• শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

মডেল : আয়াজ, জাদু ও সংযুক্তা, ছবি : সৌমিক দত্ত

ফিচার

পাশে আছি, পাশে থেকো

  • অরণ্য সৌরভ
  • প্রকাশিত ০৮ মার্চ ২০২২

এককালে ঘরের বাইরে নারীদের বের হওয়া নিষেধ ছিল। সেই দিন এখন অতীত। সময়ের দোলাচলে আমাদের দেশের নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সব সেক্টরেই নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়ে যাচ্ছেন। নারীর এই জয়জয়কারের যাত্রায় সহযোগী মনোভাবে পাশে প্রয়োজন পুরুষের। তবেই না এই যাত্রা পরিপূর্ণভাবে সফল হবে। নারীরা যেমন একজন পুরুষের জীবনের অলংকার, তেমনি সংসারেরও মধ্যমণি। ঘর সামলানোর পাশাপাশি এখনকার নারীরা সামলাচ্ছে কর্মক্ষেত্রও। নারীর এই পথচলায় জীবনসঙ্গীর এবং পরিবারের পুরুষ সদস্যদের কাছে প্রত্যাশা করে ভালোবাসা, সহযোগিতা। কবি নজরুল ‘নারী’ কবিতায় লিখেছেন, তার চক্ষে পুরুষ-রমণীতে কোনো ভেদাভেদ নেই। তিনি আরও লিখেছেন- ‘কোন কালে একা হয়নি ক’ জয়ী পুরুষের তরবারি,/ প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয় লক্ষ্মী নারী।’

নার্স হিসেবে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নারায়ণগঞ্জে কর্মরত শারমিন সুলতানা সুমি। স্বামী এনামুল হক প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন আলী আহম্মদ মিয়া বহুমুখী মহাবিদ্যালয়ে।

সুমি বলেন, পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা ছাড়া এই পর্যায়ে হয়তো আসতে পারতাম না। প্রতিটি কাজে বিয়ের আগে ভাইদের সহযোগিতা এবং বিয়ের পর স্বামীর সহযোগিতা পেয়ে আসছি। বিয়ের পর এক সন্তান নিয়ে সবকিছু সামলানো যেত না, যদি না স্বামীর এবং শ্বশুর-শাশুড়ির সহযোগিতা পেতাম। আমি যেমন নিজের কাজের জায়গাটা ঠিক রেখে সব সামলে নিতে পেরেছি, তেমনি তিনিও তার কাজের জায়গার পাশাপাশি সমানভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন সংসার ও সন্তান—সবকিছুর ওপর।

এনামুল হক বলেন, একজন মানুষের সফলতার পথ অনেকটাই সুদূর প্রসারিত হয়ে যায় যখন একজন সহযোগী মনোভাব জীবনসঙ্গী পাশে পায়। সেটা পুরুষ এবং নারী-দুয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে সাহায্য, উৎসাহ, উদ্দীপনা, প্রণোদনাই পারে একজনকে সফলতার পথে এগিয়ে নিতে। আমিও বিভিন্ন উপায়ে তার পাশে থাকার চেষ্টা করি। একটি পরিবারে অনেক ধরনের কাজ থাকে, দেখা যায় আমার স্ত্রী কর্মক্ষেত্র থেকে এসে সবকিছু করে উঠতে পারছে না। আমি তার পাশে দাঁড়াই। সন্তানকে সময় দিয়ে স্ত্রীকে একটু একা সময় কাটানোর সুযোগ করে দেই।

শারমিন সুলতানা সুমি বলেন, আমার ভালো লাগা, খারাপ লাগার সঙ্গী হিসেবে তাকে পাশে পাচ্ছি। কোনো কাজই যে নির্দিষ্ট করে শুধু মেয়েদের জন্য নয়, পরিবারে স্বামী কিংবা বাবা, ভাই—যে কেউ যদি সংসারের কাজে তার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তা হলেই না সুন্দর ও সাবলীল একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

করোনাকালীন সময়টাতে লকডাউনে ঘরে বসে থেকে অনেক পুরুষের কাছ থেকে শুনেছি ঘরের কাজগুলো যে কতটা কঠিন, তা তারা খুব কাছ থেকে দেখে উপলব্ধি করতে পেরেছেন কিছুটা হলেও। কতটা ধৈর্য থাকা দরকার প্রতিদিনকার একঘেয়েমি কাজগুলো করার জন্য। তাদের এই বুঝার ক্ষমতা যেন কাজে প্রমাণিত হয় এবং সব সময় অটুট থাকে। পুরুষের ঘরের কাজে সাহায্য করাটা লজ্জার বিষয় না, বরং সম্মানের। হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাক নারী-পুরুষের সমান অগ্রযাত্রা।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ অফিসার ফারজানা ইসলাম। তিনি বলেন, মনুষ্য সমাজে কোনো সফলতাই একা অর্জন করা সম্ভব নয়। নারীদের ক্ষেত্রে প্রতিকূলতাটা আরও বেশি। এই প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন বন্ধুর মতো সহযোগী যার অনুপ্রেরণায় পথ চলাটা আরও সহজ হয়। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর যখন বন্ধুটি আপনাকে জবাবদিহিতার বদলে এক কাপ কফি নিয়ে গল্প করতে বসবে কিংবা মুভি দেখতে বসবে সেটা আপনার সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে দিবে। কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে গেলে আপনি যখন আপনার আপন ভুবনে বিচরণ করতে কোথাও ঘুরতে যেতে চাইবেন, কিংবা বাগান করতে চাইবেন, আপনার বন্ধুটি তা নির্দ্বিধায় করতে দিতে প্রস্তুত থাকবে, এমন সম্পর্কই প্রয়োজন মন খুলে শ্বাস নেওয়ার জন্য। আর্থিক বিষয়গুলোতেও পারস্পরিক সমঝোতা থাকলে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়না। স্বচ্ছতা, বিশ্বস্ততা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা এগুলো থাকলেই সম্পর্ক হয়ে ওঠে সুন্দর, পানির মতো সহজ; জটিলতা সেখানে ঠাঁই পায় না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads