• শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আওয়ামী লীগ আমলে : বিবিসিকে প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

সরকার

অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আওয়ামী লীগ আমলে : বিবিসিকে প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

দেশের ইতিহাসে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু আওয়ামী লীগ শাসন আমলেই হয়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধান আরো বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি।

প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তার সরকারের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে বিবিসির সাংবাদিক লরা কুনেসবার্গের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, অবশ্যই, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন প্রতিষ্ঠার জন্যই আমার সংগ্রাম। শুধু আওয়ামী লীগের আমলেই আপনারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে পাবেন।

গত রোববার প্রচারিত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুমের বিষয়ে অনেকেই অভিযোগ করতে পারেন, কিন্তু তা কতটা সত্য তা বিচার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রকাশ্যে বা গোপনে সামরিক শাসক ছিলেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে আমার বাবাকে (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) হত্যা করা হয়। তিনি তখন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং আপনি জানেন যে আমার পুরো পরিবার, আমার মা, আমার তিন ভাই, দুই ভ্রাতৃবধূ, পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ মোট ১৮ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তারপর থেকে ২১ বছর ধরে দেশটি বারবার অভ্যুত্থান প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি যোগ করেন, যে প্রায় ২০ বার অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছে এবং প্রতিবার রক্তপাত হয়েছে। শেখ হসিনা বলেন, সেখানে গণতন্ত্র ছিল না, গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না, তাই আমি আমার দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছি।

নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, অনেকেই অভিযোগ করতে পারে, কিন্তু এটা কতদূর সত্য, বিচার করতে হবে। এটা জানার আগে কেউ কোনো মন্তব্য করবেন না। প্রধানমন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, সামরিক শাসকরা দীর্ঘদিন ধরে দেশ শাসন করেছে এবং তারা দল গঠন করেছে এবং ভোটের জন্য তারা কখনো জনগণের কাছে যায়নি। তারা (সামরিক স্বৈরশাসক) সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করেছে, প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য সব কিছু ব্যবহার করেছে, যোগ করেন তিনি।

নিখোঁজের অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিবিসি সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন, আপনার দেশে এবং অন্যান্য দেশে কত লোক নিখোঁজ হয়েছে? আপনি কী বিচার করতে পারেন। এই সমস্ত বিষয় আমি মনে করি, প্রথমে আপনাকে (বিবেচনায়) নিতে হবে। সমস্ত তথ্য আপনার সংগ্রহ করা উচিত, তারপর আপনি কাউকে অভিযুক্ত করতে পারেন।

আপনার এবং বাংলাদেশের কাছে কমনওয়েলথের গুরুত্ব কতটা, এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই (এর মূল্য অনেক বেশি), যখন আমরা একসঙ্গে থাকি, সেখানে অনেক সুযোগ থাকে, তাই এটা ভালো এবং গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের একটা জায়গা আছে, যেখানে আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করতে পারি। কিছু ধারণা গ্রহণ করতে পারি বা দেশ বা জনগণের জন্য কিছু ভালো কাজ করতে পারি। তাই আমার মনে হয় এটা ভালো।

তিনি বলেন, বর্তমানে, আপনি দেখতে পাচ্ছেন, যে একটি দেশ একা চলতে পারে না। কারণ এটি একটি আত্মনির্ভর বিশ্ব, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং বলেন, সুতরাং, এই পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোর জন্য কমনওয়েলথের অর্থ অনেক বড়। প্রতিটি দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে-কারণ অনেক দেশ আছে, উন্নত দেশ, উন্নয়নশীল দেশ এবং দরিদ্র দেশ, ছোট দ্বীপ দেশ।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতি নিয়ে তিনি বলেন, এটি ১৯৬১ সালে যখন তিনি (রানি) তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সফর করেছিলেন এবং তিনি তাকে (ব্যক্তিগতভাবে প্রথমবার) দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, তখন আমরা খুব ছোট এবং আমার বাবার (বঙ্গবন্ধুর) অফিসে গিয়েছিলাম, কারণ আমরা জানতাম যে তিনি সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাই আমরা সবাই, পুরো পরিবার, দুরবিন নিয়ে জানালায় অপেক্ষা করেছি। ফলে আমরা তাকে আরো স্পষ্টভাবে দেখতে পেয়েছি।

তিনি যোগ করেন যে যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তিনি প্রতিটি কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে রানির সঙ্গে দেখা করেছেন। আমি প্রায় সাতটি কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। প্রতিবারই আমি তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। প্রয়াত রানির আমন্ত্রণে তিনি অলিম্পিক গেমসে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তারা দীর্ঘদিন একে অপরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছেন।

প্রয়াত রানির সঙ্গে সুন্দর স্মৃতির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার (রানি) চমৎকার স্মৃতিশক্তি ছিল এবং তিনি আমাকে না দেখলে হাসিনা কোথায় ছিলেন বলতেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামান্য যুক্তরাজ্যের একজন রানি ছিলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে তিনি কমনওয়েলথেরও একজন নেতা। কমনওয়েলথ দেশগুলোর একজন সদস্য হিসেবে, তিনি আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান ছিলেন।

প্রয়াত রানি প্রায় ৭০ বছর রাজকার্য পরিচালনা করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি যে এই বিশ্বের জন্য তিনি কেবল একজন রানিই ছিলেন না, তিনি একজন অত্যন্ত স্নেহময়ী এবং মাতৃত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বও ছিলেন। যখনই আমি তার সঙ্গে দেখা করেছি, আমি এটি অনুভব করেছি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads