ডিএসসিসির সকল ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
ডেঙ্গু রোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২৯
ছবি: সংগৃহীত
প্রতি শনিবার 'ক্লিনিং ডে' উপলক্ষে আয়োজিত ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, সপ্তাহে অন্তত এক দিন নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হলে ঢাকা শহর অপরিচ্ছন্ন থাকবে না।
শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে আয়োজিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শিক্ষক ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন ডিএসসিসির সকল ওয়ার্ডে একযোগে 'ক্লিনিং ডে' পালন করা হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সরকারের নির্দেশনায় নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি শনিবার বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। ঘোষিত তিন মাসের কর্মসূচি নিরলস ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নগরের রাস্তাঘাট ও বাড়ির আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার কাজ করবেন, তবে এ কর্মসূচি সফল করতে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। এ জন্য স্কুল, কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে এবং বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। তিন দিনের বেশি কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। কোথাও ব্যক্তিগতভাবে জমে থাকা পানি অপসারণ সম্ভব না হলে সিটি কর্পোরেশনকে জানাতে হবে; কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তা অপসারণ করা হবে।
পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, গণমাধ্যমে এ কর্মসূচি প্রচারিত হওয়ায় জনগণের মধ্যে ইতোমধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। জনগণের পূর্ণাঙ্গ সচেতনতা অর্জিত হলে এ কর্মসূচি সম্পূর্ণ সফল হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
স্বামীবাগে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান: স্বামীবাগ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রম্মচারী আশ্রম ও মন্দিরে বস্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসি'র প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি বা ব্যবসা নয়, বরং মানুষ হিসেবে সবাইকে সমানভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমান।
তিনি বলেন, সব ধর্মেই মানবিকতা, নৈতিকতা ও ভালো কাজের শিক্ষা রয়েছে। শুধু ধর্মীয় বাণী উচ্চারণ করলেই হবে না, সেগুলো ব্যক্তিজীবনে চর্চা করতে হবে। সমাজ থেকে অনৈতিকতা, মাদক ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার বিকল্প নেই। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

