে পড়েছেন রংপুর বেগম রোকেয়া কলেজে। চার ভাইবোনের পরিবারে বাবা খুব একটা দায়িত্ব পালন করতেন না। বাবা যা আয় করতেন তা জুয়া খেলে উড়িয়ে দিতেন, পরিবারের হাল ধরতে মা-কে সাহায্য করার জন্যই স্কুলের অবসরে মুদি দোকানে কাজ করতেন বিথী।

বিথী চান মেয়েরা পিছিয়ে না থাকুক। মেয়েরা বাল্যবিবাহের কবল থেকে বাঁচুক। “মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে ক্রিকেটসহ সব খেলাধুলায়”। করোনাকালে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে গরিব ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করেছেন নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার, গর্ভবতী মায়েদের দিয়েছেন ওষুধ। বিথী ক্রিকেটে ছিলেন বেশ পারদর্শী। প্রতিবছর স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অন্তত চার-পাঁচটা পুরস্কার পেতেন। হাই জাম্প, লং জাম্প, ক্রিকেট—এসব খেলায় আগ্রহ ছিল।

ক্রিকেটের নেশায় মত্ত হন স্কুলে অধ্যয়নকাল থেকেই। বিথী ফার্স্ট ডিভিশনে খেলেছেন একাধিক লীগেও। ইন্টার স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নেন তিনি। শুরু হয় তার সামনে এগিয়ে চলা। ভর্তি হন ঢাকার পান্থকুঞ্জ ক্রিকেট একাডেমিতে। ২০১১ ও ২০১২ রংপুর জেলা দলে নাম লেখান বিথী। ২০১২ সালে তিনি পেশাদার ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছেন তিনি। খেলেছেন ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাব, কলাবাগান, রায়েরবাজার দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে; কিন্তু নাকের সমস্যার কারণে খেলা থেকে অবসর নিতে হয় তার ক্যারিয়ারের। খেলা ছেড়ে দিলেও ক্রিকেটকে ছাড়েননি বিথী। নারী ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ক্রিকেটার আরিফা জাহান বিথীর। শুরু করেন বাংলাদেশের প্রথম নারীদের জন্য ফ্রি ক্রিকেট একাডেমি। গড়ে তুলেছেন দেশের একমাত্র নারী ক্রিকেট একাডেমি ‘উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি’।

২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর ১৫০ ছাত্রী নিয়ে যাত্রা করে বিথী। বিথী চান তার এ সংগঠনের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক নতুন দিনের সালমা, জাহানারা, রুমানা কিংবা সানজিদা। আমাদের দেশে অনেক মেয়েই ক্রিকেট খেলতে আগ্রহী; কিন্তু আর্থিক কারণে একাডেমিতে গিয়ে খেলা শেখা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই মেধাবী ও অসচ্ছল মেয়েদের ক্রিকেট শেখাতে বিথীর এই উদ্যোগ। থাকবে প্রতিবন্ধীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা। নিজের দলের নারীরা এশিয়া কাপ জিতেছে। স্বপ্ন বিশ্বকাপ নয়, জিতে আসার লক্ষ বিথীর। নারীরা শুধু  নারী নয় তাদের থাকবে পরিচয় “নারী ত্রিুকেটার হিসেবে”।

বিথীর স্বপ্ন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচজন জাতীয় দলের ক্রিকেটার গড়ে উঠবে আমাদের একাডেমি থেকে। স্কুলে স্কুলে গিয়ে ক্যাম্পেইন করে সংগ্রহ করেন তার একাডেমির জন্য নারী ত্রিুকেটার। খুদে বাচ্চারা স্বপ্ন দেখেন লাল-সবুজের জার্সি গায়ে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন। আর তাদের এই স্বপ্নের আকাশে হাত বাড়িয়েছেন আরিফা জাহান বীথি। অনেক চড়াই-উতরাই পার করে বীথি দাঁড় করিয়েছেন উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি।

বীথির এমন সাহসী পদক্ষেপের পর আস্তে আস্তে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকেই। এবার বীথির উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমির পাশে দাঁড়ালেন খুলনার বিভাগীয় হেড কোচ ইমতিয়াজ পিলু। নিজের অর্থায়নে বীথির একাডেমিকে দিয়েছেন ক্রিকেট সামগ্রী। এই ইমতিয়াজ হোসেন পিলুর হাত ধরে উঠে এসেছেন আজকের সালমা খাতুন, শুকতারা, রুমানা আহমেদ ও শায়লার মতো ক্রিকেটাররা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads