• শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ৬ জৈষ্ঠ ১৪২৯
সরকার আর কত ভর্তুকি দেবে : প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

সরকার

সরকার আর কত ভর্তুকি দেবে : প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৮ নভেম্বর ২০২১

সরকারকে প্রতি বছর তেল, বিদ্যুৎ, সারসহ বিভিন্ন খাত মিলিয়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। এমন তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি প্রশ্ন করেন, সরকার আর কত টাকা ভর্তুকি দেবে। বাজেটের সব টাকা যদি ভর্তুকিতে দিয়ে দেই তাহলে সব উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে সদ্যসমাপ্ত সফর নিয়ে গতকাল বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন প্রান্ত থেকে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। আর সংবাদকর্মীরা যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হল থেকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা করোনাকালে সবাইকে বার বার সহায়তা দিয়েছি। কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে সচল থাকে তার ব্যবস্থা নিয়েছি। বিভিন্ন সেক্টরে প্রণোদনা দিয়েছি। মূল্যস্ফীতি কমাতে ব্যবস্থা নিয়েছি। সবই তো করছি। কিন্তু তেল তো আমাদের কিনে আনতে হয়। সেই কেনা তেলে আবার ভর্তুকি দিয়ে জনগণকে দিতে হয়।

বাস ও অন্যান্য পরিবহনের ভাড়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেশে ছিলাম না ঠিক, তবে দেশের সঙ্গে ছিলাম না তা তো নয়। ডিজিটাল যুগ। বিভিন্ন মাধ্যমে বার বার যোগাযোগ হয়েছে। যারা ভাড়া বাড়াচ্ছিল তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এরপর একটি যৌক্তিক পর্যায়ে ভাড়া রাখা হয়েছে।

ট্যাক্স দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে তো মানুষ ভালোভাবে খাচ্ছে, চলছে। কিন্তু প্রকৃত ট্যাক্স দিচ্ছে কয়জন।

এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, ভ্যাকসিন অনেক দাম দিয়ে কিনতে হয়। অনেক দাম দিয়ে ২৫ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কিনেছি। শুধু করোনার টেস্ট বাবদ খরচ হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ৮-৯ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৪ কোটি মানুষকে ডবল ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বাকিদের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। পেশাজীবী, শ্রমিক, শিক্ষক শিক্ষার্থী সবাইকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। কেউ ভ্যাকসিন থেকে বাদ যাবে না।

অপর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ফুফাতো ভাই ফিরোজ কবীরসহ ১৯৭৭ সালে সেনা সদস্যসহ অনেক সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান নিজেই জড়িত। আমরা হত্যাকাণ্ডের বিচারের উদ্যোগ নেব।

তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের ফলে পরিবারগুলো অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছে। আমার সঙ্গে অনেক পরিবারের কথা হয়েছে। আমি তাদের তথ্য জানি। এত দিন পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার চাওয়া হয়েছে। আমি হত্যাকাণ্ডের বিচারের উদ্যোগ নেব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৭ সালে যাদের জেলখানায় ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তাদের তালিকা হয়ত পাওয়া যাবে। কিন্তু সেনা আইনে যেসব সেনা সদস্যদের শাস্তি কিংবা ফাঁসি দেওয়া হয়েছে তার তালিকা পাওয়া যাবে কি না, তা জানি না। তবে আমরা এ ঘটনার বিচার করব।

সংবাদ সম্মলনের সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, এবারের কপ সম্মেলনে উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি হচ্ছে বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা প্যারিস চুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়সহ জলবায়ু অর্থায়ন-প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে একমত হন। বাংলাদেশসহ ১৪১টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধরনের অরণ্য নিধন রোধে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়।

বাংলাদেশের নেতৃত্বে ৪৮টি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ‘ঢাকা-গ্লাসগো ডিক্লারেশন’ গ্রহণকে জলবায়ু কূটনীতিতে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি সম্প্রতি তাদের একটি প্রতিবেদনে আমাকে কপ-২৬ সম্মেলনের ৫ জন শীর্ষ ডিল মেকারের একজন হিসেবে চিহ্নিত করে। একে আমি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন, আমাদের নৈতিক পররাষ্ট্রনীতির প্রতি বিশ্ববাসীর আস্থা হিসেবে বিবেচনা করে সম্মানিত বোধ করি।

প্যারিস সফরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে একান্ত বৈঠকের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ নানা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ শুরুর জন্য আমি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁকে প্রস্তাব করি। তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন। প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ প্রতিরক্ষা, অর্থনীতিসহ অন্যান্য খাতে দুই দেশের কার্যক্রম বাড়ানোর ব্যাপারে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।

প্যারিস সফরকালে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে একটি সম্মতিপত্র সই হয়েছে বলেও জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয়ে সম্মত হয়েছি।

কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনায় ২০ কোটি ইউরো সহায়তা, টেকসই পানি সঞ্চালন ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত প্রকল্পে ১৩ কোটি ইউরো সহায়তা এবং বিমান চলাচল খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ প্রদানসংক্রান্ত আলাদা তিনটি চুক্তি সইয়ের কথাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোভ্যাক্সের আওতায় ফ্রান্স বাংলাদেশকে ২০ লাখ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ফ্রান্সের ব্যবসায়ীদের সংগঠন মুভমেন্ট অব দ্য এন্টারপ্রাইজ অব ফ্রান্সের সঙ্গে আমাদের ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ৩১ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত গ্লাসগো, লন্ডন ও প্যারিসে সরকারি সফরকালে কপ-২৬ এ বিশ্ব নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন ২০২১, ইউনেস্কো সদর দপ্তরে সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, ইউনেস্কোর ৪১তম সাধারণ সম্মেলন, প্যারিস শান্তি ফোরাম, ইউনেস্কোর ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এক গণমাধ্যমকর্মীর প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমার কাছে চান কীভাবে বলেন তো? খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বাসায় থাকতে দিয়েছি, চিকিৎসা করতে দিয়েছি, এটাই কি বেশি না?’ তিনি বলেন, ‘আপনাকে কেউ যদি হত্যা করার চেষ্টা করত, আপনি তাকে গলায় ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসতেন? বলেন আমাকে।’

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads