• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯

ফিচার

শব্দদূষণ রোধে জবির ক্যাম্পেইন

  • ফিচার ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৮ এপ্রিল ২০২২

শব্দ দূষণে বিশ্বের শীর্ষ শহর ঢাকা। এছাড়া তালিকার শীর্ষ পাঁচ শহরের মধ্যে রাজশাহী চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে এই নীরব ঘাতক রোধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিশেষ ক্যাম্পেইন করেন। রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর, শান্তি নগর মোড় এবং বাসের ভেতরে শব্দদূষণ বিরোধী প্ল্যাকার্ড, হাতে আঁকা ছবি আর লিফলেট মাধ্যমে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেন।

মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার বালোর ‘সেলিং অ্যান্ড সেলস ম্যানেজমেন্ট’ কোর্সের একাডেমিক কাজের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের এ ক্যাম্পেইনের নির্দেশ দেন। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে এ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেন।

এসময় তারা চলমান বাসের ভিতের যাত্রীদের সচেতন করতে তাদের সঙ্গে কথা বলেন ও শব্দ দূষণ রোধে করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। তাদের এ কাজে কর্তব্যরত পুলিশরা সহায়ক ভূমিকা পালন করেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, মাইকের অবাধ ব্যবহার, গাড়ির হর্নের আওয়াজ, কল-কারখানার শব্দ, উচ্চ ভলিয়মে সাউন্ড বক্স বাজানো, পুরনো গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ ইত্যাদি পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ। এসব বিষয়ে এখনি রোধ করা না গেলে আগামীর পৃথিবী চরম হুমকির মুখে পড়বে। আমরা মনে করি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ঐক্যবদ্ধ কর্ম প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে প্রাপ্ত দিক নির্দেশনা শব্দদূষণকে নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে। তাই জনসাধারণের প্রতি আমাদের আকুল আবেদন আমরা সবাই দূষণ মুক্ত বসবাস যোগ্য একটি সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হব।

ক্যাম্পেইন চলাকালীন শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দিয়ে গাড়ি চালকদের সচেতন করেন। শিক্ষার্থীরা বাইক, সিএনজি, প্রাইভেটকার, বাস চালকদের অযথা হর্ন না বাজাতে অনুরোধ করেন। এছাড়াও হর্ন বাজানোর অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পেইন নিয়ে সাধারণ পথযাত্রীরা বলেন, এ ক্যাম্পেইন যারা করছেন উনাদের এমন ক্যাম্পেইন আরো করা উচিত। ছাত্রছাত্রীদের কাছে আমার একটা সাজেশন তারা যেন বিআরটিএতে গিয়ে ওখানকার কর্তব্যরত সকলের সঙ্গে কথা বলে এই সচেতনতা ছাড়া যেন লাইসেন্স দেওয়া না হয়।

এসময় টিম আলফা গ্রুপের শিক্ষার্থী জহির উদ্দিন বলেন, এমন কাজ পরিশ্রমের হলেও আমাদের আনন্দ দেয়, আমরা এর মাধ্যমে নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারি। একাডেমিক কোর্স বুঝতে সাহায্য করবে এবং জনসচেতনতায় কাজে দেবে।

ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া মার্কেটিং শিক্ষার্থী মিশমা দে বলেন, বাংলাদেশের পুরাতন মহামারি এই শব্দ দূষণ। এটি প্রতিকারের একমাত্র ভ্যাক্সিন হলো সাধারণ জনগণের সচেতনতা। আমাদের এ ক্যাম্পেইনে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি গাড়ি চালক, রিকশ চালকসহ যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য।

গুলিস্তানে ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সার্জেন্ট ক্যাম্পেইন নিয়ে বলেন, এ ধরনের ক্যাম্পেইন করার জন্য মার্কেটিং বিভাগের ফ্যাকাল্টিকে ধন্যবাদ। প্রচুর পরিমাণে শব্দের কারণে এখানে সাধারণ অনেক মানুষের সমস্যা আমাদের চোখে পড়ে। এ মোড়ে দাঁড়িয়ে আমরা সেইটা প্রায়শই দেখি। এখন হর্ন বাজানো একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। মানুষের কাছে সচেতনতা আরো বাড়াতে হবে।

এবিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার বালো বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষার বিষয়ে সচেতন। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা একাডেমিকের পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হোক। তাই তাদেরকে দ্বিমুখী উপকার হয় এমন কাজ দেই, এর মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়বে এবং সামাজিক সচেতনতাও হবে।

এছাড়াও নেক্সাস অব মার্কেটিং টিম গুলশান ট্রাফিক জোনের গুলশান এরিয়ায়, রাজধানীর গুলিস্তানে ক্যাম্পেইন করেন ভয়েজ অব মার্কেটিং গ্রুপ, উইজার্ড অব মার্কেটিং গ্রুপ পুরান ঢাকার তাঁতিবাজার, নয়াবাজার, বংশাল এরিয়ায়, শান্তিনগর ও মৌচাক মোড়ে অক্টাগন গ্রুপ, রাজধানীর পল্টন মোড়, কাকরাইল মোড় এবং শান্তিনগর মোড়ে নবিস মার্কেটার্সের উদ্যোগে শব্দ দূষণ বিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

 

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads