৬.৯ ডিগ্রিতে নেমেছে পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা, বিপর্যস্ত জনজীবন
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০১
ছবি : বাংলাদেশের খবর
পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে হিমালয় পাদদেশের এই জেলার স্বাভাবিক জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। টানা শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিনমজুররা।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, ভোর ৬টায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার ও মঙ্গলবারও তেঁতুলিয়ায় ৭ থেকে ৮ ডিগ্রির ঘরে তাপমাত্রা ওঠানামা করে।
টানা শীত ও কুয়াশার প্রভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুর, চা-শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কনকনে ঠান্ডার কারণে অনেকেই ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না। জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে যারা বের হচ্ছেন, তাদের কষ্টও চোখে পড়ার মতো। অনেককে খড়কুটো জ্বালিয়ে বা আগুন পোহাতে দেখা গেছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, কয়েক দিন ধরেই উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। আগামী কয়েক দিন এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলা নিশ্চিতভাবে শৈত্যপ্রবাহের কবলে রয়েছে। পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিসহ আরও কয়েকটি জেলায় শীতের প্রকোপ রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন চলতে পারে। মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এর বিস্তৃতি কম-বেশি হতে পারে। তবে এটি খুব দ্রুত নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে না।
শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু, ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা নামলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। তেঁতুলিয়ার বর্তমান তাপমাত্রা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে পড়ছে।
পঞ্চগড়ে শীতের কারণে কৃষিকাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চাষিরা জানান, তীব্র ঠান্ডায় বীজতলায় চারা স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে না। শীতবস্ত্রের অভাবে নারীরা গৃহস্থালি কাজ করতেও কষ্ট পাচ্ছেন।
এদিকে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। প্রতিদিন সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ হাসপাতালে আসছেন। চিকিৎসকদের মতে, রোগীদের বড় একটি অংশ শিশু ও বয়োবৃদ্ধ। তাঁরা সবাইকে শীত থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে পঞ্চগড়সহ উত্তরের জনপদে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএইচএস

