Logo

সারাদেশ

বাড়ির চুলায় কলার চিপস, লাকীর স্বপ্ন এখন বিদেশেও

Icon

ছোটন বিশ্বাস, খাগড়াছড়ি

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৩

বাড়ির চুলায় কলার চিপস, লাকীর স্বপ্ন এখন বিদেশেও

ছবি : বাংলাদেশের খবর

খাগড়াছড়ির কলেজপাড়ার একটি বাড়ির কোণে চুলায় ভাজা হচ্ছে কড়কড়ে কলার চিপস। ঘরে বসে চাকরির ফাঁকে নিজের ঘরকেই কারখানা বানিয়েছেন লাকী চাকমা। তার ঘরোয়া উপায়ে তৈরি কলার চিপস এখন খাগড়াছড়ির গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছেছে, রপ্তানিও হচ্ছে বিদেশে।

লাকী চাকমার এই যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালের মে মাসে। কৃষি বিভাগের একটি একদিনের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার পর বাড়িতে ফিরে পরীক্ষামূলকভাবে কলার চিপস তৈরি করেন তিনি। প্রথমে প্রতিবেশী ও পরিচিতদের মাঝে বিলি করা চিপসে সবাই মুগ্ধ হন। স্বাদ ও মানের এই ইতিবাচক সাড়া তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়।

খাগড়াছড়ি শহরের মহাজনপাড়ায় একটি শেয়ার্ড দোকানের ছোট কর্নার থেকে শুরু হয়েছিল লাকীর পণ্য বিক্রি। ধীরে ধীরে সেখানে ক্রেতার চাহিদা বাড়ে। এখন সেটিই তাঁর উদ্যোগের পরিচিত ঠিকানা।

সম্প্রতি লাকীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের এক কোণে দুই নারী কর্মী বোঁটা পরিষ্কার করছেন, লাকী নিজে চুলায় চিপস ভাজছেন। সপ্তাহে দুই দিন চিপস তৈরি করেন তিনি। এই উদ্যোগ থেকে মাসে গড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়।

দোকানের পাশাপাশি বিভিন্ন মেলায় নিয়মিত স্টল দেন লাকী। সম্প্রতি একটি এনজিও তার কাছ থেকে তিনশ প্যাকেট চিপসের অর্ডার দিয়েছে। তার তৈরি চিপসে ব্যবহার করা হয় পাকা কাঁঠালি কলা, তেল, হলুদ, ভিনেগার ও একটি নিজস্ব ‘গোপন মশলা’।

লাকী চাকমা বলেন, ‘ঘরে বসে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বানানোর চেষ্টা করি। স্বাদ যেন একরকম থাকে।’

নিয়মিত ক্রেতা শিক্ষিকা মিতা চাকমা বলেন, ‘লাকীর চিপস স্বাস্থ্যসম্মত, পরিষ্কার ও সুস্বাদু। বাচ্চাদেরও খাওয়াই।’

পেশায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী লাকী সময় বের করে চিপস তৈরির পাশাপাশি আচার, বালা চাও, নারকেল তেল ও কাজুবাদাম বিক্রি করেন। তার লক্ষ্য, স্থানীয় কাঁচামাল দিয়ে মানসম্মত পণ্য তৈরি। তবে লোকবল, সময় ও জায়গার অভাবে উৎপাদন বাড়ানো এখনো চ্যালেঞ্জ।

লাকীর স্বপ্ন, একটি পূর্ণাঙ্গ কারখানা তৈরি করে আরও নারীকে কাজের সুযোগ দিতে চান। তার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে অনেক তরুণ-তরুণীকে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রেরণা দিচ্ছে।

খাগড়াছড়ি মহিলা বিষয়ক উপ-পরিচালক সুস্মিতা খীসা বলেন, ‘লাকীর চিপস আমি খেয়েছি, সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর। সরেজমিনে দেখতে ইচ্ছে আছে তিনি কীভাবে তৈরি করেন।’

সুশীল সমাজের মতামত, চাকরির পেছনে না ছুটে এমন উদ্যোগ পার্বত্য অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারে।

এআরএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর