• রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯
আলো ছড়াচ্ছে ‘সেলুন পাঠাগার’

সংগৃহীত ছবি

ফিচার

আলো ছড়াচ্ছে ‘সেলুন পাঠাগার’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৫ মে ২০২২

সেলুনে চুল দাড়ি কাটতে গিয়ে ভিড়ের কারণে অনেককেই বসে থেকে অলস সময় কাটাতে হয়। সেলুনের মধ্যে অপেক্ষমাণ এই লোকদের সময়টুকু কাজে লাগানোর জন্য এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন পঞ্চগড় জেলা শহরের মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের ছাত্র আল আমিন। তিনি সেলুনের মধ্যে মিনি পাঠাগার স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর নাম দিয়েছেন ‘সেলুন পাঠাগার’। এতে করে সেলুনে অপেক্ষারত গ্রাহকরা বই পড়ে সময় কাটাতে পারবেন। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ উন্নত জাতি ও আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে বইপড়ার বিকল্প নেই তেমনি পাঠাগারের গুরুত্বই সর্বাধিক। বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের প্রান্তিক জনপদ পঞ্চগড়। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় অনেকটা পিছিয়ে প্রান্তিক এ জনপথ। পঞ্চগড়ে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে  আলোর ফেরিওয়ালা নামে পরিচিতি পেয়েছেন।

নিজ উদ্যোগে তার গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের পূর্ব শিকার পুর গ্রামে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পাঠাগার পঞ্চগড়’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। যেখানে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ বিনামূল্যে বইপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া তিনি পঞ্চগড় শহরের ৭ টি সেলুনে ‘সেলুন পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠা করেছে। যেখানে অপেক্ষমাণ গ্রাহকরা বিনামূল্যে বইপড়ার ও বাড়িতে নিয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে । এছাড়া পঞ্চগড় চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সততা স্কুল পাঠাগার’ স্থাপন  শিক্ষার্থীদের বইপড়া অভ্যাস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। মাস শেষে বুক রিভিউ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে   শিক্ষার্থীরা পুরস্কার হিসেবে পাবে বই ও বৃক্ষ উপহার। এতে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে বইপড়া অভ্যাস, নৈতিকতা তৈরি, পরিবেশ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলারা আলো  বলেন- ‘আল আমিন এ উদ্যোগ একটি ফলপ্রসূ উদ্ভাবনী পরিকল্পনা এটি যদি সব স্কুলে তৈরি করা যায় তবে বইপড়া অভ্যাস নতুন প্রজন্ম তথা শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হবে। আমি খুবই খুশি হয়েছি এই উদ্যোগে। প্রফেসর দেলওয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম অনলাইন গেম ও ফেসবুকমুখী হচ্ছে, ফেসটা বাদ দিয়ে বুক মুখী করার উদ্যোগ কৃতী শিক্ষার্থী আল আমিন নিয়েছে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই, একজন অধ্যক্ষ হিসেবে আল আমিনের মতো একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষক  হতে পেরে আমি গর্বিত, একজন শিক্ষার্থীর মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে পেরে আমি আনন্দিত, সে  এর আগেও বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পঞ্চগড়ে উদ্যোগ নিয়ে আসছে, তার এই উদ্যোগের সফলতা কামনা করি। সেলুন পাঠাগারগুলোতে  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,  কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র,  আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, হুমায়ুন আহমেদ, শামসুজ্জামান খান,  সাহিত্য সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর জীবনী, পর্যটন, বিজ্ঞান প্রযুক্তি, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ের বই আছে। পাঠকরা চাইলে সেলুন পাঠাগার হতে নাম,  ঠিকানা ও ফোন নম্বর দিয়ে বই বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন এবং পড়া শেষে বই ফেরত দিতে হবে। এ উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে পঞ্চগড়ের সেলুনগুলোতে।  আল আমিন জানান, পাঠাগারে ১২১ জন নিয়মিত পাঠক রয়েছে-যার অধিকাংশই শিক্ষার্থী। গত ফেব্রুয়ারিতে ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদদের স্মরণে ২১ টি সেলুন পাঠাগার করার উদ্যোগ নেই, বই স্বল্পতায় মাত্র ৭ টি পাঠাগার করতে সমর্থ হই। আমার পাঠাগার মাত্র ৯০০ বই রয়েছে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগারের তুলনায় অপ্রতুল।

লেখক: রুবেল মিয়া নাহিদ

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads