• শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ৬ জৈষ্ঠ ১৪২৯

সরকার

জনবল কমছে পিডিবির!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০২ নভেম্বর ২০২১

সরকার দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অধীনে থাকা বিতরণ এলাকাগুলো ভেঙে নতুন কোম্পানি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু পিডিবির শ্রমিক-কর্মকর্তাদের আন্দোলনে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। এরই মধ্যে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য নেসকো গঠন করা হলেও ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের শহরাঞ্চল এখনো রয়েছে পিডিবির হাতে। সরকার চাইছে পিডিবিকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেখে বিতরণ জোনগুলোতে পৃথক কোম্পানি করতে। এ কারণে পিডিবি অর্গানোগ্রাম বা জনবল কাঠামো সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ইতোমধ্যে সংশোধনের জন্য গঠন করা হয়েছে কমিটি। এ কমিটির প্রতিবেদনের পর পরামর্শকের সুপারিশও গ্রহণ করবে তারা।

জনবল কাঠামো সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আগে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করার ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করে বড় আকারের অবকাঠামো নির্মাণ করা হতো। একটি ২০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য কয়েকশ মানুষকে নিয়োগ দেওয়া হতো। এতে প্রতিষ্ঠানের খরচ বাড়ত। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে, একটি ৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১৪ থেকে ১৫ জন মানুষ কাজ করে। তাদের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য থাকে, যেটি আমাদের এখানে যা একেবারেই নেই।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জে নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) এবং সিঙ্গাপুরের সেম্বকর্পের দুটি পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। সেম্বকর্পে কাজ করে ১৪ জন। অন্যদিকে  এনডব্লিউপিজিসিএল-এ কয়েক শ’ কর্মী রয়েছে। পিডিবি বলছে, এখন বর্তমানে অর্গানোগ্রামে ১৮ হাজার ৩৯৪ জনের কাঠামো রয়েছে। এরমধ্যে কাজ করছেন ১২ হাজার ৩১৬ জন। অন্যদিকে ছয় হাজার ৭৮ জনের শূন্যপদ রয়েছে। পিডিবি বলছে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। সহকারী পরিচালক এবং হিসাব সহকারী পদে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপসহকারী প্রকৌশলী, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, নিরাপত্তা পরিদর্শক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন।

জানা গেছে, গত ২৪ জুন জনবল কাঠামো সংশোধনে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট ওই কমিটি বৈঠক করেছে। বৈঠকে অর্গানোগ্রাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অভিজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

স্বাধীনতার পর পিডিবি এককভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণ করতো। কিন্তু পরে আরইবি গঠনের ফলে দেশের গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ বিতরণে পরিবর্তন আসে। এরপর ১৯৯৬ সালে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সুযোগ দেওয়া হয়। দেশের মোট বিদ্যুতের অর্ধেকই এখন বেসরকারি উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে পাওয়া যায়। সরকারও নিজস্ব বিনিয়োগে কোম্পানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এ ছাড়া পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) গঠন করে সঞ্চালনের কাজও পিডিবির কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দেশে এখন সরকারেরই ১৩টি কোম্পানি রয়েছে যারা বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণ করছে। ফলে পিডিবিকে অনেকেই মাথাভারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করছেন।

পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘পিডিবির এখনকার যে জনবল কাঠামো তা পিডিবি গঠনের শুরুর দিকে তৈরি করা হয়। এটি বেশ পুরনো। এখনকার কাজের ধরন আগের মতো নয়। এতে কাজের অসুবিধা হচ্ছে। এখন নতুন অনেক কিছু যুক্ত হচ্ছে। তাই অর্গানোগ্রাম পরিবর্তনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বিতরণ থেকে এখনই পিডিবি সরে আসবে না। অন্য কোম্পানিগুলোর তুলনায় পিডিবি ভালো করছে। নেসকোর চেয়ে পিডিবির সিস্টেম লস এখনও কম। কোম্পানি করে খুব বেশি লাভ হয়নি। বর্তমান চাহিদার কথা চিন্তা করে যুগোপযোগী একটি অর্গানোগ্রাম করতে চাচ্ছি।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads