• শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৬ কার্তিক ১৪২৮
বিশ্বকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: পিআইডির

সরকার

বিশ্বকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৭ এপ্রিল ২০২১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা মহামারী পুরো বিশ্বের অর্থনীতি আর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নাজুক অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। এ সঙ্কট থেকে দ্রুত উত্তরণে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল সোমবার এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) ৭৭তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

রেকর্ড করা ভাষণে তিনি বলেন, করোনায় এ পর্যন্ত ২৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই শত শত মানুষের মৃত্যু ঘটাচ্ছে ভাইরাসজনিত এই রোগ। মহামারী বহু মানুষকে গরিব থেকে আরো গরিব করেছে। বহু মানুষকে নতুন করে দারিদ্র্যর মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

এ অবস্থায় এসকাপের সামনে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, মহামারীর সঙ্কট দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য উন্নত বিশ্ব, উন্নয়ন অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যে কোনো সঙ্কট সামলে আরো ভালোভাবে উত্তরণের জন্য উন্নয়নের পদ্ধতি অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হওয়া উচিত। অন্য দুই প্রস্তাবে বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি শক্তিশালী এবং সর্বজনীন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নীতি ও কৌশল গ্রহণ করা উচিত।  সেই সঙ্গে বাণিজ্য, পরিবহন, জ্বালনি ও আইসিটি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের পথ তৈরি করতে হবে। 

মহামারীর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে বাংলাদেশের নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে বলেন, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকে মজবুত করতে সরকার এরইমধ্যে প্রায় ১৪.৬ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে-যা দেশের জিডিপির ৪.৪৪ শতাংশের মতো। বাংলাদেশের সর্বশেষ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কোভিড-১৯ মহামারী থেকে পুনরুদ্ধার এবং দেশকে মসৃণ ও টেকসই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অর্জনের জন্য প্রস্তুত করা, এসডিজি অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ নির্দেশনা রয়েছে। 

বাংলাদেশ পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা ঠিক রেখে এগিয়ে চলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে অভিযোজন চেষ্টায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত যে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে, তাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতাকে যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসাবে দেখে।  আমরা সার্ক, বিমসটেক, বিবিআইএন, বিসিআইএম-ইসি এবং ত্রিপক্ষীয় হাইওয়ের মতো উদ্যোগগুলোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। সাউথ-সাউথ নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন অন্যান্য দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে। এসকাপের এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলপথের উদ্যোগকে আমরা সমর্থন দিয়েছি। এছাড়াও ক্রসবর্ডার পেপারলেস ট্রেড, এশিয়া-প্যাসিফিক বাণিজ্য চুক্তি, পিপিপি নেটওয়ার্কিং, নবায়ণযোগ্য শক্তি এবং ইউএন-এসকাপের অন্যান্য উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads